প্রতিবেদন

মোহাম্মদ আলী খোকন দেশের শিল্প বাণিজ্য অঙ্গনে সফল ও মেধাবী উদ্যোক্তা

এনামুল হক এনাম

‘সরকার যদি ব্যবসাবান্ধব হয় তবে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা আনন্দ চিত্তে ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণ করে’

দেশের শিল্পবাণিজ্য অঙ্গনে সফল মেধাবী উদ্যোক্তাদের একজন ম্যাকসন্স গ্রæপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ আলী খোকন। তিনি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রেসিডেন্ট। তারুণ্যে উজ্জীবিত স্বপ্নদর্শী মোহাম্মদ আলী খোকন নিজের মেধা, শ্রম এবং আত্মবিশ্বাসের জোরে গড়ে তুলেছেন দেশখ্যাত শিল্প সাম্রাজ্য ‘ম্যাকসন্স গ্রুপ’।
উদ্যমী ও আত্মপ্রত্যয়ী সুদর্শন উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলী খোকনের জন্ম ১৯৬২ সালের ২৫ ডিসেম্বর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে। তার পিতা মরহুম ডা. মোহাম্মদ আব্দুল হক চাকরি সুবাদে সে সময় পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন। খোকনের পৈতৃক বাড়ি লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জে। মোহাম্মদ আলী খোকনের মায়ের নাম মিসেস শামসুন্নাহার।
দেশখ্যাত উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলী খোকনের পড়াশোনার শুরু পশ্চিম পাকিস্তানের করাচিতে। সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত তিনি ওখানেই পড়েন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কার্যত তারা অবরুদ্ধ ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি পরিবারের সাথে দেশে ফিরেন। ছাত্র হিসেবে মেধাবী মোহাম্মদ আলী খোকন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ব্যবসার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। পড়াশোনা শেষে শুরুতে ঠিকাদারি ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হলেও এক বন্ধুর পার্টনারশীপে অনেকটা বিনা পুঁজিতেই নিজেদের মেধা, শ্রম এবং আত্মপ্রত্যয়কে কাজে লাগিয়ে টেক্সটাইল ব্যবসায় সম্পৃক্ত হন। ২০টি উইভিং মেশিন দিয়ে টেক্সটাইল শিল্পের যাত্রা শুরু করেন। পরে এককভাবে ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে গড়ে তোলেন ম্যাকসন্স গ্রæপ। তিনি এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর। ম্যাকসন্স গ্রুপভুক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে মেট্রো স্পিনিং লিমিটেড, ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস লিমিটেড, ম্যাকসন্স অ্যাপারেলস লিমিটেড, ম্যাক্সসন্স প্রোপার্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, ম্যাককট ইন্টারন্যাশনাল, ম্যাক ফ্যাশন লিমিটেড, লামনিয়া অ্যাপারেলস লিমিটেড। তিনি দেশের ইন্স্যুরেন্স খাতেরও একজন উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব। তিনি এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালক। এসব ব্যবসার বাইরে তিনি রিয়েল এস্টেট, শিপিং, ট্রেডিং এবং এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যবসার সাথেও জড়িত।
দেশমাতৃকার গর্বিত সন্তান মোহাম্মদ আলী খোকন বেশ কিছু ব্যবসায়িক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশনের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। এর আগে তিনি চারবার এ সংগঠনের নির্বাচিত পরিচালক ছিলেন। তিনি বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর সাথেও সম্পৃক্ত। তিনি বাংলাদেশ জার্মান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির গোল্ড মেম্বার ও সদ্য সাবেক পরিচালক এবং এফবিসিসিআই-এর সাবেক সাধারণ সদস্য।

স্বপ্নদর্শী মোহাম্মদ আলী খোকন গুলশান ক্লাব লিমিটেড, ঢাকা ক্লাব, উত্তরা ক্লাব লিমিটেড, আর্মি গলফ ক্লাব, কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের সদস্য। তিনি বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমির আজীবন সদস্য এবং চট্টগ্রাম বোট ক্লাবের স্থায়ী সদস্য। এই কৃতী উদ্যোক্তা এক সময় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট’ বিষয়ে গেস্ট স্পিকার ছিলেন। আকর্ষণীয় চেহারা ও ব্যক্তিত্বের অধিকারী মোহাম্মদ আলী খোকন ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কারণে বিশ্বের অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অমিত সম্ভাবনার দেশ। এ দেশের দ্রুত ধাবমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিশ্বকে ইতোমধ্যেই নাড়া দিয়েছে।
তার মতে, এদেশের অধিকাংশ উদ্যোক্তাই সেল্ফ মেড। দেশের যে উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে এর পেছনে বেসরকারি উদ্যোক্তারাই মূল ভ‚মিকা পালন করে চলেছেন।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এবং ম্যাকসন্স গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ আলী খোকন একজন স্পষ্টবাদী হিসেবেও ব্যবসায়ী মহলে সুপরিচিত। তিনি মনে করেন, সরকার যদি ব্যবসাবান্ধব হয় তবে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা আনন্দ চিত্তে ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণ করে। তার মতে, বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক উদ্যোক্তাই হতাশ হয়ে পড়েন। ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার’ চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনে মোহাম্মদ আলী খোকন উদ্যমী, বন্ধুবৎসল, হাসিখুশি মানুষ। সুগৃহিণী লায়লা আলী তার সহধর্মিণী। তাদের দুই সন্তান সানজিদ হাসান অমিত এবং নাভেল হাসান নওরিত। সানজিদ হাসান অমিত কানাডার ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ (ফিন্যান্স) ডিগ্রি অর্জনের পর দেশে ফিরে পিতার ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন আর নওরিত বর্তমানে কানাডার হাডসন কলেজে অধ্যয়ন করছেন। আলোকিত উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আলী খোকনের মতে, ব্যাংক ঋণে সুদের হার এদেশে অত্যধিক। এটি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের হতাশ করে দেয়। সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এলে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতা আরো বাড়বে।
তিনি বলেন, এদেশে শ্রমের মূল্য অন্য দেশের তুলনায় সস্তা হলেও স্কিলনেসের অভাব রয়েছে। এই শ্রমিক সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে এ সেক্টরের জন্য আলাদাভাবে ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ভারতে যেখানে একই ধরনের শিল্পে শ্রমিক লাগে ১০০ জন, আমাদের এখানে লাগে ১২৫ জন। গার্মেন্টস খাতে আমরা যেখানে একই সময়ে প্রোডাকশন করি ১০০০ পিস, চায়না করে ১৫০০ পিস। এতে করে শ্রমবাজার সস্তা হলেও দক্ষতার অভাবে আমরা পিছিয়ে আছি। তিনি বলেন, অধিক জনসংখ্যাও তেমন কোনো সমস্যা হয় না, যদি সেই জনসংখ্যা প্রয়োজনীয় দক্ষতার মাধ্যমে জনশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ স্বল্প সময়ের মধ্যেই উন্নত দেশে পরিণত হতে সক্ষম হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button