এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, খুব শীঘ্রই এটিএন বাংলা নতুন নতুন প্রোগ্রাম নিয়ে আসবে; সময়ের সাথে দর্শকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি অনুষ্ঠান তৈরি হবে। নতুন নতুন ইভেন্টও আমরা করব। আমাদের প্রত্যাশা হলো সব শ্রেণীর দর্শকদের হৃদয় জয় করা। গণমানুষের টিভি চ্যানেল হিসেবে আমরা মানুষের রুচি ও আকাক্সক্ষা সব সময় পূরণ করব
গত ১৫ জুলাই এটিএন বাংলা পথচলার ২২ বছর পূর্ণ করে ২৩ বছরে পা রেখেছে। দেশের প্রথম স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবে এটি বিরাট অর্জন।
‘অবিরাম বাংলার মুখ’ স্লোগানকে বুকে ধারণ করে ১৫ জুলাই ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করে চ্যানেলটি। ঐদিন বিশ্বব্যাপী প্রথম বাংলা ভাষা’র স¤প্রচার ঘটে জনপ্রিয় এই বাংলাদেশি চ্যানেলটির মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা ড. মাহফুজুর রহমান বাংলাদেশের সংস্কৃতি সারা বিশ্বের বাংলা ভাষা-ভাষী মানুষের কাছে পৌঁছে দেন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। শুধু সংবাদ নয়, অনুষ্ঠান প্রচারেও এটিএন বাংলা নিজেকে এগিয়ে রেখেছে। বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষা, খেলাধুলা, সমাজ, সংস্কৃতি নিয়ে অনুষ্ঠান প্রচারের বিষয়ে বরাবরই প্রাধান্য দিয়েছে। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলাদেশের খেলাধুলাকে সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা দিতে এটিএন বাংলা বদ্ধপরিকর। ২০০৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ও দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন খেলা নিয়মিতভাবেই সরাসরি সম্প্রপ্রচার করে আসছে এটিএন বাংলা। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এটিএন বাংলার অর্জন অনেক। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০০৪ সালের ২২ নভেম্বর ‘আমরাও পারি’ অনুষ্ঠানের জন্য ছোট পর্দার অস্কার খ্যাত ‘এ্যামি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন। এছাড়াও অসংখ্য সম্মাননা রয়েছে চ্যানেলটির প্রাপ্তির তালিকায়।
বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। এটিএন বাংলা কার্যালয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ দিনব্যাপী সরাসরি স¤প্রচার করা হয়। বিকাল ৫টায় প্রচার হয় বিশেষ তথ্যচিত্র ‘আমি তোমাদেরই লোক’। ৫.৩০ মিনিটে প্রচার হয় সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘মনের ফ্রেমে তুমি’। রাত ৭.৩০ মিনিট থেকে সরাসরি স¤প্রচার করা হয় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘২৩ বছরে পদার্পণ’। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নকীব খান, ফাহমিদা নবী, শুভ্র দেব, রবি চৌধুরী, বাপ্পা মজুমদার, আঁখি আলমগীর, লুইপা, মারিয়া শিমু, সামিয়া জাহান এবং নীলিমা। লিখন রায়ের কোরিওগ্রাফিতে নৃত্য পরিবেশন করেন মডেল অভিনেত্রী তানজিন তারিন এবং নৃত্য জুটি লিখন-নাদিয়া। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মুকাদ্দেম বাবু, আব্দুস সাত্তার ও মোশতাক হোসেন। ১১টায় প্রচার হয় সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘মন থেকে রইলো শুভ কামনা’। ১২টায় প্রচার হয় হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত নাটক ‘অপরাহ্ন’।
দর্শকদের ভালোবাসা নিয়ে দিনে দিনে এগিয়ে চলেছে এটিএন বাংলা। ‘অবিরাম বাংলার মুখ’ স্লোগানকে বুকে ধারণ করা এই চ্যানেলটি দর্শকদের রায়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে অনেক আগেই। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ এবং মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রপ্রচারের মাধ্যমেই এই অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এটিএন বাংলা।
পথচলার ২২ বছর পূর্ণ করে ২৩ বছরে পা রেখেছে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলা। ‘অবিরাম বাংলার মুখ’ স্লোগানকে বুকে ধারণ করে ১৫ জুলাই ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করে চ্যানেলটি। এটিএন বাংলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫ জুলাই দুপুরে কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, অভিনেতা-অভিনেত্রী, শিল্পী, নির্মাতা, কলাকুশলীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ২২ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে এটিএন বাংলা কার্যালয়ে এসে শুভেচ্ছা জানান। শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান।
বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘২৩ বছরে পদার্পণ’ শিরোনামে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সরাসরি স¤প্রচার করে এটিএন বাংলা। বিএফডিসির ৮ নম্বর ফ্লোরে অবস্থিত এটিএন বাংলার স্টুডিও থেকে সন্ধ্যা ৭টার সংবাদের পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। গান, একক ও দলীয় নৃত্য এবং স্কিড দিয়ে সাজানো হয় অনুষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় শিল্পী নকীব খান, ফাহমিদা নবী, শুভ্র দেব, রবি চৌধুরী, বাপ্পা মজুমদার, আঁখি আলমগীর, লুইপা, মারিয়া শিমু, সামিয়া জাহান এবং নীলিমা। লিখন রায়ের কোরিওগ্রাফিতে নৃত্য পরিবেশন করেন মডেল অভিনেত্রী তারিন এবং নৃত্য জুটি লিখন-নাদিয়া। মীর সাব্বির ও শ্রাবণ্য তৌহিদার উপস্থাপনায় বর্ষপূর্তির বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘২৩ বছরে পদার্পণ’ পরিচালনা করেন মুকাদ্দেম বাবু, আব্দুস সাত্তার ও মোশতাক হোসেন।
দেশে বর্তমানে ৩৫টি টিভি চ্যানেল আছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন টেলিভিশন হচ্ছে কিন্তু ঘুরে ফিরে কিছু চেনা অভিনেতা-অভিনেত্রীকেই সব ক’টি চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে। বোঝা যাচ্ছে নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রী তৈরি হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, আমাদের এখানে প্রচুর শিল্পী সংকট আছে যে কারণে অভিনেতা-অভিনেত্রী তৈরি হচ্ছে না। নতুন যারা আছে অনেকে দক্ষতা ও ধৈর্যের অভাবে হারিয়ে যায়। আর মঞ্চে যারা কাজ করেন তারা টেলিভিশনে আসতে চান না। যে কারণে আমি মনে করি, এখানে শিল্পী তৈরির জন্য প্রচুর সংখ্যক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থাকা প্রয়োজন। অভিনয়কে অনেক তরুণ-তরুণী পেশা হিসেবে নিতে ভয় পান। অনেকে মনে করেন এখনো অভিনয় পেশা হিসেবে অনিশ্চিত একটা পেশা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি এটা মনে করি না। আমি মনে করি এখনই সময় অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার। নতুন নতুন আরো টিভি চ্যানেল আসছে। ইউটিউবে নাটক তৈরি অনেকে পেশা হিসেবে নিয়েছে সুতরাং আমি মনে করি এখনই সুযোগ।
২৩ বছরে পদার্পণ করল এটিএন বাংলা, আগামী দিনগুলোতে দর্শকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এটিএন বাংলা কি ধরনের অনুষ্ঠান নির্মাণ করবে। জানতে চাইলে অনুষ্ঠান উপদেষ্টা তাশিক আহমেদ বলেন, এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান বলেছেন খুব শীঘ্রই এটিএন বাংলা নতুন নতুন প্রোগ্রাম নিয়ে আসবে, সময়ের সাথে দর্শকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি অনুষ্ঠান তৈরি হবে। নতুন নতুন ইভেন্টও আমরা করব। আমাদের প্রত্যাশা হলো সব শ্রেণীর দর্শকদের হৃদয় জয় করা। গণমানুষের টিভি চ্যানেল হিসেবে আমরা মানুষের রুচি ও আকাক্সক্ষা সব সময় পূরণ করব।
ভ্রমণপিপাসু তাশিক আহমেদ বিশ্বের বহুদেশ ভ্রমণ করেছেন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তার ভ্রমণ বিষয়ক লেখাগুলো ভ্রমণপ্রিয় পাঠকদের আনন্দ দেয় ও অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে। অত্যন্ত বিনয়ী, সদা হাসিখুশি এই প্রাণ খোলা মানুষটি ভালোবাসেন দেশকে, ভালোবাসেন নিজের মাকে।
রাজশাহীর কৃতী সন্তান তাশিক আহমেদ এটিএন বাংলার অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে নিরলস কাজ করে চলেছেন। নিজ সহকর্মীদের কাছে অতি আপনজন তিনি। বাংলাদেশের শিশু সাংবাদিকতার বিকাশে তার অবদান অনন্য, অসাধারণ।
তাশিক আহমেদ দেশের প্রথম স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলাকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরে। স্বল্পভাষী মেধাবী এই টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব দীর্ঘদিন ধরে দেশ ও বিদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাশিক আহমেদ আন্তর্জাতিক শিশু সংস্থা ইউনিসেফ-এ দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ইন্টারন্যাশনাল ‘এ্যামি অ্যাওয়ার্ড’ এর মেম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।


