প্রতিবেদন

৭১ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের দিকে যাচ্ছে

অর্থকণ্ঠ ডেস্ক

করোনা মহামারির সময়ে ব্যবসায় আস্থা
সংক্রান্ত এক জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে,
৭১ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন অর্থনীতি
পুনরুদ্ধারের দিকে যাচ্ছে। যার মধ্যে
১৫ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করছেন
এই পুনরুদ্ধার হচ্ছে দুর্বল মানের,
৪০ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করছেন
অর্থনীতির পুনরুদ্ধার হচ্ছে মাঝারি
মানের, ১৬ শতাংশ মনে করছেন এই
পুনরুদ্ধার হচ্ছে শক্তিশালী মানের

কোভিড-১৯ মহামারির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের আস্থা ও প্রত্যাশার ওপরে সানেম ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত তৃতীয় পর্যায়ের জরিপের ফলাফল সম্প্রতি ওয়েবিনারে উপস্থাপন করা হয়েছে। ওয়েবিনারে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। আলোচক হিসেবে ওয়েবিনারে উপস্থিত ছিলেন এ কে খান টেলিকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম খান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট আরশাদ জামাল দিপু।
জরিপের ফলাফল উপস্থাপনে ড. সেলিম রায়হান জানান, দেশের আটটি বিভাগের ৩৬টি জেলার মোট ৫০২টি ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ওপর এই জরিপ করা হয়েছে। চলতি বছর জানুয়ারির ৫ থেকে ২১ তারিখের মধ্যে ফোনালাপের মাধ্যমে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের তাদের প্রতিষ্ঠানের মুনাফা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, আয়, ব্যবসার খরচ এবং বিক্রি বা রপ্তানি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জরিপের ফল অনুযায়ী গত বছর এপ্রিল-জুনের তুলনায় জুলাই-সেপ্টেম্বরে যে গতিতে ব্যবসার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল জুলাই-সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ব্যবসার পরিস্থিতি সে গতিতে উন্নতি হয়নি। ২০২০ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরের তুলনায় ২০২০ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরে মুনাফা, কর্মসংস্থান এবং মজুরি সূচকের মান কিছু উন্নতি হয়েছে, তবে ব্যবসার খরচ সূচকের মানের অবনতি ঘটেছে। বিভিন্ন খাতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতির মধ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ফার্মাসিউটিক্যাল, আর্থিক খাত, টেক্সটাইলে দ্রæতগতির পুনরুদ্ধার দেখা যাচ্ছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ২২ শতাংশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন তারা প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা পেয়েছেন। ৬৯ শতাংশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন তারা প্রণোদনা প্যাকেজ পাননি এবং ৯ শতাংশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন তারা প্যাকেজ সম্পর্কে জানেন না। জরিপকৃত বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রণোদনা প্যাকেজ পেয়েছে ৪৬ শতাংশ, মাঝারি ২৮ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ ক্ষুদ্র ও ছোট প্রতিষ্ঠান প্রণোদনা পেয়েছে। জরিপে পাওয়া তথ্যাবলি থেকে ১০টি সূচকের ওপর ভিত্তি করে ‘এনাবলিং বিজনেস ইনভার্নমেন্ট ইনডেক্স (ইবিআই)’ তৈরি করা হয়েছে। এতে রেস্টুরেন্ট, রিয়েল এস্টেট, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসার ক্ষেত্রে ইবিআই সূচকের মান সবচেয়ে কম ছিল।
অন্যদিকে আর্থিক খাত, ফার্মাসিউটিক্যালস, তৈরি পোশাক খাত এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে তুলনামূলক ইবিআই সূচকের মান বেশি পাওয়া গিয়েছে। ড. সেলিম রায়হান চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, পাইকারি ব্যবসা, পরিবহন, তৈরি পোশাক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রিয়েল এস্টেট খাতে অগ্রাধিকার প্রদানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। এই খাতগুলোতে দীর্ঘ সময়ের জন্য সুদ হার কমানো, এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড গঠনের কথা তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে এসএমই খাতে ঋণ ও প্রণোদনা প্রাপ্তি বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
অর্থকণ্ঠ ডেস্ক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button