অর্থনীতিআন্তর্জাতিক

আমরা আমেরিকায় নিজস্ব ঠিকানা গড়তে পেরেছি

সাইয়্যেদ রহমান হোম লোন অফিসার অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর

বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে যারা বর্তমান বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে ব্যাপক সুনাম ও প্রতিষ্ঠালাভে সক্ষম হয়েছেন তাদেরই একজন সাইয়্যেদ রহমান। বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার এই কৃতী সন্তান এখন আমেরিকার নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা। তিনি বানারীপাড়া ইনস্টিটিউশন ও সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। ভাগ্য পরিবর্তন ও উচ্চ শিক্ষা লাভের আশায় তিনি স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় পাড়ি জমান। প্রথম পর্যায়ে কিছুটা অসুবিধায় পড়লেও মেধাবী ও পরিশ্রমী সাইয়্যেদ রহমান দ্রুতই উন্নয়নের সিঁড়ি খুঁজে পান।
মূলত সাইয়্যেদ রহমান একজন আত্মপ্রত্যয়ী ও কঠোর পরিশ্রমী মানুষ। তিনি বর্তমানে আমেরিকার ফাইন্যান্সিয়াল অ্যান্ড গেøাবাল রেমিটেন্স বিজনেস ডেভেলপমেন্ট স্পেশালাইজড পার্সন। বিশেষ করে আমেরিকায় অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের কাছে তিনি এ কারণে যথেষ্ট পরিচিত। এছাড়া তিনি একজন হোম লোন অফিসার এবং রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী হিসেবেও প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন। গত ২০ বছর ধরে তিনি তার মেধা, শ্রম ও প্রচেষ্টা দ্বারা এখানকার আবাসন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখে চলেছেন।

সাইয়্যেদ রহমান স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন, তবে তিনি সেই স্বপ্ন দেখেন যা বাস্তবায়নে তাকে তাড়িত করে। স্বপ্নদর্শী এই তরুণ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ট্রান্সফার কোম্পানি জরধ গড়হবু Ria Money Transfer and Trans Fast Remittance এর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার। এর মাধ্যমে গত ১৪ বছর ধরে তিনি প্রায় ৪০০ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে ঋণ সহায়তা প্রদান করেছেন- যারা আজ ব্যবসা খাতে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভে সক্ষম হয়েছে। অর্থাৎ সাইয়্যেদ রহমান তাদের ঋণ সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে প্রত্যেককে সামাজিক এবং ব্যবসায়িকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তারা সকলেই এখন অর্থনৈতিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত।
মানব-কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব সাইয়্যেদ রহমান আমেরিকার আবাসন খাতের একজন বিশিষ্ট বিনিয়োগকারী। তিনি শুধু উদ্যোক্তাই নন, রিয়েল এস্টেট খাতের একজন হোম মর্টগেজ কনসাল্ট্যান্ট। তার নেতৃত্বে একটি বৃহৎ টিম রয়েছে যারা নিউ ইয়র্কের Citi Bank N.A. এর হোম লোনের কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদান যারা বিশেষত মর্টগেজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এর আগে তিনি নিউ ইয়র্কের Wells Fargo Home Mortgage এর হোম মর্টগেজ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বহু মানুষকে নিউ ইয়র্কে তাদের স্বপ্নের নিজস্ব ঠিকানা গড়তে সহায়তা করেছেন। এখানে একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করলেও সাউথ এশিয়ান কমিউনিটির মানুষকে তিনি সহায়তা করেছেন উদ্যোক্তার মতোই। তিনি তাদেরকে সাহস জুগিয়েছেন এবং নির্ভুল হোম মর্টগেজের মাধ্যমে সহায়তা করেছেন। এর কারণে সাইয়্যেদ রহমান নিউ ইয়র্কের বাঙালি কমিউনিটিসহ দক্ষিণ এশিয়ার নিউ ইয়র্ক প্রবাসী মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
এ বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ বিশেষ করে বাঙালিরা যখন নিজস্ব একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিক হতে সক্ষম হয়, তখন মনে হয় এই আমেরিকা আমাদের। আমরা এর গর্বিত নাগরিক। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিশ্ররেম মধ্য দিয়ে আমরাও আমেরিকায় নিজস্ব ঠিকানা গড়তে পেরেছি।

বাংলাদেশি আমেরিকান সাইয়্যেদ রহমান নিজে যেমন উদ্যোগী, তেমনি অন্য যারা উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী তাদের সার্বিক সহায়তা দিয়ে থাকেন। তিনি একটি কথা বরাবরই বলেন, দেশ ও জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে সত্য; কিন্তু বাঙালিরা কঠোর পরিশ্রমী। তাদের যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায় তবে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব।
উদ্যমী ও স্বপ্নদর্শী সাইয়্যেদ রহমান নিজ এলাকার ভাগ্যবিপর্যস্ত দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের কল্যাণে বেশ কিছু সামাজিক উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশেষ করে অসচ্ছল অসহায় মেধাবী ছাত্রদের শিক্ষাক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করেন। তার প্রত্যাশা সুন্দর স্বপ্নীল এক বাংলাদেশ- যেদেশে আইনের শাসন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিন্ম-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে এবং অচিরেই এই দেশ উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে।
আত্মপ্রত্যয়ী সাইয়্যেদ রহমান মানুষ হিসেবে অমায়িক, বন্ধুবৎসল ও পরোপকারী। তার স্ত্রী মিসেস আফরোজ হক সবসময়ই স্বামীর কল্যাণমুখী কাজের সহযোগী।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button