প্রতিবেদন

দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে ইপিলিয়ন গ্রুপ

রিয়াজউদ্দিন আল মামুন, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ইপিলিয়ন গ্রুপ

দেশের বৃহৎ শিল্প সাম্রাজ্য ‘ইপিলিয়ন গ্রুপ’। এই গ্রুপের উদ্যোক্তা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রিয়াজউদ্দিন আল মামুন প্রকৃত অর্থেই একজন এক্সক্লুসিভ ডায়নামিক মানুষ। যিনি তার মেধা, শ্রম, অধ্যবসায়কে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন ইপিলিয়ন গ্রুপের মতো বিশাল ব্যাপ্তির এক শিল্প গ্রুপকে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইপিলিয়ন গ্রুপের শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। রিয়াজউদ্দিন আল মামুন মূলত একজন সেলফ মেড পার্সোনালিটি। দেশের পোশাক শিল্প খাতের এক মহীরূহ ব্যক্তিত্ব। যিনি শুধু স্বপ্ন দেখেই সময় ব্যয় করেননি, স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা নিয়েছেন। বদলেছেন নিজের ভাগ্যের চাকার সাথে অসংখ্য মানুষের ভাগ্যকেও। স্থাপন করেছেন অনন্য নজির।
দেশের শিল্পাঙ্গনের এক বিশাল কর্মযজ্ঞের পুরোধা পুরুষ রিয়াজউদ্দিন আল মামুনের জন্ম ১৯৬৭ সালের ১১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের খানপুরের এক অভিজাত শিক্ষিত পরিবারে। তার পিতা মরহুম নূরউদ্দিন এবং মা মিসেস নুরজাহান বেগম। বুদ্ধিদীপ্ত সুদর্শন রিয়াজউদ্দিন আল মামুন ছোটবেলা থেকেই উদ্যমী ও উদ্যোগী। কাজের পাশাপাশি সমাজসেবা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতি তার দারুণ অনুরাগ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পড়াশোনা শেষে যোগদান করেন এবি ব্যাংক লিমিটেডে। পরবর্তী সময়ে কঠোর পরিশ্রমী রিয়াজউদ্দিন আল মামুন ধরা-বাঁধা ব্যাংকিং পেশা থেকে বেরিয়ে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তিনি ১৯৯৪ সালে ঢাকার মিরপুরে ছোট একটা কারখানা দিয়ে গোড়াপত্তন করেন ইপিলিয়ন গ্রুপের। সেই গ্রæপ এখন দেশ-বিদেশে সুপরিচিত শিল্প সাম্রাজ্য। ‘ইপিলিয়ন ব্র্যান্ড’ নামটি এখন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সমাদৃত। তার শিল্প গ্রæপে গার্মেন্ট, টেক্সটাইল, গার্মেন্ট এক্সেসরিজ, কার্টন ফ্যাক্টরিসহ নানা ব্র্যান্ডের তৈরি পণ্য বিক্রয়ের জন্য ঢাকার ব্যবসায়িক ও অভিজাত এলাকায় ৮টি শোরুম রয়েছে।
আত্মপ্রত্যয়ী উদ্যোক্তা রিয়াজউদ্দিন আল মামুন তার কর্মযজ্ঞের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশ-বিদেশের অনেক প্রেস্টিজিয়াস পদক ও সম্মাননা লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ২০০৮ ও ২০১২ সালে সরকার কর্তৃক সিআইপি হিসেবে মূল্যায়ন লাভ, বাংলাদেশ ক্রীড়া সাংবাদিক সমিতি কর্তৃক স্পেশাল অনারারি অ্যাওয়ার্ড। ২০১৬ সালে ষষ্ঠ স্ট্যাডার্ন্ড চার্টার্ড-ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস অ্যাওয়ার্ড এবং ্সমাজ অর্থনীতির কাগজ অর্থকথা কর্তৃক বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব ২০১৬ অ্যাওয়ার্ডে ভ‚ষিত হন। তিনি ২০১৫ সালে BDJOBs.com Best Employs Award 2014 ২০১৪ সোস্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড, পঞ্চম এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সেভ দ্য চিলড্রেন এবং সিপিডি কর্তৃক বার্ষিক সিএসআর অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।


এ শিল্প গ্রæপের সাথে প্রায় ৫৫০ জন সরবরাহকারী এবং স্টেক হোল্ডার সম্পৃক্ত থেকে জাতীয় অর্থনীতিকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ করছেন। দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গুড গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠায় এই গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রিয়াজউদ্দিন আল মামুনের দক্ষ উদ্যোগী নেতৃত্বে এই গ্রুপ বার্ষিক প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ইউএস ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।
তারুণ্যে উজ্জীবিত রিয়াজউদ্দিন আল মামুন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিপিজেএমপিইএ ও রিহ্যাবসহ বেশ কিছু ট্রেড এসোসিয়েশনের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি বাংলাদেশ-জার্মান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সক্রিয় সদস্য।
ইপিলিয়ন গ্রুপভুক্ত ১৩টি ইন্ডাস্ট্রিতে ১৬ হাজারেরও অধিক শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত যাদের মধ্যে রয়েছে অদম্য প্রফুল্লতা। গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ব্যক্তিত্ব রিয়াজউদ্দিন আল মামুন অনেক চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে তার স্বপ্নের ইপিলিয়নকে বিস্তৃত করেছেন শুধু নিজের আর্থিক পরিপুষ্টির জন্য নয়। এর পেছনে একটি দর্শন রয়েছে, আর তা হচ্ছে- মানবকল্যাণ। তিনি বিশ্বাস করেন সমাজের অন্যদের উপেক্ষা করে উন্নয়ন আসে না। এ জন্যই তিনি সামাজিক কল্যাণের লক্ষ্যে ইপিলিয়ন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন।
ধৈর্যশীল উদ্যোক্তা মামুন একজন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবেও সুপরিচিত। তিনি ফুটবল প্লেয়ার হিসেবে ছিলেন দেশের বরেণ্য একজন। এখনো তিনি ক্রীড়াঙ্গনের সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। তিনি ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা সিটি ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব এবং উত্তরা ক্লাব-এর সদস্য। তিনি ১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত মোহামেডান এবং মোহসিন ক্লাবের ফার্স্ট ডিভিশনের ফুটবল প্লেয়ার ছিলেন।
ব্যক্তি জীবনে রিয়াজউদ্দিন আল মামুন একজন দানশীল ব্যক্তিত্ব। তিনি তার পরিচিতি জন ও শ্রমিক-কর্মচারীদের দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়ান। তিনি শুধু শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবেই নন, একজন সাহিত্যপ্রেমী হিসেবেও সুবিদিত। রাজধানী ঢাকায় তার প্রতিষ্ঠিত ‘নিনাকাব্য’ ভবনটি শুধু বাংলাদেশের আঙ্গিকেই নয়, বিশ্ব আঙ্গিকেও একটি সাহিত্যপ্রেমী ভবনের ঐশ্বর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে। এই ভবনটির দেয়াল জুড়ে বিশ্বখ্যাত বাঙালি কবিদের কবিতার পঙ্ক্তি গ্রোথিত। প্রকৃত অর্থেই রিয়াজউদ্দিন আল মামুন একদিকে যেমন শিল্পোদ্যোক্তা তেমনি ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। তার দক্ষতায় ইপিলিয়ন গ্রুপ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button