আবু হেনা মোস্তফা কামাল
সভাপতি
সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন
ক্যালিফোর্নিয়া, ইউএসএ
এক বর্ণাঢ্য পেশাজীবনের অধিকারী সুদক্ষ প্রকৌশলী এবং আলোকিত সমাজহিতৈষী ক্যালিফোর্নিয়ার ‘সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনে’র সভাপতি প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল যিনি আবু কামাল নামেই সমধিক পরিচিত। তার জন্ম ১৯৬৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যা ছিল পবিত্র শবেকদরের রাত। এই মহিমান্বিত রজনীতে জন্ম নেয়া আবু কামাল নিজের পেশা জীবনের বাইরেও সমাজ সেবায় রেখে চলেছেন ব্যাপক ভূমিকা। পেশাজীবী হিসেবে তিনি আমেরিকার উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান ForteMedia Inc-এর Director R&D পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এর আগে NXP Semiconductors-এর প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার, ODO Design Inc-এর Analog Design Director, Qtronix Corporation-এর Principal Engineer এবং National Semiconductor-এর প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরও আগে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিইউইটি’র শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন অতিবাহিত করেছেন।

রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের মেধাবী ছাত্র হিসেবে তার সুনাম সুবিদিত। তার জন্ম পিতার চাকরি সুবাদে লালমনিরহাট। পিতা আব্দুল হান্নান রেলওয়েতে চাকরি করতেন, মা বেগম গুলেনূর সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাপারে ছিলেন যথেষ্ট যত্নশীল। আবু কামাল লালমনিরহাট মডেল হাই স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে পার্বতীপুরের জ্ঞানপুর হাইস্কুলে ৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হবার সুযোগ পান। একটি অখ্যাত স্কুল থেকে গিয়েও ক্লাসের প্রথম পরীক্ষায় প্রথম হবার পর সবার কাছেই তার সমাদর বেড়ে যায়। তিনি ১৯৮০ সালে এসএসসি এবং ১৯৮২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর বিইউইটিতে ভর্তি হন। কৃতিত্বপূর্ণ রেজাল্টের সুবাদে ১৯৮৮-৯০ সাল পর্যন্ত বিইউইটিতে লেকচারার পদে শিক্ষকতা করেন। জাপানের মনবুশো স্কলারশিপ নিয়ে তিনি ১৯৯০ সালে জাপান যান। তিনি জাপান ল্যাংগুয়েজ অ্যান্ড মাস্টার্স কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সেখানে ছিলেন।
পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার জন্যে তিনি আমেরিকার Muroran Institute of Technology-তে ভর্তি হন এবং ১৯৯৩ সালে এমএস ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৯৭ সালে Arizona State University থেকে পিএচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। আমেরিকায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের পর শুরু করেন পেশা জীবন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার Santa Clara-তে ১৯৯৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত National Semiconductor-এর প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার, ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত Fremont-এ Altronix Corporation-এ প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার, ২০১১ থেকে ২০১২ পর্যন্ত আরিজোনার ঞবসঢ়ব ঘঢচ Tempe NXP Semiconductors-এর প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার এবং ২০১৯ সাল থেকে ForteMedia Inc-এ Director R & D পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে তিনি Santa Clara-তেই স্থায়ী হয়েছেন। তিনি বাংলা ও ইংরেজি ছাড়াও জাপানিজ, হিন্দি এবং উর্দু ভাষা জানেন।
