বিশ্বের শীর্ষ উন্নত দেশ আমেরিকায় হাতেগোনা অল্প সংখ্যক বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসকই স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে সুনাম কুড়াতে সক্ষম হয়েছেন। তাদেরই একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ইফতেখার মাহমুদ। ফ্লোরিডার ক্যুপার সিটির এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দুস্থ ও অসহায় মানুষকে সেবা প্রদানকারী সংগঠন Hope Foundation-এর প্রতিষ্ঠাতা। এই সংগঠন ১৯৯৯ সালে আমেরিকায় প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং তা সেখানেই রেজিস্ট্রেশন হয়। শুরুতে একটি ছোট ক্লিনিকে এটি প্রতিষ্ঠা পেলেও ২০০৭ সাল নাগাদ এটি ১৮টি শাখায় বিস্তার লাভ করে।
মানবতার বন্ধু খ্যাত Hope Foundation-এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. ইফতেখার মাহমুদের বাড়ি কক্সবাজার জেলায়। সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ইফতেখার মাহমুদ চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। এমবিবিএস পরীক্ষায় পাস করার পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ শেষ করে চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করেন। একপর্যায়ে উচ্চ শিক্ষার্থে পাড়ি জমান আমেরিকায়। তিনি নিউ ইয়র্কের স্বনামধন্য হাসপাতাল Brooklyn Hospital, New York-এ শিশুরোগের ওপর পোস্টগ্রাজুয়েট প্রশিক্ষণ নেন, এরপর Cornell University Medical Center-এ Pediatric Endocrinology’র ওপর পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেনিং শেষ করেন। ইতোমধ্যে ডা. ইফতেখার মাহমুদ শিশু চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রভ‚ত সুনাম অর্জন করেন। মেধাবী ইফতেখার মাহমুদ শিশুরোগ বিষয়ে বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে অতিথি বক্তা হবার সুযোগ লাভ করেন। তিনি জাতিসংঘ, হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল, Tufts Medical School, Nova Southeastern University সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে শিশুরোগ ও এর প্রতিকার সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।

এই কৃতী চিকিৎসক অনেক চ্যারিটেবল ওয়ার্কের সাথেও জড়িত। তিনি ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন Hope Foundation. আমেরিকায় একটি ক্ষুদ্র ক্লিনিকে এর যাত্রা শুরু। ২০০৫ সালে Hope Hospital প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ডা. ইফতেখার মাহমুদ ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন Multiple Hope Birth Centers, বর্তমানে এই সেন্টারের সংখ্যা ১৮টি। ২০১০ সালে এই চিকিৎসক ব্যক্তিত্ব আমেরিকায় Obstetric Fistula প্রোগ্রাম শুরু করেন যা এখন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি। এই কর্মবীর ২০১০ সালে Hope Training Center প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১২ সালে Midwifery Training Program চালু করেন যা বাংলাদেশের জন্যে প্রথম কর্মসূচি ছিল।
মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ডা. ইফতেখার মাহমুদ ২০১৮ সালে কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা নারীদের সুচিকিৎসার জন্যে Hope Field Hospital প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৯ সালে তিনি Cervical Cancer প্রোগ্রাম শুরু করেন। একই সালে তিনি টেলিমেডিসিন প্রোগ্রাম ও মেন্টাল হেল্থ প্রোগ্রাম চালু করেন। ২০২০ সালে HOPE Foundation-এর মাধ্যমে ডা. ইফতেখার মাহমুদ COVID আইসোলেশন সেন্টার চালু করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকার এবং UNFPA‘র যৌথ সহায়তায় চট্টগ্রাম বিভাগে Fistula Program শুরু করেছেন।
ডা. ইফতেখার মাহমুদ বিবাহিত এবং ৩ পুত্র সন্তানের জনক। তাঁর প্রতিষ্ঠিত Hope Foundation বাংলাদেশের গ্রামীণ নারী ও শিশুদের জীবনরক্ষায় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে।

ডা. ইফতেখার মাহমুদের মহতী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত Hope Foundation ইতোমধ্যে কক্সবাজার শহরে ৪০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও রোহিঙ্গা শিবিরে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছে। গ্রামীণ অসহায় নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবায় কাজে লাগানোর লক্ষ্যে প্রায় ১০০০ স্বাস্থ্যকর্মী ও ৭০ জন নার্সকে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। Hope Foundation-এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি নারী ও শিশুকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করেছে।
মানুষ মানুষের জন্যে এই আদর্শে বিশ্বাসী ডা. ইফতেখার মাহমুদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তিনি এমনভাবে দেশব্যাপী ঐড়ঢ়ব Hope Foundationকে বিস্তৃত করতে চান যাতে বাংলাদেশে অকালে করুণভাবে মাতৃ এবং শিশুমৃত্যু না ঘটে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক



