Uncategorized

ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে আয়ের ক্ষেত্রে কোডার্সট্রাস্ট বিপ্লব ঘটিয়েছে, সাঈদ মালিক

সাঈদ মালিক, ট্রাস্টি অ্যান্ড সিইও, কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশ

কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশ-এর ট্রাস্টি অ্যান্ড সিইও সাঈদ মালিক অনুষ্ঠানে বলেন, এখন বিশ্বব্যাপী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কার্যক্রমের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে। আর  সেই জনশক্তির ক্ষেত্রে ফ্রি-ল্যান্সার কার্যক্রম নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি নতুন ধারার পেশাজীবী তৈরি করছে- যারা ঘরে বসেই কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষ নারী জনশক্তি যাদের আয়ের কোনো পেশাজীবন ছিল না, তারাও ঘরে বসেই আয় করতে পারছেন। এ ক্ষেত্রে কোডার্সট্রাস্ট বিপ্লব ঘটিয়েছে। সাঈদ মালিক বলেন, আমরা যারা প্রবাসী বাংলাদেশি তারা প্রতি মুহূর্তেই নিজের দেশের কথা, দেশের মানুষের কথা ভাবি। আমরা উপলব্ধি করি, দেশের উন্নয়ন ছাড়া মানুষের উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশ সম্মানজনকভাবে টিকে থাকতে পারবে না। এই চিন্তাভাবনা থেকেই কো-ফাউন্ডার এবং প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আজিজ আহমদ কোডার্সট্রাস্ট গড়ে তুলেছেন এবং প্রথম থেকেই বাংলাদেশে এর কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, আমাদের এ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে।

সাঈদ মালিক বলেন, ১৯৭৩ সালে একজন মার্কিন অর্থনীতিবিদ বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষের বার্ষিক মাথপিছু আয় ৯০০ ডলার হতে ১২৫ বছর লাগবে। কিন্তু আজ সে কথাকে তুড়ি  মেরে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশ ৫০ বছরেই প্রমাণ করে দিয়েছে, তার সেই বক্তব্য সত্য ছিলনা। বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২৫৫৪ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। আমরা এখন আর নি¤œ আয়ের দেশ নই, ইতোমধ্যে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি এবং আশার কথা, এ দশকেই আমরা মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে সক্ষম হবো।  তিনি বলেন, এর পেছনে কোডার্সট্রাস্টের ভূমিকা স্বীকার্য। কারণ, ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এ প্রতিষ্ঠান স্কীল ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের আয় বৃদ্ধির সুযোগ করে দিয়েছে- যারা একসময় অর্থনৈতিক শক্তির কোনো অংশ ছিল না, সেই মানুষদের বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করছে, তাদের ইনকাম জেনারেটিংয়ের পদক্ষেপ হিসেবে আউটসোর্সিংয়ের বিশেষ কার্যক্রমে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।

সাঈদ মালিক বলেন, বিশ্বব্যাপী এখন ডিজিটাল মার্কেটিং কার্যক্রম বিদ্যমান। যে দেশ এই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে বেশি যুক্ত হতে  পেরেছে সেই দেশের উন্নয়ন ততো ত্বরান্বিত হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দ্বারা অধিকাংশ মানুষেরই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় না। সে ক্ষেত্রে কোডার্সট্রাস্ট প্রমাণ করে দিয়েছে বাড়তি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একদি যেমন আউটসোর্সিং করা সম্ভব, তেমনি প্রাতিষ্ঠানিক জব পেতেও সুবিধা হয়। তিনি বলেন, অনেকেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বিদেশে এলেও তাদের ‘অডজব’ করতে হয়।  সেক্ষেত্রে কোডার্সট্রাস্ট মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনকারীদের বিদেশে অডজব করতে হয় না। তিনি বলেন, আউটসোর্সিং করার এই ট্রেনিং কার্যক্রমকে ইতোমধ্যে সরকার সার্টিফায়েড ট্রেইনার হিসেবে সার্টিফিকেট দেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। এতে এই কার্যক্রমে আরও গতি সঞ্চার হবে।

তিনি বলেন, ওমেন এমপাওয়ারমেন্টের ধারায় কোডার্সট্রাস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আইসিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। আমাদের এই স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম সরকারের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, নারীর দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রামে পুরুষদের চেয়ে বেশি অগ্রগামী, কারণ তারা মনোযোগী। তারা ধৈর্যশীল। পাংচুয়াল। দেখা গেছে, ১০০০ জন নারীর মধ্যে ৭২৫ জন দক্ষতার উন্নয়নে এত ভালো করেছেন যে, তারা কাজ পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা ব্র্যাক, ইউএনডিপি, পিকেএসএফসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করে যাচ্ছি।

সাঈদ মলিক বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি দক্ষতা উন্নয়নের জন্যে যে কার্যক্রম চালু করেছে তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কোভিডের মুহূর্তেও আমরা অন-লাইনে ৪টা ক্যাম্পাসে ২৫০০ শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল ট্রেনিং দিতে সক্ষম হয়েছি। তিনি বলেন, এ ৪ বছরে প্রায় ৫০০০০ মানুষ কোডার্সট্রাস্টের মাধ্যমে দক্ষতার উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছে।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button