অর্থনীতিপ্রতিবেদন

বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিস্মৃত হলে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না

ইজ্জি হোসাইন, বিশিষ্ট প্রকৌশলী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

পৃথিবীতে মেধা ও প্রতিভার জয় সুনিশ্চিত। এর বড় প্রমাণ বাংলাদেশি আমেরিকান ইজ্জি হোসাইনের প্রতিষ্ঠালাভের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়। তিনি তার মেধা, মনন, প্রতিভা এবং কর্মপ্রয়াস দ্বারা প্রকৌশলী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উভয় দিক থেকেই আলোকিত অবস্থানে উঠে আসতে সক্ষম হয়েছেন। ইজ্জি হোসাইন বর্তমান সময়ের একজন বুদ্ধিজীবী হিসেবেও বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন।

ইজ্জি হোসাইন ছোটবেলা থেকেই দারুণ মেধাবী। তিনি ঢাকার শীর্ষ পর্যায়ের স্কুল হলিক্রস গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্র যান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের Urbana Champaign-i University of Illinois থেকে ১৯৯৭ সালে ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে MSEEE ডিগ্রিও অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি আমেরিকার শীর্ষ নারী প্রকৌশলীদের অন্যতম। একজন মেধাবী বুদ্ধিদীপ্ত প্রকৌশলী হিসেবে তিনি তার পেশাজীবনে যেমন সফলতা অর্জন করেছেন, তেমনি শিল্প-সংস্কৃতির ভুবনে একজন উদীয়মান তারকা হিসেবেও প্রতিষ্ঠা লাভে সক্ষম হয়েছেন।
প্রতিভাবান ও আত্মপ্রত্যয়ী ইজ্জি হোসাইন ২০ বছরের অধিক সময় ধরে একজন দক্ষ প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। তার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা ইতোমধ্যে তাকে প্রযুক্তি খাতে অনেক ধরনের উন্নত ধারায় কাজের সাথে সম্পৃক্ত হবার সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের একজন বিজ্ঞ পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত। তাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করেন কেন তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে যোগ দিয়েছেন- তার উত্তর ‘I have a love & passion for STEM’.
বর্তমানে তিনি বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত Intel এর Engineering Manager. ‘ইনটেল’ মূলত প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের মাধ্যমে কম্পিউটারের প্রসেসর নির্মাতা হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছে। বর্তমানে এ কোম্পানি কম্পিউটারের অন্যান্য ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

প্রকৌশলী ইজ্জি হোসাইন Tech. Staff & AT & T এর সিনিয়র মেম্বার। তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত নিউ জার্সির মেরী হিল এর Bell Labs/Lucut Technologies এর প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যবসায়ী এই সুদর্শনা প্রকৌশলী শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং খাতেই নিজেকে যুক্ত রাখেননি- তিনি গানের শিল্পী ও আবৃত্তিকার হিসেবেও সমধিক পরিচিত। ছোটবেলা থেকেই তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে সম্পৃক্ত। INTEL-এর মতো বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে কাজের ব্যস্ততা তার মনোজগত এবং মননকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি। তিনি নিয়মিত কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করেন। বিশেষ করে রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী হিসেবে তিনি বেশ নাম করেছেন। তার আবৃত্তি মানুষকে আকৃষ্ট করে।
বিদেশেও বাঙালি সংস্কৃতিকে তিনি মনেপ্রাণে লালন করেন। আমেরিকার টেক্সাসের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ইজ্জি হোসাইনের পরিচিতি একজন বিশিষ্ট শিল্পী হিসেবে। তার কন্যা Alyina National TV-তে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে থাকেন। প্রতিভাময়ী মায়ের সুকন্যা এলিয়ানার COVID-19 বিষয়ক ফিচার DELL-এর কমার্শিয়াল প্রচারণায় প্রচার করা হয়েছে। Areeb Hossain ও একজন বিশিষ্ট স্কলার। তিনি পরিবেশ প্রকৌশলী হিসেবে National Science Foundation থেকে MS-Phd  থেকে গঝ-চযফ সম্পন্ন করেছেন।
ইজ্জি হোসাইন একজন চিত্রশিল্পীও। বৈশ্বিক উষ্ণতা বিষয়ে তিনি পেইন্টিং সিরিজ এঁকেছেন। তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের গল্প পড়তে ভালোবাসেন। তিনি বিদেশে ব্যস্ততা ও প্রাচুর্যের মধ্যে থেকেও বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি কমিউনিটির বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নেন। ইজ্জি হোসাইন প্রায় সময়েই বলেন, বাংলাদেশ আমাদের শেকড়, এই শেকড় শুকিয়ে গেলে গাছ বাঁচে না। আমরাও যদি বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিস্মৃত হই তবে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না।

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button