সমাজসেবার মনোবৃত্তি তার ছোটকাল থেকেই। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় তিনি স্বেচ্ছায় চক্ষু ও রক্ত দানকারী সংস্থা ‘সন্ধানী’র সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। সন্ধানী’র নির্বাহী কমিটির ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আমেরিকায় আসার পর Old Rajshahi Cadets Association, USA (ORCA) এর মাধ্যমে শুরু হয় নতুন করে সমাজসেবার কাজ। এর আগে গড়ে তোলেন ‘স্পন্দন’। স্পন্দনের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনেকটা ‘ভিক্ষা’ করে পাওয়া অর্থে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য চিকিৎসায় ব্যাপক অবদান রেখে চলেছেন। ‘স্পন্দন’ নন-প্রফিটেবল সংগঠন হিসেবে ট্যাক্স ফ্রি সংগঠন। তারা এর মাধ্যমে দেশে ‘সামন্ত লাল সেন বার্ন ইউনিট’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। বাস্তবায়ন করেছেন- ইমদাদ সিতারা খান স্কলারশিপ যেখানে পাঁচ শতাধিক ছেলে-মেয়েকে এক কোটি টাকা বৃত্তি দেয়া হয়। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে কোনো ডায়ালাইসিস সেন্টার ছিল না, ২০০৪ সালে আবু হেনা মোস্তফা কামাল (আবু কামাল) তাদের রিইউনিয়ন অনুষ্ঠানে ড. ইমদাদ খানকে প্রধান অতিথি করেন। তিনি ১০০ হাজার ইউএস ডলারের চেক দেন। তা ছাড়াও কেউ ৩০৫০০ ডলারের চেক, কেউ ২৫০০ ডলারের চেক এভাবে অনেক টাকা অনুদান আসে। এই টাকায় ২০০৪ সালে ৪টি ডায়ালাইসিস সেন্টারের টাকা উঠে যায় এবং রাজশাহীসহ দেশে ৪টি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে কুষ্টিয়ার সদরপুরে ইমদাদ খান ও তার স্ত্রী সিতারা খানের নামে ‘ইমদাদ সিতারা খান ফাউন্ডেশন’ গঠিত হয়। এই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান করা হয় আবু কামালকে। তাদের উদ্যোগে দেশে এখন ৭০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপিত হয়েছে- যেখানে ৬০ হাজার কিডনি রোগী ডায়ালাইসিসের সুযোগ পাচ্ছেন। এ মেশিন দেশে আনতে অনেক জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়েছিল; পরে মেজর (অব.) হাফিজ বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালীন সকল জটিলতা দূর করে ঢাকায় বিমানবন্দর থেকে ছাড়ের ব্যবস্থা করেন। এ জন্যে তিনি তাকে ধন্যবাদ জানান।
২০০৯-১০ সালে আবু কামালের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা পায় ‘সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন-ইউএসএ’। এর মাধ্যমে আরিজোনা থেকেই তারা ৫২ হাজার ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। এ দিয়ে বরিশালের বগুড়া রোডে ‘আরিজোনা ডায়ালাইসিস সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করেন। ফরিদপুরেও প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘আরিজোনা ডায়ালাইসিস সেন্টার’। হিউস্টনে এক রাতেই ২৫০ ব্যক্তি ৭০ হাজার ডলার অনুদান দেন- এ দিয়ে নরসিংদীতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ‘এসবিএস হিউস্টন ডায়ালাইসিস সেন্টার’। নোয়াখালীর মাইজদীতে করেছেন ‘ওহাইয়ো ডায়ালাইসিস সেন্টার’। এভাবে একজন উদ্যোগী মানব-প্রেমিক আবু কামালের সেবাকর্মের পরিধি ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পেতে থাকে। এক্ষেত্রে তিনি ড. স্টিফেন গেস্ট কিডনি স্পেশালিস্ট নেকালিফট-এর সহায়তা পেয়েছেন; তিনি ১৯৭৯-৮০ সালে ঢাকায় ICDDRB তে কর্মরত ছিলেন।
আবু কামাল বলেন, সততা ও নিষ্ঠার সাথে উদ্যোগ নিলে কোনো কাজই পড়ে থাকে না এবং সাফল্য আসবেই। সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তারা দেশের স্বাস্থ্য খাতসহ আরও অনেক উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে ইচ্ছুক। তিনি কষ্ট পান যখন দেখেন দেশের সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে স্বাস্থ্য ও সেবা খাতসহ অন্যান্য খাতে ব্যাপক লুটপাট এবং দুর্নীতি হচ্ছে।
প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামালের ইচ্ছা- তারা সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রকৃত সোনার বাংলা গড়ে তুলবেন; তবে এর জন্যে তাদের চাই বাংলাদেশের সোনার মানুষ।
আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্ত্রী শামীমা পারভীন স্বামীর কাজে সর্বক্ষণ সহায়তা করেন। এই দম্পতির দুই ছেলের মধ্যে বড় ইসমাম নেওয়ার বায়োটেক ইঞ্জিনিয়ার এবং ছোট আফিফ নেওয়ার স্কুলে অধ্যয়ন করছেন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


