
দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমালেও যারা বাংলাদেশের শেকড় সম্পর্ককে নিবিড়ভাবে ধরে রাখছেন তাদেরই একজন আমেরিকার প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম। তিনি বর্তমানে আমেরিকার স্থায়ী বাসিন্দা অর্থাৎ বাংলাদেশি আমেরিকান এবং ‘বাংলাদেশ আমেরিকান ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি’ নর্থ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।
সুদর্শন এবং অমায়িক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজমের জন্ম ৭ জুন বৃহত্তর চট্টগ্রামের এক ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই উদ্যমী, কর্মপ্রিয় ও স্বপ্নদর্শী কাজী আজম ভাবতেন, তিনি একদিন স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় যাবেন। সেই ভাবনার সূত্র ধরেই সুযোগ পেলেন আমেরিকা আসার। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন একজন উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী হিসেবে। বাংলাদেশে থাকতে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে মূল দল বিএনপির রাজনীতিতে। আমেরিকা গিয়েও শত প্রলোভনে দলীয় আদর্শ থেকে চ্যুত হননি। বিএনপিকেই ধরে আছেন। তিনি এখন ইন্টার স্টেট বিএনপি ইন ইউএসএ এর প্রেসিডেন্ট।
একটি দলীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের লোক হলেও মানুষ হিসেবে কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম সর্বজনীন ব্যক্তিত্ব। তার কাছে বাংলাদেশি আমেরিকানরা সবাই সমান। পরোপকারী এই মানুষটি দল-মত এবং ধর্মভেদে অকৃপণভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে ধরেন। তার মানবিক মূল দর্শন হচ্ছে- মানুষ মানুষের জন্যে। এই বিষয়টি হৃদয়ে ধারণ করে বন্ধুদের নিয়ে কর্মহীন অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন- তাদের নিকট খাবার ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন পরম মমতায়। এটি করেছেন দলমত নির্বিশেষে।
বাংলাদেশের এক কৃতী সন্তান কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম একসময় নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান NTS Corporation Inc. এর ম্যানেজিং ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন। তবে তার আত্মার মধ্যে সাংগঠনিক ধারা মিশে গেছে। কারণ, তার মতে, সাংগঠনিক কার্যক্রম দ্বারা অনেক মানুষের উপকার এবং তাদের নৈকট্য লাভ করা যায়। একারণেই আমেরিকার যে ক’জন ব্যক্তিত্ব মানব উন্নয়নের সংগঠনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত তাদের মধ্যে কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম অন্যতম। তিনি বাংলাদেশ আমেরিকান ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি, নর্থ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংগঠনের জন্যে নিবেদিতপ্রাণ কাজী সাখাওয়াত হোসেন আমেরিকায় বাংলাদেশিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন ফোবানা’র স্টিয়ারিং কমিটির সাবেক সদস্য সচিব এবং কোষাধ্যক্ষ। তিনি নর্থ আমেরিকায় চট্টগ্রাম এসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট। এই সংগঠনটি তার নেতৃত্বে চট্টগ্রামবাসীদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের রূপ পায়। তিনি নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির প্রাক্তন সাংগঠনিক সম্পাদক। বর্তমানে তিনি ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন।

সমাজ সচেতন এবং বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার এই অগ্রনায়ক দেশের স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন। কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম বলেন, রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা যার যার; কিন্তু দেশের স্বার্থ সবার। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত টিপাইমুখ বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশকে মরুভূমি করার যে অপচেষ্টায় নিয়োজিত তার প্রতিবাদে প্রতিরোধে কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম শুরু থেকেই সোচ্চার। ‘Save Bangladesh’ এই ব্যানারে সভা- সমিতি ও অনেক সেমিনার করে ভারতের এই পানি আগ্রাসনকে তিনি বিশ্ববাসীর নিকট তুলে ধরেছেন।
কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম একজন সাহসী এবং কর্মনিবেদিত মানুষ। তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘মেজবান’কে আমেরিকাতেও চালু রেখেছেন। তার মতে এটি বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যের বিষয়। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের যারা প্রবাসী, তাদের সন্তানরা যাতে এই ঐতিহ্যকে ভুলে না যায়- এ জন্যে একে চালু রাখতে হবে।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বিষয়ে অনেকের মতো তিনি অত্যন্ত ভাবিত। তিনি বাংলাদেশের বিশেষ করে চট্টগ্রামের করোনা আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার জন্যে আমেরিকার বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমাদের এক ডলার সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্যে দুই কেজি চালের সহযোগিতা।
কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে জীবন-যাপন পছন্দ করেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স:) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি অপরের নিন্দা করে এবং অপরকে অপমান করে তারা একদিন কষ্টদায়ক পরিণতির শিকার হবে’।
নেতা হিসেবে অত্যন্ত স্পষ্টবাদী কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম কখনো শাদাকে শাদা বলতে ভয় পান না। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ ও তৎপরবর্তীকালে দেশের সঙ্কটমুহূর্তে দেশ ও জাতিকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয়েছেন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


