প্রতিবেদন

বিজ্ঞান চর্চার ধারা বাংলাদেশে আরো বেশি অব্যাহত রাখতে হবে

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

ড. পূরবী বসু

বিজ্ঞানী ও কথাসাহিত্যিক

এমন অনেকেই আছেন যাদের শেকড় বাংলাদেশে হলেও প্রবাস জীবনে ভুলে যান দেশের কথা, স্বজনদের কথা- সেক্ষেত্রে আলোকিত গল্পকার ও বিজ্ঞানী ড. পূরবী বসু ব্যতিক্রম। আমেরিকায় স্বচ্ছন্দ জীবন যাপনে থেকেও তার সমস্ত শরীরজুড়ে বাংলাদেশের সোঁদা মাটির আর পলিযুক্ত শ্যাওলার গন্ধ লক্ষণীয়। উচ্চ শিক্ষিত এই মানুষটি গর্বের সাথে বাঙালিয়ানা বজায় রেখে নিজের ভাবমূর্তি এতোটাই প্রকৃষ্ট করেছেন যে- তিনি চিরন্তন বাঙালি। পূরবী বসু একজন খ্যাতিমান কথা সাহিত্যিক- অথচ নিজেও জানেন না- তিনি বাঙালি কমিউনিটিতে গল্প হয়ে বসে আছেন। তার বাঙালি সত্ত্বার প্রকাশ ভঙ্গিতে তিনি রীতিমতো নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই আইডল হয়ে গেছেন।

ড. পূরবী বসু বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার এক অভিজাত শিক্ষিত ধনাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবারের সদস্য। তার পিতা ছিলেন শহরের নামকরা চিকিৎসক। পড়াশোনায় ব্যাপক মনোযোগী পূরবী বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসি বিভাগে অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর উচ্চ শিক্ষার্থে চলে আসেন আমেরিকা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেডিক্যাল কলেজ অব পেনসিলভেনিয়া থেকে প্রাণ রসায়নে এমএস ডিগ্রি এবং ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি থেকে পুষ্টিবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। একজন বিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিনিয়তই তিনি বিজ্ঞানচর্চার সাথে সম্পৃক্ত থেকে বিজ্ঞানের এই জটিল প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসছেন সমৃদ্ধি। একই সাথে তার এই মেধাবী পথচলা বাংলাভাষাভাষী এবং বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তিকেও সমুজ্জ্বল করছে।

আমেরিকার নিউ ইয়র্কে বিশ্বখ্যাত মেমোরিয়াল স্লোন ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে গবেষণা ও কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনায় কেটেছে বেশ কিছুকাল। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অজস্র গবেষণা ও প্রবন্ধের মাধ্যমে বিজ্ঞানের রহস্যময় অনেক বিষয়ই তুলে ধরেছেন- নতুন কিছু আবিষ্কারের পথও তৈরি করেছেন ড. পূরবী বসু। এসব বিশ্বের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য জার্নালে প্রকাশও হয়েছে।

এই বিজ্ঞানী মাতৃভূমিকে এতোটাই ভালোবাসেন যে- নাড়ির টানে বারবার ফিরে আসেন বাংলাদেশে। একবার  দেশে এসে একটি বিখ্যাত ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে যোগদান করে দেশীয় ওষুধ শিল্পের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান BRAC-এর স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এতো কিছুর মধ্যেও তার বিজ্ঞান চর্চা থেমে থাকেনি। অব্যাহত রেখেছেন এই ধারা। কারণ তিনি মনে করেন, এদেশে অনেক সম্ভাবনাময় বৈজ্ঞানিকের জন্ম হয়েছিল, যারা বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন। কিন্তু সে সময় প্রযুক্তিগত ব্যবহার এখনকার মতো উন্নত না হওয়ায় তাদের সেই আবিষ্কারে অন্যেরা নাম কুড়িয়েছেন। তিনি মনে করেন, বিজ্ঞানচর্চার এই ধারাকে বাংলাদেশে আরো বেশি অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি একজন বিখ্যাত লেখক ব্যক্তিত্ব। তার ৫০টিরও অধিক গল্পগ্রন্থ ও অন্যান্য বিষয়ে বই প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৫ সালে তার গল্প সংগ্রহ প্রকাশিত হবার পর তা ব্যাপকভাবে পাঠকের দ্বারা সমাদৃত হয়। তিনি ২০০৫ সালে ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার’ পান। ২০১৩ সালে তিনি বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলা একাডেমী’ পদক অর্জন করেন।

ড. পূরবী বসু একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী হলেও বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে তিনি গল্পকার হিসেবেই বেশ আলোচিত, আলোকিত। তার স্বামী ড. জ্যোতিপ্রকাশ দত্তও একজন গবেষক এবং গল্পকার হিসেবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। ড. পূরবী বসু এবং ড. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত দু’জনেই বাংলা ভাষা সাহিত্যের অনন্য সম্পদ। বাংলাদেশের গর্ব।

ড. পূরবী বসুর ধ্যান-জ্ঞান সবই বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে। যখন বাংলাদেশ সম্পর্কে ভালো কোনো খবর দেখেন খুব আনন্দ উপভোগ করেন এবং উল্লসিত হন। এই বিজ্ঞানী ও কথা সাহিত্যিক নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কমিউনিটিকে নানাভাবে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশ কমিউনিটিতে একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস পালনসহ ১ বৈশাখ উদযাপনের ক্ষেত্রে তিনি আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। নতুন প্রজন্মের সন্তানদের কাছে তিনি উপস্থাপন করেন আমাদের ইতিহাসের মৌলিক বিষয়গুলো জাতি হিসেবে আমাদের কৃতিত্বময় দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশিরা যেখানেই যাচ্ছে, সেখানেই নিজস্ব কৃষ্টি ও কালচারকে আলোকিতভাবে উপস্থাপন করছে। তিনি নিজেও উদ্যোগী হয়ে আটলান্টাসহ নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন প্রান্তরে সাহিত্য অনুষ্ঠান করে থাকেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের সাহিত্য বিশ্বে মর্যাদাবান অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্য যথাযথভাবে অনুবাদ করা হলে আমাদের সাহিত্যকর্ম ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও সমুজ্জ্বল হবে। ড. পূরবী বসু বলেন, বিজ্ঞান চর্চার ধারা বাংলাদেশে আরো বেশি অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি মনে করেন, আমাদের দেশপ্রেমের প্রাবল্যই বাংলাদেশকে উন্নয়নের লক্ষ্যবিন্দুতে পৌঁছে দেবে। তিনি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি উদ্যোক্তা- ব্যবসায়ীদের দেশে বিনিয়োগের অনুরোধ জানান।

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button