অর্থনীতিআন্তর্জাতিক

পরিশ্রম করতে শিখেছি বলেই সফল হয়েছি

আবুল কালাম আজাদ সিআইপি

আবুল কালাম আজাদ সিআইপি

ম্যানেজিং ডিরেক্টর ,আল মারজান ইন্টারন্যাশনাল কোং লি. ওমান

বাংলাদেশে শুধু সোনাই ফলে না, সোনার মানুষও জন্মগ্রহণ করেন যারা নিজেদের শ্রম, মেধা ও প্রচেষ্টা দ্বারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠা লাভে সক্ষম হচ্ছেন। আবুল কালাম আজাদ তেমনই একজন- যিনি মধ্যপ্রাচ্যের ওমানে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। তিনি তেলসমৃদ্ধ দেশ ওমানের বিশিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান Al Marjan International Co. LLC এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সিআইপি সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। এসএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর কলেজে ভর্তি হলেও তার পড়াশোনা বিঘ্নিত হয় পরিবারের অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে। সেই বয়সেই তাকে জীবিকার সন্ধান করতে হয়েছে।


আবুল কালাম আজাদের জন্ম চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তার পিতা কাজী শেখ আহমেদ কন্ট্রাক্টরও প্রবাসে ছিলেন। তিনি ১৯৭৬-১৯৮৬ এই দশ বছর দুবাই ও সৌদি আরবে ছিলেন। সৎ ও পরিশ্রমী শেখ আহমেদ দেশে ফিরে এলাকায় ঠিকাদারি ব্যবসার সাথে জড়িত হন। কিন্তু খুব ভালো করতে পারেননি। পিতার আর্থিক অবস্থা কিছুটা নিন্মগামী হলে আবুল কালাম আজাদ তরুণ বয়সেই কখনো অল্প পুঁজির ব্যবসা কিংবা চাকরি করেন। তিনি ১৯৮৭-৮৮ সালে চাকরি এবং পরবর্তী ৪ বছর দেশে ফার্নিচারের ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হন। এক পর্যায়ে ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে তিনি চাকরি নিয়ে ওমান প্রবাসী হন। ভাগ্যের চাকা বদলের শুরুতে তিনি ওমানের রাজধানী মাস্কাটে একটি ফার্নিচারের দোকানে চাকরি নেন। দু’বছর চাকরির অভিজ্ঞতা এবং সঞ্চিত কিছু পুঁজি হাতে ব্যবসায়ী মনের আজাদ ঝুঁকি নিয়েই শুরু করেন ব্যবসা। এটি ছিল ১৯৯৪ সাল। তিনি ব্যবসা করার সাহস লাভ করেন নিজের অভিজ্ঞতা থেকে। কারণ, দেশে যেমন নিজের ফার্নিচারের দোকান ছিল ওমানেও তিনি ফার্নিচারের দোকানে চাকরি করেছেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন দুবাই থেকে ফার্নিচার এনে শো-রুমে রাখা হয়; গ্রাহকরা তা কিনে নেয়। আর এখানকার ফার্নিচার ওয়ান টাইম অর্থাৎ এক বছর ব্যবহার করে তা ফেলে দেওয়া হয়। এসব দেখেই তিনি একটি হার্ডওয়্যার ও ফার্নিচারের দোকান দেন। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয় আবুল কালাম আজাদের। তিনি পরিশ্রমী, সৎ এবং হাসিখুশি। অল্পদিনের মধ্যেই তার প্রতিষ্ঠান Al Marjan International Co. LLC-এর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায় বেশ লাভ হতে থাকে।
তার প্রতিষ্ঠানে হার্ডওয়্যার, ভবন নির্মাণের দ্রব্যাদি, ইলেক্ট্রনিকস, সেনেটারি এবং ফার্নিচার পাওয়া যায়। এতে করে যে কোনো গ্রাহক এক দোকান থেকেই সব নিতে পারছেন। Al Marjan International Co. LLC (AMICO)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবুল কালাম আজাদ ওরফে একে আজাদ এক পর্যায়ে ওমানের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হবার সৌভাগ্য লাভ করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রামে দু’স্থানে দোকান ব্যবসার পাশাপাশি ওমানে আরও তিনটি দোকান নিতে পেরেছেন। ওমান প্রবাসী বাংলাদেশি আবুল কালাম আজাদ ব্যবসায়িকভাবে যা আয় করেন তার এক বিশাল অংশ তিনি দেশে রেমিট্যান্স আকারে পাঠান। এই রেমিট্যান্স পাঠানোর স্বীকৃতিও তিনি পেয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার তাকে এনআরবি-সিআইপির মর্যাদা দিয়েছে। তিনি এখন তার কার্ডে CIP (NRB) of Bangladesh লেখার সুযোগ পেয়েছেন।


চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটের সন্তান আবুল কালাম আজাদ ইস্ট ষোলশহরে বাড়ি করেছেন। নাম দিয়েছেন Al Murjan Palace, Yasin Hajir Bari. কথা প্রসঙ্গে স্মার্ট ও সুদর্শন আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি। এদেশ থেকে গিয়েই আমি ওমানে উপার্জন করছি। দেশে রেমিট্যান্স পাঠালে শুধু আমার পরিবারই নয়, রাষ্ট্রও উপকৃত হয়; বৈদেশিক অর্থ ব্যয় করতে পারে। দেশের সম্মানও বাড়ে। এ জন্যে আমি বৈধভাবে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাই। সরকারও আমাদের সম্মান দিয়েছে আমি এখন সিআইপি (এনআরবি) হয়েছি। এটা আমাকে গৌরবান্বি^ত করেছে। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব আবুল কালাম আজাদ সিআইপি বলেন, জীবনে পড়াশোনা একটি বড় ব্যাপার। তবে তার চাইতেও বড় বিষয় হচ্ছে সততার সাথে বড় হবার ইচ্ছেতে পরিশ্রমী হওয়া। আমি জীবনে পরিশ্রম করতে শিখেছি বলেই সফল হয়েছি। এখন ব্যবসা করছি, ভবিষ্যতে দেশে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান করার আশা আছে।
বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশিদের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি বলেন, ওমানে এখনো ১৫ তলার উপরে কোনো বিল্ডিং নেই। আগে মধ্যপ্রাচ্যের লোকেরা বাংলাদেশকে ‘মিসকিন দেশ’ বলতো। এখন সম্মানের চোখে দেখে। যারা বাংলাদেশে এসেছেন তারা বলেন তোমরা মালদার বনে গেছো, এখন তোমাদের দেশে ৩০/৪০ তলা বিল্ডিং আছে।
আবুল কালাম আজাদ চায়না, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ড থেকে ওমানে ফার্নিচার আমদানি করেন। আগে তুরস্ক থেকে করতেন। তিনি এসব দেশসহ হংকং, দুবাই, ফ্রান্স, জার্মানি, আমেরিকা, ইউকে, কানাডা, সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বাংলা ছাড়াও ইংরেজি, আরবি, হিন্দি, উর্দু, চায়নিজ ভাষায় কথা বলতে পারেন।
উদ্যমী ও সাহসী আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম জিলু। সুখী এই দম্পতির দুই ছেলে। বড় ছেলে মোহাম্মদ জুনায়েদ কানাডার ঞযড়সংড়হ টহরাবৎংরঃু-তে ইইঅ অধ্যয়নরত। আর ছোট ছেলে মিরাজ আসমীন ওমানের ইন্ডিয়ান স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ছে।
আবুল কালাম বলেন, নিজে পড়াশোনা করতে পারিনি; কিন্তু সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা আছে। তাদের মাঝেই নিজের সুখ খুঁজে পাবো। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা সত্যিই গর্বিত। তবে, দুর্নীতি বন্ধে কঠিন উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে বিশ্বে আমাদের মাথা আরও উঁচু করা সম্ভব।

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button