মোহাম্মদ হাসান
ডিরেক্টর অ্যান্ড প্রেসিডেন্ট, কানাডা ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইনক.
জেনারেল সেক্রেটারি, বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব কানাডা
বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের উন্নত রাষ্ট্র কানাডায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক মোহাম্মদ হাসান তার মেধা, শ্রম ও অধ্যবসায়ের সমন্বয়ে সে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের এক উজ্জ্বল তারকা ব্যক্তিত্ব। প্রবাসে বাংলাদেশ কমিউনিটির সুপরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ মোহাম্মদ হাসান কানাডা ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইনক. এর ডিরেক্টর অ্যান্ড প্রেসিডেন্ট। ২০০৪ সালে গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠান এখন সেখানকার ব্যবসা-বাণিজ্য অঙ্গনে ব্যাপকভাবে সফল। তিনি ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন Canada National Construction. তিনি এর ডিরেক্টর অ্যান্ড প্রেসিডেন্ট। কানাডার কনস্ট্রাকশন খাতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

বহুমাত্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত মোহাম্মদ হাসান একটি ডিজিটাল বাংলা নিউজের কর্ণধার। Digital Bangla News এর এডিটিং প্যানেলের চেয়ারম্যান তিনি। তিনি Arista Group-এরও চেয়ারম্যান।
আলাদীনের চেরাগ দিয়ে নয়- সততা, নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং পরিশ্রমের মাধ্যমেই একজন মানুষ প্রতিষ্ঠা লাভে সক্ষম হতে পারে- এই বিশ্বাস নিয়ে মোহাম্মদ হাসান পথ চলেছেন। তিনি মনে করতেন, লক্ষ্যে পৌঁছুনোর সুতীব্র ইচ্ছা নিয়ে শ্রম দিলে সাফল্য আসবেই। এ সুবাদেই তিনি কানাডার ব্যবসায়িক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোকিত ব্যক্তিত্ব। স্বাধীনতার পক্ষশক্তির এই মানুষটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কানাডার যুগ্ম সম্পাদক।
ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ হাসানের জন্ম ৫ মে ১৯৭৫ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির এক সম্ভ্রান্ত শিক্ষিত পরিবারে। তার পিতা মরহুম দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন থ্রি জোন কমান্ডার। মোহাম্মদ হাসান ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। কানাডায় এসে উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ শুরুর আগে তিনি ১৯৮৯ সালে এরশাদ সরকার আমলে নির্যাতনের ভয়ে দুবাই চলে যান এবং ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের Nestle’র মার্কেটিং ম্যানেজার পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালে তিনি কানাডা আসেন এবং ওই বছরের জুন মাসে ADT Security Services, Ontario, Canada-র Regional Manager পদে ২০০৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী পর্যায়ে ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন এবং সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে কানাডার শীর্ষ কাতারের ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা অর্জনে সক্ষম হন। বর্তমানে তিনি Bangladesh Business Chamber, Canada-র Director (Admin), Bangladesh Society Canada-র প্রেসিডেন্ট এবং কানাডার Greater Foundation Ctg-র কনভেনর।
ছাত্রজীবনেও মোহাম্মদ হাসান মেধাবী, উদ্যমী কর্মতৎপর এবং ভালো সংগঠক ছিলেন। তিনি ১৯৮০ সালে কুমিল্লা বোর্ড থেকে এসএসসি, ১৯৮২ সালে একই বোর্ড থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে ১৯৮৪ সালে কমার্সে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৮৬ সালে একই কলেজ থেকে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে কমার্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
আত্মপ্রত্যয়ী মোহাম্মদ হাসান প্রফেশনের স্বার্থে মার্কেটিং এবং সেলস বিষয়ক ট্রেনিং গ্রহণ করেছেন। তিনি মাইক্রোসফট বিষয়ে কম্পিউটার নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন। তিনি ইন্টারনেট এবং ইমেইল কার্যক্রমের দক্ষতার জন্যে দ্রুত ব্যবসায়িক সাফল্য লাভে সক্ষম হন। তিনি কানাডা হাই কমিশনের চিফ প্যাট্রন।
কথা প্রসঙ্গে কানাডা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান দৃঢ়তার সাথে বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের সুবাদেই দেশ আজ উন্নয়নের সিঁড়িতে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কাছে দেশ নিরাপদ।
দূরদর্শী ও কর্মনিষ্ঠ মোহাম্মদ হাসান বলেন, আমরা যারা প্রবাসে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি করি দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা অকৃত্রিম। আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করি শুধু নিজের জন্যে নয়, দেশের জন্যে। আমরা ভাবি আমাদের দেশ পিছিয়ে আছে, অনেক লোক কষ্টে আছে, আত্মীয়-স্বজনদেরও কষ্ট কম নয়; তাই প্রবাসীরা আয়ের বিশাল অংশ দেশে রেমিট্যান্স আকারে প্রেরণ করেন- যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এই রেমিট্যান্স পর্যালোচনা করে প্রবাসীদের পুরস্কৃত করছে- সিআইপি সম্মাননা দিচ্ছে; এতে ইতিবাচক ফল লাভ হচ্ছে- রেমিট্যান্সের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধ প্রশ্নে দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ হাসান বলেন, দুর্নীতিবাজদের নির্মূল করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার পদক্ষেপ নিলেও কতিপয় অসৎ রাজনীতিবিদ এবং দুর্নীতিবাজ আমলার জন্যে তার বাস্তবায়ন পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না। তবে আশা করা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এর বাস্তবায়ন হবেই। কারণ, দুর্নীতির কারণে সরকারের অনেক সাফল্যই ঢাকা পড়ে যায়।
শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ হাসানের স্ত্রী একজন চীনা নাগরিক। মোহাম্মদ হাসান ও স্ত্রী লেয়াং হোসেন এর একমাত্র কন্যা জেরা হোসেন।
মোহাম্মদ হাসান ফেডারেশন অব বাংলাদেশি এসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা ফোবানার সাথেও সম্পৃক্ত। তিনি বাংলাদেশ কানাডা সোসাইটির প্রেসিডেন্ট। উদার মনের মোহাম্মদ হাসান দলীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হলেও বাংলাদেশের স্বার্থে সকলকে নিয়েই কাজ করে থাকেন। তিনি মনে করেন, দেশপ্রেমিক মানুষদের ঐক্যেই বাংলাদেশ আরও উন্নতি করতে সক্ষম হবে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


