
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বাৎসরিক রপ্তানির পরিমাণ সর্বনিম্ন পাঁচ মিলিয়ন থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করে অধিকসংখ্যক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনার আওতায় আনতে কাজ করবে সম্মিলিত পরিষদ। এ ছাড়া কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ও শিল্প পুনরুদ্ধারে প্রণোদনার অর্থ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো হবে। সরকারি ফাইন্যান্সিং স্কিমের আওতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাকশিল্পের উপযুক্ত সংজ্ঞায়ন ও অন্তর্ভুক্তকরণ যার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক শিল্প ৪ থেকে ৫ শতাংশ সুদ হারে ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।
১৬ মার্চ রাজধানীর একটি হোটেলে পোশাক কারখানা মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর ২০২১-২৩ মেয়াদের নির্বাচনী ইশতেহারে সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল লিডার ও জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান এসব প্রতিশ্রুতি দেন।
বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি মো. নাসিরের সঞ্চালনায় এ সময় বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন, সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও সম্মিলিত পরিষদের অন্যতম মুখপাত্র ফজলে শামীম এহসানসহ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ফারুক হাসানের ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে, পোশাকশিল্পে ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা ১৮ মাস থেকে বৃদ্ধি ও কিস্তির আকার ছোট করার জন্য সরকারকে প্রস্তাব প্রদান। সংকট প্রতিকারে স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ। শিল্পের ক্ষতিগুলো চিহ্নিত করে তা সামলে ওঠা এবং শিল্পের পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকারের কাছে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি-সহায়তা প্রস্তাব দেওয়া। নতুন বাজার স¤প্রসারণে উদ্যোগ ও রপ্তানি প্রণোদনা ৪ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ উন্নীত করা।
এ ছাড়া ইশতেহারে রয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, রাশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা, ভারতসহ সম্ভাবনাময় নতুন বাজারে রোড শো আয়োজন এবং গুরুত্বপূর্ণ মেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় শুল্কমুক্ত রপ্তানি নিশ্চিত করা। বিজিএমইএ ও কাস্টমস বন্ড এর যৌথ কমিটি গঠন করে সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা, এ উপলক্ষে বিজিএমইএ ও কাস্টমস বন্ডের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করে পোশাক খাতের নিয়মিত সমস্যা দ্রুত সমাধান করা। আমদানিকৃত পণ্য খালাসকালীন ও পরবর্তী অডিট কার্যক্রম চলাকালীন সৃষ্ট বিলম্বিত রপ্তানি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য কাস্টম সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ। আমদানি ও রপ্তানির অডিট কার্যক্রমে অটোমেশন চালুর উদ্যোগ। স্যাম্পল ক্লিয়ারিংয়ের জটিলতা নিরসন পদ্ধতির ব্যবহার, এক্সপোর্ট প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আমদানি ও রপ্তানির অটোমেশনসহ এইস এস কোড হালনাগাদ উন্নতিকরণ করা। সরকার অনুমোদিত লিকুইডেটর এজেন্ট নিয়োগের ব্যবস্থা করা। অর্থঋণ আদালতে মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমা তিন মাসের মধ্যে নির্ধারণের ব্যবস্থাগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া। মালিক কল্যাণ তহবিল গঠন করা।
ইশতেহার বক্তব্যে ফারুক হাসান বলেন, বিশ্ববাজারে পোশাকের ইমেজ সংকট রয়েছে। ইমেজ বৃদ্ধি করাই হবে আমার আসল কাজ। আমাদের দেশের, পোশাকের এবং কারখানা মালিকদের ইমেজ বৃদ্ধির জন্য আমরা কাজ করবো। আমরা শিল্পের অনেক উন্নয়ন করেছি। এখন এটা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হবে। এছাড়া রপ্তানি কীভাবে বাড়ানো যায় অর্থাৎ মার্কেট শেয়ার বাড়ানোর বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।
শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়ে ফারুক হাসান বলেন, আমাদের রপ্তানি বাড়ানো গেলে এবং সরকারের সহায়তা বাড়ানো হলে ইনশাআল্লাহ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে নতুন আরো অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্হান হবে।
বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও সম্মিলিত পরিষদের প্রধান নির্বাচনী কো-অরডিনেটর আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, পোশাক খাতের বর্তমান সংকট মোকাবিলা করার জন্য যোগ্য নেতা দরকার। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেই নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ফারুক হাসানের কোনো বিকল্প নেই।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


