প্রবাসে এমন অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব আছেন, যারা নিজ দেশের কৃষ্টি কালচারকেই অধিক প্রাধান্য দেন এবং সেই আলোকেই ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বাংলাদেশি আমেরিকান সুবর্ণা খান সেই ব্যক্তিত্বদেরই একজন যিনি যুক্তরাষ্ট্রের একজন উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী এবং সমাজকর্মী।
বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অত্যন্ত পরিচিত উদ্যোক্তা নারী ব্যক্তিত্ব সুবর্ণা খান বাংলাদেশের কালচার সংশ্লিষ্ট পোশাক শিল্প ‘দেশী লিবাস’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন তিনি প্রকৃত অর্থেই শেকড় সত্তা বাংলাদেশকে গভীরভাবেই ভালোবাসেন। নিজের আন্তরিকতা ও মমতা দিয়ে এই প্রত্যয়ী নারী বাংলাদেশের শাড়িকে আমেরিকাতেও জনপ্রিয় অবয়ব প্রদান করছেন। তিনি ২০১৫ সালে জর্জিয়াতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘দেশী লিবাস’। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ এবং এই জনপদের শাড়ি শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এটি সেখানকার নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশি সংস্কৃতির আমেজ নিয়ে উপস্থাপিত হয়েছে।

উদ্যমী উদ্যোক্তা সুবর্ণা খান সেখানে বিয়ে, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ও ঘরোয়া আয়োজনে এক ধরনের ইমেজ তৈরি করেছেন তার প্রাতিষ্ঠানিকতা দিয়ে। বিশেষ করে FOBANA’র মতো আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠানেও তার ‘দেশী লিবাস’ নিয়ে আসে জাঁকজমকপূর্ণ এক বাংলাদেশকে। নানা বিচিত্র রং ও সৌন্দর্যের পসরায় ভরপুর তার দেশী লিবাস। এ যেন এক ফুরফুরে মেজাজের অনন্য উপস্থাপন যা শুধু বাংলাদেশি আমেরিকানদেরই নয়, সৌন্দর্যপিয়াসি বিদেশিদেরও আকৃষ্ট করে।
তিনি মনে করেন, নতুন প্রজন্ম যাদের জন্ম আমেরিকায় এবং যারা বাংলাদেশ দেখার খুব একটা সুযোগ পায়নি তিনি তাদের মধ্যে বাঙালিয়ানাকে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। সুবর্ণা খান বলেন, বাঙালি নারীদের আদি ও মৌলিক পোশাক হচ্ছে শাড়ি, এই বস্ত্রেই তাদের শাশ্বত রূপ ফুটে ওঠে।
বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যাতে বাঙালি নারীরা রং বেরঙের শাড়ি পরে প্রজাপতির মতো উড়তে পারে সে জন্যে তার উদ্যোগ আয়োজনের কমতি নেই।
দেশী লিবাস একটি অনলাইন বিজনেস যা সমগ্র আমেরিকায় ভিন্ন ভিন্ন আকর্ষণীয় শাড়ি, কামিজ, জুয়েলারি সামগ্রী বিক্রি করে। এই কাজ করতে গিয়ে তাকে অনেক পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। তাকে বাংলাদেশি আমেরিকান নারীদের মনোজগতে নাড়া দিতে হয়েছে। আজ তার সেই উদ্যোগ ও পরিশ্রম সার্থক হয়েছে বলে সুবর্ণা খান মনে করেন।

‘দেশী লিবাস’কে গড়ে তুলতে তাকে যেমন বাংলাদেশের ঊৎপাদকদের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়তে হয়েছে, তেমনই বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী বাঙালি নারীদের পাশাপাশি নানা প্রান্তের উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হচ্ছে। ‘দেশী লিবাস’ এখন একটি ব্যবসা সফল প্রতিষ্ঠান যা বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত করছে। তিনি Federation of Bangladeshi Associations in North America-FOBANA’র কার্যক্রমে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। একইভাবে Bangladesh Association of Georgia (BAG), জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সুবর্ণা খান শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যেই নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেননি- বাংলাদেশি কালচারকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যেও কাজ করছেন। তিনি দুস্থ ও অসহায়দের সাহায্যার্থে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশে কাজ করে চলেছেন।
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধারায় তিনি আপ্লুত। সুবর্ণা খান বলেন, দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষ বন্ধ হলে বাংলাদেশ আরো দ্রæত উন্নতি করতে সক্ষম হবে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক



