ওয়ার্ল্ড গ্রিন এনার্জি সিম্পোজিয়াম (ডাব্লিউজিইএস) কাউন্সিলের নোভা অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি থিংকট্যাংক ও উদ্যোক্তা আজিজ আহমদ। গত ১৩ এপ্রিল এই অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়।
ডাব্লিউজিইএসের সাইটেশনে বলা হয়েছে, অনুকরণীয় নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী দক্ষতা ও সামাজিক অসমতা নিরসনে টেকসই ও শিক্ষণীয় সমাধান দিতে অসাধারণ সক্ষমতা দেখানোয় ২০২২ সালে আজিজ আহমদকে দেওয়া হয় সম্মানজনক এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার।
আজিজ আহমদ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইউটিসি অ্যাসোসিয়েটস, কোডার্স ট্রাস্ট ও প্রবিটি কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি একাধারে একজন তথ্য-প্রযুক্তি উদ্ভাবক, গবেষক, শিক্ষক ও উদ্যোক্তা। একজন জনহিতৈষী, সমাজসেবক হিসেবেও যুক্তরাষ্ট্রে সুবিদিত এই বাংলাদেশি-আমেরিকান।

মর্যাদাকর এই আন্তর্জাতিক নোভা অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় আজিজ আহমদ বলেন, ‘এই অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। আর বারবার মনে পড়ছে সেই মুখগুলো যারা আমাদের এগিয়ে দেওয়া সুবিধা নিয়ে এখন আইটি জগতে তাদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। গ্লোবাল মার্কেট থেকে আয় করছে। তাদের একেকটি হাসিমুখ আমাকে অনুপ্রাণিত করে।’
কিছুু বিবেচক ও প্রত্যয়ী মানুষ বিশ্বটাকে বদলে দিতে পারেন, এমনটাই বলেছিলেন মার্গারেট মিড। এবারের নোভা পুরস্কার হস্তান্তরের সময় এই উক্তিটিই স্মরণ করে ডাব্লিউজিইএস।
প্রতিষ্ঠানটির ফাউন্ডার সিইও ডেইজি গ্যালাগার বলেন, ‘আমাদের এবারের সিম্পোজিয়াম ও পুরস্কারের মূল প্রতিপাদ্যে রয়েছে মানুষ। যারা এবার অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হলেন তারা তাদের কাজ দিয়ে মানুষের কাছে যেতে পেরেছেন।’
আজিজ আহমদ ছাড়া নোভা অ্যাওয়ার্ড-২০২২-এ ভূষিত হয়েছেন অপর দুই আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। তাদের একজন ফাদার এলবার্স জর্জ। এলডার জর্জ নামে যিনি সমধিক পরিচিত। গ্রিসের এই ক্যারিশম্যাটিক ধর্মযাজক মানবতা ও প্রকৃতির সেবায় নিয়োজিত একজন অন্যতম রোলমডেল। অপরজন হচ্ছেন করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি-সিএসআরের পরিচালক মাইকেল জোন্স বে। টেকসই করপোরেট ব্যবস্থার চ্যাম্পিয়ন বলা হয় তাকে।
ডেইজি গ্যালাগার আরো বলেন, ‘ভীষণ ভিন্ন রকম এই তিনটি মানুষকে পুরস্কৃত করতে পেরে আমরা নিজেরা গর্ববোধ করছি।’
বাংলাদেশি আমেরিকান আজিজ আহমদ তাদেরই একজন; যিনি ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগে উচ্চশিক্ষা লাভে যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে সেখানে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিজ কৃতিত্বে তিনি অর্জন করেছেন মূলধারার একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার গৌরব।
এর আগে পুরস্কার ঘোষণার পর ডাব্লিউজিইএসের নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক জর্জ রবার্টস বলেন, আজিজ আহমদের মতো ব্যক্তিত্বকে নোভা অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করতে পেরে ডাব্লিউইজিএস গর্ববোধ করছে।
আজিজ আহমদ একজন প্রভাবক ও গেম চেঞ্জার, বলেন রবার্ট গ্যালাগার।
আজিজ আহমদ তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠান কোডার্স ট্র্রাস্টের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া, অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রযুক্তিনির্ভর কাজের সুবিধা পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে চলেছেন। এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকার পাশাপাশি বাংলাদেশেও রয়েছে তার কার্যক্রমের বড় বিস্তৃতি। এই মানুষগুলোর জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কোডার্স ট্র্রাস্টের মাধ্যমে তাদের দেওয়া হচ্ছে বিশ্বমানের আইটি দক্ষতা। এবং তার মাধ্যমেই তারা অর্জন করতে পারছেন বিশ্ব¦বাজার থেকে আইটি খাতে কাজের সুযোগ। অর্থকণ্ঠ ডেস্ক


