পৃথিবীতে এখনো এমন নিঃস্বার্থ মানুষ আছেন- যারা নিজেদের কাজের চেয়ে সমাজ বা কমিউনিটির কাজ বা স্বার্থকে বড় করে দেখেন। সেই তাদেরই একজন বাংলাদেশি আমেরিকান স্বাপ্নিক খান। তিনি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্বে থাকলেও নিজের পরিচিতি সম্পর্কে বলেন, আমি একজন কর্মী মাত্র। সত্যিই তাই- কাজ পাগল এই মানুষটির হাতের ছোঁয়া না হলে হিউস্টন ও দক্ষিণ-পূর্ব টেক্সাসের কোনো সামাজিক কাজেই যেন সাফল্য আসে না। স্বাপ্নিক খান টেক্সাসের উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান ‘Fort Bend Limited’ এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর।

সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল মানবিক ব্যক্তিত্ব স্বাপ্নিক খান টেক্সাসের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক একশন কমিটি TPEC (Texas Progressive Excutive Council) এর ভাইস চেয়ারপার্সন। তিনি ২০১২ সাল থেকে Fort Bend Democratic Party’র কান্ট্রির সিনিয়র এসিস্টেন্ট পদে নির্বাচিত দায়িত্বে থেকে এ পার্টির বিস্তারে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছেন। তার নেতৃত্বে এ পার্টির পারিপার্শ্বিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে রিপাবলিকানের পরিবর্তে ডেমোক্রেট ধারায় এর অবস্থান সূচিত হয়েছে এবং Fort Bend-কে ঘিরে সর্বোচ্চ ভোটারের সমর্থন অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি আমেরিকান স্বাপ্নিক খানের ভূমিকা অগ্রগণ্য।
এই দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতা ২০১৮ সাল থেকে টেক্সাস ডেমোক্রেটিক পার্টির উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শুধু সেদেশের রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত নন, বাংলাদেশ কমিউনিটির কার্যক্রমেও রেখে চলেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তিনি ২০১০ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের মহাসচিব নির্বাচিত হন- এটি ছিল হিউস্টনের বাংলাদেশিদের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। তিনি ২০০০ সালে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন হিউস্টন এর বোর্ড অব ডিরেক্টর পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। বৃহত্তর হিউস্টনে প্রায় ৩০ হাজার বাংলাদেশি আমেরিকান বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সহযোগিতা পেয়ে থাকে। নেতৃত্ব প্রশ্নে তার বিশ্লেষণ হচ্ছে- এক্ষেত্রে সেবা এবং ডেডিকেশনের কোনো বিকল্প নেই। আমি যখন কমিউনিটির দায়িত্ব পালন করি- তখন এর প্রতিটি মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে নিজের করে ভাবি এবং সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়াকে অবশ্য কর্তব্য বলে মনে করি।
হিউস্টনে বাংলাদেশি আমেরিকানদের স্বপ্নের ‘বাংলাদেশ এসোসিয়েশন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তার উদ্যোগ ইতিহাস হয়ে থাকবে। এই ভবন নির্মাণের জন্যে ফান্ড সংগ্রহের লক্ষ্যে তার প্রচেষ্টা ব্যাপক। বলা যায়- ফান্ড সংগ্রহের ‘কী কোর্স’ হচ্ছেন স্বাপ্নিক খান। তিনি তার সুদৃঢ় নেতৃত্বে গত ১৫ বছর ধরে সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুপ্রাণিত করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ২ মিলিয়ন ডলারের বাংলাদেশ এসোসিয়েশন সেন্টার প্রজেক্টটি। এর নির্মাণ কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। এটি হিউস্টনের বাংলাদেশিদের একটি স্বপ্ন- একটি অঙ্গীকার যা তার নেতৃত্বে বাস্তবায়ন হতে চলেছে। এই ভবন নির্মাণের ফান্ডের নাম ‘Z Fund’। এর মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার লক্ষাধিক বাংলাদেশি নিজেদের স্বপ্নের ভবনে একত্রিত হবার সুযোগ পাবেন, গর্বের সাথে উচ্চারণ করতে পারবেন- এই আমাদের নিজস্ব ঠিকানা যার মাধ্যমে বাংলাদেশিরা ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের শিল্প-সংস্কৃতি, কমিউনিটির সমস্যা ও সম্ভাবনার আলোকে সিদ্ধান্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে। এটি সমগ্র আমেরিকার বাংলাদেশিদের জন্যে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
আলোকিত মানুষ স্বাপ্নিক খান বৃহত্তর হিউস্টনের বাংলাদেশিদের সুখ-দুঃখের সাথে সম্পৃক্ত এক প্রাণ। কারো কোনো অর্থনৈতিক প্রয়োজন, আইনগত, চিকিৎসা সংক্রান্ত কিংবা হঠাৎ মৃত্যুজনিত কারণে কোনো পরিবারের অসহায়ত্বে পাশে এসে দাঁড়ান তিনি।
তার গতিশীল নেতৃত্বে BAH (Bangladesh Association in Huston) একটি আলোকিত বাংলাদেশি আমেরিকান সংগঠন হিসেবে অনেক সম্মাননা ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ‘Organisation of the North America’ অন্যতম। এছাড়া কমিউনিটির জন্যে উন্নয়ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার সংগঠন হিসেবে BAH ওয়ার্ল্ড ওয়াইড অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছে যেখানে ১০,০০০ ইউএস ডলার নগদ পুরস্কার প্রাপ্তি ঘটেছে।

বর্তমানে তিনি একটি মধ্যম আকারের ‘ল ফার্ম’ পরিচালনা করছেন যার মাধ্যমে আইনগত সহায়তা বিশেষ করে ‘সিভিল লিটিগেশন’ প্র্যাকটিস করে থাকেন।
স্বাপ্নিক খান বিবাহিত এবং তিন মেধাবী কন্যার জনক। স্ত্রীসহ কন্যারা তার সকল কাজেই আন্তরিক ভূমিকা রাখেন। স্বপ্নদর্শী স্বাপ্নিক খানের দর্শন হচ্ছে- ‘ভালো চিন্তার সমন্বয়ে কাজের উদ্যোগ নেয়া এবং তার বাস্তবায়ন পর্যন্ত সে কাজের সাথে লেগে থাকা। আপনি ভালো চিন্তা করলেন কিন্তু তার বাস্তবায়নে কাজ করলেন না- তা কোনো চিন্তা হলো না’।
স্বাপ্নিক খান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রমী। সংবেদনশীল ভালো নেতৃত্ব পেলে দেশের মানুষের ব্যাপক পরিবর্তন সম্ভব। বর্তমান বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে- এতে বিদেশেও আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে। তিনি বলেন, মানবাধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে; বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জোর দিতে হবে।
স্বাপ্নিক খান এখানকার আরও বেশ কিছু সংগঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশি আমেরিকানদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ আমেরিকান বিজনেস এসোসিয়েশন অন্যতম। তিনি Talabix Associates PC.-এর পরিচালক, অপারেশন। তিনি একসময় Niks all government এর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। স্বাপ্নিক খান টেক্সাসের হিউস্টনের রিচমন্ডে বসবাস করেন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


