
বাংলাদেশের স্বপ্নদর্শী যে সকল উচ্চশিক্ষিত যুবক নিজেদের যোগ্যতার মাধ্যমে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে মাতৃভূমির ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল করতে পেরেছেন তাদেরই একজন মোঃ মাহমুদর রাহমান খান শাহিন (M R KHAN SHAHIN)। তিনি এখন হংকংয়ে বসবাসরত। এম আর খান শাহিনের জন্ম নোয়াখালীর এক অভিজাত পরিবারে। বাবা প্রয়াত আব্দুস সাত্তার খান ও মাতা প্রয়াত সালেমা খাতুনের তৃতীয় সন্তান শাহিন ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও আত্মপ্রত্যয়ী। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তার বেড়ে উঠা চট্টগ্রামের পাহাড়ি নৈসর্গিক সুন্দরের সাথে। এম আর খান শাহিন ১৯৮৫ সালে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ হতে ১৯৮৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। তিনি HSC-তে সম্মিলিত মেধা তালিকায় কুমিল্লা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে B.COM (HONS) এবং M.COM ডিগ্রি অর্জন করেন।
স্বপ্নালু মোঃ মাহমুদর রাহমান খান শাহিন পড়াশোনার পাট শেষে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকে Financial Analyst হিসেবে নিয়োগ পেলেও ব্যতিক্রমী কিছু করার সংকল্পে মূলধারায় গা না ভাসিয়ে নতুন কিছু করার প্রত্যয়ে হংকংয়ে আসেন। তিনি ১৯৯৪ সালের শেষের দিকে হংকং পৌঁছেন। হংকংয়ে বাংলাদেশি দূরের কথা বাঙালির সংখ্যাই ছিল হাতে গোনা। তিনি তার দক্ষতা ও মেধার সমন্বয়ে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরির সুযোগ লাভ করেন। দু’বছর প্রাইভেট কোম্পানিতে মোটা বেতনের চাকরি করলেও তার স্বপ্ন ও চেষ্টা তাকে সবসময় স্বাধীনভাবে কিছু করার জন্য হাতছানি দিতো। তিনি ভাবলেন, চাকরি করলে বেতনের কোনো ঝুঁকি নেই; কিন্তু এতে শুধু নিজের ভাগ্যই গড়ে তোলা হবে। দেশ এবং দেশের মানুষের জন্যে কিছুই করার সুযোগ থাকবে না। এই চিন্তা থেকেই তিনি ১৯৯৬ সালে গার্মেন্টস সেক্টরের ব্যবসা শুরু করলেন। অফিস নিলেন ঢাকার নিউ ডিওএইচএসে। হংকংয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাঙালিদের মধ্যে এম আর খান শাহিনরাই প্রথম ব্যাচ।

আত্মপ্রত্যয়ী এম আর খান শাহিন ১৯৯৬ সালে গার্মেন্টস খাতের ব্যবসা সংশ্লিষ্ট Trading, Export and Import কোম্পানি RK RESOURCES LTD প্রতিষ্ঠা করেন। সাফল্যের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার জনাব এম আর খান শাহিনকে Expatriate Bangladesh Remitter-2009 Category-A সম্মাননা প্রদান করে।
আর কে রিসোর্সেস লিমিটেডের মাধ্যমে এম আর খান শাহিন হংকং থেকে প্রতি বছরই প্রচুর পরিমাণ বিদেশি অর্থ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে সক্ষম হচ্ছেন। বাংলাদেশে যেখানে ব্যাংকিং সুদ হার ১০% এর উপরে, হংকংয়ে সেক্ষেত্রে .০১% থেকে ২% মাত্র। সরকার টু সরকারের মাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে হংকং থেকে এই ফান্ড এনে এখানকার বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে সহায়তা করেন। দেশে বিদেশি ফান্ড সোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে তিনি একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব।
এম আর খান শাহিন এনআরবি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে NRB CIP (Commercial Important Person) হিসেবে সম্মাননা প্রদান করেছে।
হংকংয়ে এম আর খান শাহিন অত্যন্ত পরিচিত মুখ। তিনি Bangladesh Association of Hongkong (BAHK) এর Founder Member এবং পরবর্তীতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি NRB CIP Association-এর যুগ্ম মহাসচিব।
সিআইপি এম আর খান শাহিন জানান, সরকার এবং উদ্যোক্তারা বিদেশি ফান্ড সোর্সিংয়ের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিলে বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে দ্রুত উন্নয়ন ঘটবে। তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকগুলো থেকে একজন উদ্যোক্তা যখন উচ্চহারে সুদের মাধ্যমে ঋণ নেন, তা কাজে লাগিয়ে ব্যবসাখাতে টিকে থাকাটা নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, বর্তমান বিশ্ব প্রতিযোগিতার। অনেক দেশের উদ্যোক্তাই মাত্র ২% বা তারও কম সুদে ঋণ সহায়তা নিয়ে পণ্য উৎপাদন করছে এবং এতে সে তার পণ্যমূল্য কম রাখতে পারছে- সেক্ষেত্রে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা দেশের ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে পণ্য উৎপাদন করলে সেই পণ্যের মূল্য বেশি রাখতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে তার পক্ষে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। আবার দেশেও যে পণ্য আমদানি হয়ে আসছে, সে পণ্যের মূল্য কম হওয়ায় বিদেশি পণ্যের কাছে দেশীয় পণ্য মার খেয়ে যাচ্ছে। এ জন্যে তিনি উদ্যোক্তাদের সোর্সিংয়ের মাধ্যমে বিদেশি ফান্ড এনে ব্যবহারের পক্ষপাতী। তার মতে, ব্যাংকগুলোও এই ফান্ড সংগ্রহ করে বিনিয়োগকারীদের স্বল্প সুদ হারে ঋণ দিতে পারে।

বর্তমান সরকারকে তিনি ‘ব্যবসা-বান্ধব’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার এনআরবি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের দেশে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ দিয়েছে। দেশে এনআরবি ব্যাংকও প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
ঋণখেলাপি প্রশ্নে এম আর খান শাহিন বলেন, দেশে ব্যাংক ঋণ পেতে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্নীতি এবং অনেক ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা ও প্রস্তাবিত শিল্প কিংবা ব্যবসা সঠিকভাবে যাচাই না করে ঋণ প্রদানের ফলেই এটি ঘটে।
নিষ্ঠাবান ব্যবসায়ী এম আর খান শাহিন বলেন, প্রত্যেক ব্যাংকেই ‘Asset Manager’ প্রয়োজন যারা সোর্সিংয়ের সাথে সম্পর্ক রেখে ব্যাংক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করবেন।
সুদর্শন এম আর খান শাহিনের স্ত্রীর নাম শাহনাজ মাহমুদ। তাদের এক মেয়ে এবং দুই ছেলে। মেয়ে ইউএসএর পেনসেলভেনিয়ার একটি মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়ন করছে। অন্য দু’সন্তান হংকংয়েই অধ্যয়নরত।
এম আর খান শাহিনের মতে, সন্তানরা শুধু পিতা-মাতার কাছেই সম্পদ নয়, তারা দেশেরও সম্পদ; তাদেরকে যথাযথ সুন্দর এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


