প্রতিবেদন

ডিসিআই দারিদ্র্য রোধ ও প্রতিটি শিশুর মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে

লোরা চৌধুরী আইনজীবী ও রাজনীতিক SIDLEY, Dallas

বাংলাদেশে যার শেকড় প্রোথিত, তিনি এখন ফার্স্ট জেনারেশন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান দক্ষ আইনজীবী লোরা চৌধুরী। বর্তমানে SIDLEY নামের এক বাণিজ্যিক ল’ ফার্মের গুরুত্বপূর্ণ এসোসিয়েট। ডালাসের বাংলাদেশ কমিউনিটি ছাড়াও একজন তরুণ আইনজীবী হিসেবে ইতোমধ্যে তার সুনাম এবং সুখ্যাতি অন্যান্য কমিউনিটিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। SIDLEYতে যোগদানের আগে তিনি Texas এর Southern Dest এর U.S. District Court এর সম্মানিত David Hittner এর জুডিশিয়াল ল’ ক্লার্ক হিসেবে ২০১৭-২০১৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যবসায়ী, পরিশ্রমী ও আত্মপ্রত্যয়ী লোরা চৌধুরী Austin এর University of Texas থেকে ২০১৪ সালে অর্থনীতিতে বিএ এবং Vanderbilt University Law School থেকে ২০১৭ সালে আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি Cader Hill High School থেকে ২০১১ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। তিনি Dallas South Asian Bar Association এর সদস্য। তিনি Commercial Litigation and Disputes বিষয়ক মামলার ক্ষেত্রে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী। দক্ষ ও স্মার্ট আইনজীবী লোরা চৌধুরী US District Court, E.D of Texas এবং US District Court SD of Texas-এ প্র্যাকটিস করেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভ‚ত লোরা চৌধুরীর পিতার নাম মাসুদ চৌধুরী। তিনি একজন খ্যাতিমান ব্যবসায়ী। তার বোন লীরা চৌধুরী একজন চিকিৎসক।
আইনজীবী লোরা চৌধুরী স্থানীয়, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে দুস্থ শিশুদের উন্নয়ন, শিক্ষাদানে সহায়তাসহ একজন সচেতন আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন। জানুয়ারি ২০১০ থেকে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এ দায়িত্ব পালন করছেন।

মানবতাবাদী এই আইনজীবী আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠানে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তেমনই দুস্থ, অসহায় বঞ্চিত শিশুদের তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে পালন করেন অগ্রণী ভ‚মিকা। তার ইতিবাচক পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দারিদ্র্যের কারণে অসহায় যেসব শিশু আইনগত সহায়তা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তারা সেই সুযোগ পাচ্ছেন।
লোরা চৌধুরী দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা লাভে ও অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনেক কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। তিনি মনে করেন- দরিদ্রতা মানুষকে অসহায় করে রাখে, পরিবারের শিশুদের শিক্ষা বঞ্চিত করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মায়েদের স্বাবলম্বী করার জন্যে তাদের কুটির শিল্প ও অন্যান্য কাজে সম্পৃক্ত হবার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি দারিদ্র্যের অভিশাপ মুক্তির জন্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সেমিনারে অংশ নিয়ে থাকেন। তিনি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু অধিকার ও দর্শন সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অতিথি স্পিকার ছিলেন। তিনি স্থানীয় পর্যায়সহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চশিক্ষার তাৎপর্য এবং শিশুদের জ্ঞানের শক্তি দিয়ে তাদের মধ্যে ‘আশা’ সৃষ্টি করার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকেন। তিনি Women আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি এর মুখপাত্র হিসেবে নারীদের স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা এবং স্বাস্থ্য স্থায়ী করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
জন্ম ও বেড়ে ওঠা এক ফার্স্ট জেনারেশন বাঙালি আমেরিকান লোরা চৌধুরীর আবেগ অনুভ‚তি শিশুদের নিয়ে, তাদের জন্য কাজের মাধ্যমে তিনি আনন্দ পান। তিনি স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সব স্তরেই কাজ করেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মূল্যবান শিক্ষা অর্জনে তিনি সহায়তা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষা একজন মানুষের বড় হবার ক্ষেত্রে বড় উপাদান। তার এসব কার্যক্রমে জড়িত থাকার বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত। তিনি এ ব্যাপারে টিউটরিং সংস্থা, ডিস্ট্রেড চিলড্রেন অ্যান্ড ইনফেন্টস ইন্টারন্যাশনালের (ডিসিআই) আন্তর্জাতিক মুখপাত্র হিসেবেও কাজ করেন। ডিসিআই এর সঙ্গে তার পিতাসহ পুরো পরিবার জড়িত।
তিনি শিশুদের জ্ঞানের প্রতি আবেগ এবং তৃষ্ণা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। লোরা চৌধুরী ডিসিআই প্রোগ্রামগুলোতে জড়িত অল্প বয়সী মেয়েদের উপকারের জন্যে একটি বৃত্তি প্রোগ্রাম চালু করেছেন।


