এ বছরের ৩৩তম ফোবানা সম্মেলন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক লং আইল্যান্ডের বিখ্যাত নাসাউ কলিসিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ফোবানা কনভেনশন ২০১৯-এর কনভেনর নার্গিস আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে এবিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশিদের সর্ববৃহৎ ফেডারেশন, ফেডারেশন অব বাংলাদেশি এসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)। বিভিন্ন স্টেটে বসবাস করা বাংলাদেশিদের পরিচালিত সংগঠনগুলোর সম্মিলিত একটি ফেডারেশন এই ফোবানা। ফোবানা হলো সংগঠনের সংগঠন। ১৯৮৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত প্রথম সম্মেলনের মাধ্যমে ফোবানার যাত্রা শুরু হয়। গত ৩২ বছরে বিভিন্ন স্টেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফোবানা সম্মেলন। ৩৩তম ফোবানা সম্মেলনের আয়োজক সংগঠনের দায়িত্ব পেয়েছে নিউ ইয়র্কের অত্যন্ত পুরনো জনপ্রিয় নাট্য সংগঠন ড্রামা সার্কল। এর আগেও নিউ ইয়র্ক শহরে একাধিকবার ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও এবারের আয়োজনটি, সম্মেলনের ভেন্যু, অনুষ্ঠানের ব্যাপ্তি, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দর্শকের সংখ্যা সব দিক থেকেই অতীতের সকল আয়োজনকে ছাড়িয়ে যাবে। এবারের ৩৩তম ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বিখ্যাত নাসাউ কলিসিয়ামে। ১৭ হাজার আসনবিশিষ্ট এই ইনডোর ভেন্যুটি আমেরিকার সেরা ১০টি ভেন্যুর মধ্যে একটি। আমেরিকার অন্যতম সেরা এই ভেন্যুতে বাংলাদেশিরা প্রথম বারের মতো কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করতে যাচ্ছেন এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে আমেরিকার মূলধারায় ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের সম্মেলনের অফিসিয়াল হোটেল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে লং আইল্যান্ড ম্যারিয়ট হোটেল। যেখানে ৬০০টি রুম সম্মেলনের জন্য ব্যবহার করবেন বিভিন্ন স্টেট থেকে আসা অংশগ্রহণকারী অতিথিরা। এছাড়াও ভেন্যুর পাশেই আরো ২টি হোটেল, শেরাটন এবং হায়াতেও সম্মেলনের জন্য রুম বুকিংয়ের সুবিধা থাকবে। আমেরিকার ১৭ স্টেট থেকে ৭৬টি সংগঠন অংশ নেবে এবারের সম্মেলনে।
সংগঠনগুলোর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছাড়াও বাংলাদেশ এবং উপমহাদেশের প্রায় দুই ডজন তারকা শিল্পী অংশগ্রহণ করবেন অনুষ্ঠানগুলোতে। বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে বেশ ক’জন সাংবাদিক, সংস্কৃতি কর্মী, বুদ্ধিজীবী এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্তা ব্যক্তিদের। নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র, গভর্নরসহ আমেরিকার মূলধারার ৩০ জনেরও অধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে এবারের সম্মেলনের মূল অনুষ্ঠানে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের সম্মেলনের শ্লোগান হলো Our Children Our Pride. আমেরিকায় ভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা প্রবাসী বাংলাদেশিদের দ্বিতীয় প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের নিয়েও রয়েছে বেশ কিছু পরিকল্পনা। মূলধারায় বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে বিশেষ খ্যাতি পেয়েছেন, কিংবা বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন এমন সেরাদের সেরা ১০ জনকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হবে। এছাড়াও Youth Conference নামে বিশেষ সেশন পরিচালনার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী দ্বিতীয় প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের অন্তর্ভুক্তি থাকবে এবারের সম্মেলনে।
সম্মেলনে স্থান পাবে ৮টি বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, কাব্য জলসা এবং সাহিত্য আড্ডা। ফোবানা ২০১৯ মিউজিক আইডল ও মিস ফোবানা ২০১৯ নামে দুটি ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতাও অন্তর্ভুক্ত থাকছে এবার।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, বিজনেস নেটওয়ার্কিং লাঞ্চ নামে একটি হাই প্রোফাইল বিজনেস সেশনে অংশগ্রহণ করবেন আমেরিকার বিভিন্ন চেম্বার ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা, অংশ নেবেন বাংলাদেশ থেকে বেশ ক’জন বিজনেস পারসোনালিটি; এছাড়াও বিভিন্ন দেশে বসবাস করা None Resident Bangladeshi (NRB) ব্যবসায়ীরাও অংশগ্রহণ করবেন এই ইভেন্টে। বিজনেস নেটওয়ার্কিং লাঞ্চ অনুষ্ঠানের ইভেন্ট পার্টনার বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিন। সম্মেলনের মূল এ্যারিনার সঙ্গেই ৬০ হাজার স্কয়ার ফিটের বিশাল এক্সপো সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে ফোবানা এক্সপো, যেখানে থাকবে ১৫০টি স্টল।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্পন্সরদের স্টল ছাড়াও মুখরোচক নানা খাবার, বাংলাদেশি বিভিন্ন পণ্যের স্টলসহ স্বাস্থ্য সেবা, জব ফেয়ার, আবাসন ফেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের স্টল থাকবে ফোবানা এক্সপোতে। নিউ ইয়র্কে ৩৩তম ফোবানা সম্মেলন তিন দিনে ২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশিদের পদচারণায় মুখরিত হবে এবং আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সর্ববৃহৎ মিলনমেলায় পরিণত হবে সেই প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আতিকুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান ফোবানা, চেয়ারম্যান বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট স্টান্ডিং কমিটি; রাকিবুল করিম বেলাল, সাবেক চেয়ারম্যান, ফোবানা, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ লিয়াইসন স্ট্যান্ডিং কমিটি; ড. জয়নুল আবেদিন, সাবেক চেয়ারম্যান, ফোবানা; কবির কিরন, এক্সিকিউটিভ মেম্বর, ফোবানা; এনামুল হক এনাম, কো-চেয়ারম্যান, বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি; হেলেনা জাহাঙ্গীর, কো-চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ লিয়াইসন স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং মোহাম্মাদ আনিসুল কবির জাসির, কো-চেয়ারম্যান, গুডউইল অ্যান্ড প্রোমোশন স্ট্যান্ডিং কমিটি।


