প্রতিবেদন

শেয়ারবাজারের উন্নয়নে রেমিট্যান্স কাজে লাগাতে চায় বিএসইসি

অর্থকণ্ঠ ডেস্ক

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের কারণে দেশে এখন রিজার্ভের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এসব রেমিট্যান্স শেয়ারবাজার উন্নয়নে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

১৫ মার্চ প্রবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) বিনিয়োগকারীদের নিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিএসইসি ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ এ কথা জানান। এনআরবিদের আইপিও আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে এই গণশুনানি আয়োজন করা হয়।

বিএসইসির কমিশনার বলেন, প্রবাসীদের সম্মান অনেক ওপরে। আমরা চাই তাদের পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ যেন অলস পড়ে না থাকে। সেটাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই। তাদের অর্থ বিনিয়োগ করে তারা  যেন মুনাফা অর্জন করতে পারে সেই সহযোগিতা আমরা করতে চাই। 

শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজারের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সকে কীভাবে সংযুক্ত করা যায় তা নিয়ে কাজ করছে কমিশন। এজন্য কমিশন প্রবাসীদের বিনিয়োগকে সহজ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে প্রবাসীরা নিটা হিসাবের মাধ্যমে সহজে যাতে বিনিয়োগ করতে পারেন সেই সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। নিটা হিসাবে খরচ কমিয়ে ৫৭৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসীদের সহযোগিতার জন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।

তিনি বলেন, বিও হিসাব খোলা সহজীকরণের লক্ষ্যে ডিজিটাল বিও চালু করা হয়েছে। এখন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে বিও হিসাব খোলা যাবে। এছাড়া বিদেশে লেনদেন করার ক্ষেত্রে ডিজিটাল বুথ চালু করা হয়েছে। গত মাসে দুবাইয়ে একটি ডিজিটাল বুথ খোলার মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে অনেক দেশেই এই বুথ চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজার এখন অনেক উন্নত। এটাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে কমিশন কাজ করছে। এই বাজারে প্রবাসীদের বিনিয়োগকে সাধুবাদ ও আমন্ত্রণ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে আইপিও আবেদন থেকে লেনদেন শুরু হওয়া পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান কমিয়ে আনতে কাজ করছে কমিশন। প্রতিটি আইপিওতে প্রবাসীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কোটা রাখা হয়েছে। এটা যেন প্রবাসীরাই পায় কমিশন সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। তাদের এই কোটার শেয়ার পাওয়া সহজীকরণের লক্ষ্যে আজ গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। এখান থেকে সহজীকরণের পরামর্শগুলো নিয়ে পরবর্তীতে কমিশনে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রেজাউল করিম বলেন, আইপিওতে প্রায় ৮০ হাজার প্রবাসী আবেদন করেন। যা লটারির মাধ্যমে শেয়ার বরাদ্দ ও রিফান্ড করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে বর্তমান পদ্ধতিতে প্রায় ২ মাস সময় লেগে যায়। আগামীতে দেশি বিনিয়োগকারীদের রিফান্ড প্রাপ্তির দিনেই প্রবাসীরাও যেন পায় তা নিয়ে কাজ করছে কমিশন।

গণশুনানিতে সমাপনী বক্তব্য রাখেন বিএসইসির কমিশনার মো. আব্দুল হালিম। এছাড়া ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মতিন পাটোয়ারি, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি শরিফ আনোয়ার  হোসেন গণশুনানিতে অংশ নেন।

অর্থকণ্ঠ ডেস্ক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button