উন্নয়নশীল দেশ এবং এতিমখানাগুলোতে কাজ করার জন্যে তিনি তার সময় ব্যয় করে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি প্রত্যাশা করেন, অসহায় ও দুস্থ হলেও প্রতিটি সন্তানই স্ব-অনুপ্রেরণা এবং সুযোগকে কাজে লগিয়ে স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসবে।
লোরা চৌধুরী একজন স্বপ্নদর্শী আইনজীবী ও রাজনৈতিক কর্মী। তিনি স্বপ্ন দেখেন টেক্সাসের মতো দুর্দান্ত রাজ্যের ‘কংগ্রেস মহিলা সদস্য’ হবেন। লোরা অত্যন্ত উদ্যমী এবং কর্মনিষ্ঠ এক ব্যক্তিত্ব। ২০১১ সালে তাকে ‘মিস টিন টেক্সাস ইন্টারন্যাশনাল ২০১১’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে শিশুদের কাছে জ্ঞানের শক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যে একটি মুকুট এবং সনদ দিয়ে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। লোরা নিজে যেমন বিশ্বাস করেন যে, শিক্ষাই সত্যিকার অর্থে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তিনি মনে করেন, এই শিক্ষাই বিশ্বাস ও মূল্যবোধে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করে। তিনি এ ক্ষেত্রে একজন অগ্রণী নারী। বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য বন্ধ করতে এবং প্রতিটি শিশুর মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে একটা শক্তিতে রূপান্তরের জন্যে কাজ করছেন এই উদ্যমী আইনজীবী।
তিনি এতিমখানার পিতৃমাতৃহারা অথবা দুস্থ শিশুদের সাথে সময় কাটাতে ও একত্রে আহার করতেও পছন্দ করেন। গত রমজানে তিনি DCI Sun Child Home Orphanage এর শিশুদের সাথে ইফতার করেছেন, তাদের সান্নিধ্যে সময় কাটিয়েছেন, সুন্দর জীবন গড়ার জন্যে উৎসাহ দিয়েছেন।
তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে অসচ্ছল ও কম ভাগ্যবান শিশুদের মাধ্যমিক পরবর্তী শিক্ষা অর্জনে সুযোগ এবং সংস্থান প্রদানের লক্ষ্যে লোরা চৌধুরী ‘ডিসিআই’ এর অধীনে লার্নিং ক্রিয়েটস ফিউচার বৃত্তি কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা করেছেন। জ্ঞানের শক্তি এবং তাদের নিজের স্বপ্নের সৌন্দর্য সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে শিশুদের অবহিত করে, বিশ্বব্যাপী শিশুদের অনুপ্রাণিত করার জন্যে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে কাজ করছেন। লার্নিং ক্রিয়েটস ফিউচারের মাধ্যমে তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরের ডিসিআই এতিমখানাতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ৩০টিরও বেশি বৃত্তি প্রদান করেছেন এবং সেখানে তিনি মেয়েদের জন্যে একটি লাইব্রেরি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন। তার এই উদ্যোগের ফলে অসচ্ছল ও অসহায় অনেক শিশুই জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পেয়েছেন।
আইনজীবী লোরা চৌধুরীর এই উদ্যোগ শুধু তাকে নয়, বাংলাদেশকেও গর্বিত করেছে। নিজে ফার্স্ট জেনারেশন আমেরিকান হয়েও মাতৃভ‚মি বাংলাদেশকে গভীরভাবে ভালোবাসেন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button