সাক্ষাৎকার

জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে

রেহান রেজা, রাজনীতিবিদ এবং সমাজসেবক ক্যানসাস, যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের শিল্প ও বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জের এক বিশিষ্ট রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য রেহান রেজা বর্তমানে বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তিনি সেকেন্ড কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যানসাস ডেমোক্রেটিক পার্টির দু’বারের ভাইস চেয়ারম্যান, এক টার্ম সেক্রেটারি। তিনি ২০১২, ২০০৮ এবং ২০০৪ সালে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। 

আত্মপ্রত্যয়ী ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী রেহান রেজার জন্ম ১২ নভেম্বর। তার পিতা মরহুম আলহাজ্ব আজিজুর রহমান। তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি। রেহানের মাতামহ আলহাজ্ব মোজাফফর আলী ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা। তার বড় মামা আফজাল হোসেন ছিলেন স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত নারায়ণগঞ্জের জেলা গভর্নর এবং তিনি দু’বার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তার আরেক মামা ওবায়দুল্লাহ হোসেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র। 

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক আবহের মধ্যে বড় হওয়া রেহান নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া জয়গোবিন্দ হাই স্কুল থেকে এসএসসি, সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। পরে আমেরিকায় যেয়ে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার লংবিচ প্যাসিফিক কলেজ থেকে বিএসসি এবং ক্যালিফোর্নিয়া Cal State University থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। রেহান রেজা স্কুলজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। তিনি তার মামা আফজাল হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণাসহ ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৮-১৯৮০ মেয়াদে তোলারাম কলেজ ছাত্র সংসদের কালচারাল সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। তাদের প্যানেল পূর্ণভাবে জয়ী হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮০ সালে শামীম ওসমান পূর্ণ প্যানেলসহ ভিপি নির্বাচিত হন। রেহান রেজা ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য একেএম শামসুজ্জোহা, সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন এবং বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান জনপ্রিয় নেতা আলী আহাম্মদ চুনকার নির্বাচনেও ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। রেহান রেজা ওই সময়ের সরকারি দল বিএনপি’র নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে ১৯৮১ সালে দেশ ত্যাগ করে আমেরিকা চলে আসেন। 

ইউএসএ এসে তিনি তার কর্মের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলস আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এখানকার কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৮৬ সাল থেকে ক্যানসাস রাজ্যের Midwest Awami League-এর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি Kansas Asian American Pacific Islander Caucus-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমান চেয়ারম্যান। তিনি ক্যানসাসের টোপিকার মেয়র কর্তৃক Human Relations Council এডভাইজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের গভর্নর Kathleen Sebelius (Past US Secretary of Health and Human Services) কর্তৃক তিন বছরের জন্যে Kansas Film Commission এর বোর্ড মেম্বার ছিলেন। 

রেহান রেজা শুধু রাজনীতি নিয়েই নয়, আমেরিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথেও সম্পৃক্ত। তিনি একজন বিশিষ্ট রোটারিয়ান। তিনি ২০১৭-১৮ সালে Rotary Club of Topeka-এর সেক্রেটারি ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইন্টারন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি বাংলাদেশ কমিউনিটির আন্তর্জাতিক সংগঠন FOBANA’র বর্তমান কমিটির আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার। রেহান রেজা Bangladesh Association of Greater Kansas City-এর বোর্ড মেম্বার এবং Islamic Center of Topeka ক্যানসাসের প্রেসিডেন্ট। তিনি Ethnic Enrichment Commission Representing Bangladesh-এর কমিশনার, Mid America Asian Cultural Association & Distressed Children & Infants International-এর উপদেষ্টা এবং University of Kansas Advancement Board Government Affairs-এর উপদেষ্টা।

সমাজসচেতন এবং মাটি ও মানুষের সাথে সম্পৃক্ত রেহান রেজা দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও মাতৃভূমি বাংলাদেশের টান অনুভব করেন। তিনি রোটারি ক্লাবের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৫০টি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করেছেন। তিনি রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ ডায়াবেটিক সেন্টারে একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছেন। তিনি এই ক্লাবের মাধ্যমে ২০১২ সালে আই ক্যাম্পের ব্যবস্থা করে অসংখ্য মানুষের চিকিৎসার সুযোগ করে দিয়েছেন। ২০১৩ সালে তার সহায়তায় সোস্যাল কাউন্সিল এবং সেভ দ্য চিলড্রেন প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রায় ২০০ হুইল চেয়ার বিতরণের ব্যবস্থা করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৫ সালে Islamic Center of Topeka-র প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি টোপিকার বেশ ক’টি অসহায় পরিবারকে শীতবস্ত্র এবং ৭০০ টার্কি দিয়ে তাদের জীবন মান উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। রোটারি ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে তিনি অনেক দেশেই ‘শেল্টার বক্স’  প্রকল্প গ্রহণ করে সেখানকার অসহায় মানুষদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। 

বাংলাদেশ কমিউনিটির উদ্যমী রাজনৈতিক ও সমাজসেবক ব্যক্তিত্ব রেহান রেজা আমেরিকা এবং বাংলাদেশ দুই দেশীয় সত্তাকেই গভীরভাবে ভালোবাসেন। তিনি মনে করেন- বাংলাদেশ তার শেকড় এবং আমেরিকা তার দেহ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক সৈনিক রেহান রেজা ১৯৭৮ সালে রাজনৈতিক বৈরী সময়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, একেএম শামসুজ্জোহা, আলী আহাম্মদ চুনকা এবং  জেনারেল (অব.) এম এ জি ওসমানীর সঙ্গে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল পরিদর্শন এবং কবর জিয়ারত করেন। 

রেহান রেজা বিশ্বাস করেন, বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ ক্রমেই এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, ‘মানবতার মা’ খ্যাত জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বেই বাংলাদেশ উন্নত একটি রাষ্ট্রে পরিণত হতে সক্ষম হবে।

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button