প্রতিবেদন

ইইউ দেশের সাথে বাণিজ্য বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পদ্ধতি দুর্নীতিমুক্ত ও সহজ করা হয়েছে

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পদ্ধতি দুর্নীতিমুক্ত ও সহজ করা হয়েছে

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি বলেছেন, বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য দীর্ঘদিনের। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এভ্রিথিংস বাট আর্মস (ইবিএ) এর আওতায় বাংলাদেশকে বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে। সে জন্য বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে চলমান বাণিজ্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধা দূর করতে বছরে ২ বার বৈঠক করে। এটি পঞ্চম ডায়ালগ। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ উদার বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার কাজ দ্রæতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন বাংলাদেশের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর বিনিয়োগকারীগণ এ সকল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবসা সহজ করতে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পদ্ধতি দুর্নীতিমুক্ত ও সহজ করা হয়েছে। কোনো কাজে হয়রানির সুযোগ নেই। এখন এক অফিসেই সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে। ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের কাজ সহজ করা হয়েছে। যাতে কোনো ব্যবসায়ী হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি ২৮ এপ্রিল ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘পঞ্চম ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাইমেট ডায়ালগ’ এর বাংলাদেশ পক্ষে নেতৃত্ব দিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য নিয়ে ৫টি সেক্টরে বিভিন্ন সময়ে জটিলতা দেখা যায়। এগুলো হলো- ইমপোর্ট ডিউটিজ/কাস্টমস/ট্রেড ফেসিলিটেশন, ফাইন্যান্সিয়াল ফ্লোজ, ফার্মাসিটিকেলস, ট্যাক্স রিজিমস, লাইসেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন দি সার্ভিস সেক্টর। এ সেক্টরগুলোর সমস্যা সমাধানে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রæপ কাজ করছে। বিগত ৪টি ডায়ালগে অনেক সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। আগামী ৬ মাস পর আবার এ ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হবে। সে সময় অবশিষ্ট সমস্যাগুলো আর থাকবে না বলে বিশ্বাস করি। এবারের ডায়ালগ খুবই আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ডেলিগেশন প্রধান এবং ইইউ অ্যাম্বাসেডর মিসেস রেনসজি টেরিংক (গং. জবহংলব ঞববৎরহশ) সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সহজ পদ্ধতিতে বাণিজ্য করার পরিবেশ চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইজ ডুয়িং বিজনেস পলিসি খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। সে মোতাবেক অফিসগুলোতে কাজ হবে বলে ইইউ আশা করছে। এ উদ্যোগের প্রশংসা করছে ইইউ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সততার মধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করছি। পঞ্চম ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাইমেট ডায়ালগ ফলপ্রসূ হয়েছে। খুবই আন্তরিক পরিবেশে সকল সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, আশা করি আগামীতে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। উভয় দেশের বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ ডায়ালগে উপস্থিত থাকায় সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধান সহজ হয়েছে। বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।
ডায়ালগে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন দূতাবাসের ২৫ জন কর্মকর্তা ও প্রাইভেট সেক্টরের ২৮ জন প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাণিজ্যসচিব মো. মফিজুল ইসলাম, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button