ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. চৌধুরী মফিজুর রহমান বলেন, আমার ধারণা যে, আমাদের নারীরা যেখানেই পদচারণা করবেন তারা সাফল্য বয়ে আনবেন। পৃথিবীতে এমন একটা সময় আমরা বাস করছি যেখানে পৃথিবীটা আসলে দুইটা পৃথিবী। একটা হচ্ছে রিয়েল ওয়ার্ল্ড, যেখানে পৃথিবী বিভিন্ন দেশে দেশে বিভক্ত, একটা দেশ থেকে আরেকটা দেশে যেতে গেলে আমার ভিসা লাগে, একটা দেশে বসবাস করতে গেলে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি লাগে- আরেকটা হচ্ছে ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড। সেখানে আমরা যে কোনো জায়গায় যেতে পারি, যে কোনো দেশের জন্য কাজ করতে পারি এবং সেখানে কোনো বর্ডার নেই।

এখন পৃথিবীর দেশগুলোর মধ্যে, ন্যাশনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে এই ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের যে কনসেপ্ট দিয়েছেন আমি তো মনে করি- এটা যুগান্তকারী একটা ভিশন। একদম পার্টিনেন্ট টু দ্য টাইম। কেননা আমাদের এখন ট্রাই করতে হবে সাইবার জগতে বা ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে আমরা যেন আধিপত্য বিস্তার করতে পারি। এখন কিন্তু মেরিটই পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করছে। উবারের কথা চিন্তা করুন- তাদের তো নিজস্ব কোনো গাড়ি নেই, কিন্তু তারপরও তারা অনেক বড় একটা বিজনেস পরিচালনা করছে। প্রফেসর ড. চৌধুরী মফিজুর রহমান বলেন, আপনারা হয়তো জানেন বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা ছয় লক্ষ পঞ্চাশ হাজারের মতো। এবং আর্নিংয়ের দিক থেকে এটা পৃথিবীতে প্রবাবলি অষ্টম এবং সংখ্যার দিক থেকে খুব সম্ভবত দ্বিতীয়। আমাদের এখন পর্যন্ত মনে হয় গ্রাফিক ডিজাইনে সবচেয়ে বেশি লোক কাজ করে। আমরা যদি আমাদের স্কীল লেভেলটাকে আরেকটু কাজে লাগাতে পারতাম তাহলে আমাদের ফ্রিল্যান্সের যে ইনকাম তা হয়তো আরও বাড়তে পারতো। আমার মনে হয় যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদেরকে ডিজিটালি ইক্যুইপড হতে হবে। আর একজন মা যদি ডিজিটালি ইক্যুইপড হয় তাহলে তার সন্তানও ডিজিটালি ইক্যুইপড হবে। সেটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট একটা জিনিস। এ ক্ষেত্রে কোডার্সট্রাস্ট যেটা করছে, সেটা অবশ্যই কমান্ডেবল একটা কাজ। তারা একটা ডিজিটাল জাতি গঠনে আমাদের দেশে কন্ট্রিবিউট করছে। এ জন্য তাদেরকে আমি অবশ্যই সাধুবাদ জানাই এবং আমরা অবশ্যই তাদের কাছে অনেকটা গ্রেটফুল। প্রফেসর ড. চৌধুরী মফিজুর রহমান বলেন, আমি শুনেছি এখানে ১০০০ জনের মধ্যে ৭২৫ জন সফলতার সঙ্গে ফ্রিল্যান্সিং করছেন। তবে একটা জিনিস মনে রাখতে হবে সবসময় কোনো প্রতিষ্ঠান আপনাকে অলওয়েজ ট্রেনিং দেবে না। আসলে পরিবর্তন খুব দ্রুত ঘটছে, আগে আমরা পোস্ট অফিস ব্যবহার করতাম, এখন কিন্তু পোস্টাল ডিপার্টমেন্ট অলমোস্ট অবসলিট। আমরা এখন ই-মেইল ব্যবহার করি। কিছুদিন পর দেখা যাবে ব্যাংক থাকবে না- সব কিছু আমরা ডিজিটালি করব।

যদি ক্রেডিট কার্ড থাকে এখনই আমরা ব্যাংকে যাই না, এটিএম কার্ড ব্যবহার করি। সে রকম প্রতিনিয়ত টেকনোলজি পরিবর্তন হবে এবং সাথে সাথে স্কীলটাও চেঞ্জ করতে হবে- এজন্য যাতে আমরা নিজে নিজে শিখতে পারি। শিখতে পারার এই অ্যাটিচ্যুডটা আমাদের থাকতে হবে। যদি আমরা এই অ্যাটিচ্যুডটা নিয়ে চলতে পারি তাহলে কেউ আমাদেও আটকাতে পারবে না। আমি আবারও কোডার্সট্রাস্টকে তাদের এই কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং আপনারা যদি পারেন তা হলে কিছু কিছু স্কীল; যেগুলো আমাদের এক্রিস্টং প্রোগ্রামার তাদেরকে যদি ইম্পার্ট করা যায় ফর এপ্রম্পল অও (আর্টিফিসেল ইন্টেলিজেন্স) বা ডেটা সায়েন্সে যদি আমরা কিছু কাজ করতে পারি তাহলে আমাদের আর্নিংটা আরও অনেক বৃদ্ধি পাবে।


