বাংলাদেশ এখন শুধু রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যেই আবদ্ধ নেই। এদেশের উদ্যোগী, পরিশ্রমী এবং মেধাবী সন্তানেরা বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন। সেই উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদেরই একজন আবুল কালাম সিআইপি। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এর ইলেক্ট্রনিক্স খাতের বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান ‘স্টারগোল্ড ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানি এলএলসি’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ‘স্টারগোল্ড গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল কালামের জন্ম কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কালির-বাজার ইউনিয়নের ধনুয়াখলা আদর্শ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তার পিতার নাম হাজী মো: আলী হোসেন ও মাতার নাম সাকেরা বেগম। তাদের পরিবার অনেক বড়। ৭ ভাই-বোনের মধ্যে আবুল কালাম পঞ্চম।

ছাত্র জীবনে অনেকেই বড় ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন দেখলেও আবুল কালাম স্বপ্ন দেখতেন বড় ব্যবসায়ী হবার। কারণ, ব্যবসায়ীরা স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে পারেন। চাকরিজীবীরা তা পারেন না। তার পিতাও ছিলেন এলাকার স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। দূরদর্শী আবুল কালাম ১৯৯৮ সালে অল্প বয়সেই পারিবারিক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি সৌদি আরবের রিয়াদে পাড়ি জমান। সেখানে যাবার পর অল্প সময়েই তিনি ব্যবসায়িক সব কিছু নিজের আয়ত্তে আনতে সক্ষম হন এবং ব্যবসার পরিধি বিস্তারের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি ২০০০ সালে দুবাই, হংকং ও চীন সফর করেন এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করেন। সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসার পরিধি বিস্তারের লক্ষ্যে ২০০৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ‘স্টারগোল্ড ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানি এলএলসি’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
পড়াশোনার প্রতিও তার অদম্য স্পৃহা রয়েছে। যে কারণে ব্যবসার পাশাপাশি তিনি Cambridge International College UK থেকে International Diploma অর্জন করেন। উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী আবুল কালাম কনজুমারদের জন্যে মানসম্পন্ন পণ্য সহজলভ্য উপায়ে উপস্থাপনের লক্ষ্যে এবং পণ্যের গুণাগুণ ভালো রাখার জন্যে কিছু ব্র্যান্ড সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। এসব ব্র্যান্ডের মধ্যে স্টারগোল্ড, স্টারলাইফ ও ভিআইপি ট্যুর অন্যতম। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সাথে জড়িত। এসব ব্যবসার মধ্যে রয়েছে স্যাটেলাইট এক্সেসরিজ, কনজুমার ইলেক্ট্রনিক্স, হোম এপ্লায়েন্সেস, হোম টেক্সটাইলস, লাইটিং পণ্য, ট্রাভেল পণ্য, পারফিউমারি, রিয়েল এস্টেট, হাইপার মার্কেট ও সুপার মার্কেট। সুদর্শন, স্মার্ট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অঙ্গন সম্পর্কে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব আবুল কালাম এর স্টারগোল্ড গ্রুপের ব্যবসায়িক পরিধি সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, চায়না, হংকং ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সরাসরি পরিচলিত হচ্ছে। এই পরিশ্রমী মানুষটির প্রচেষ্টায় স্টারগোল্ড গ্রুপের পণ্য মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের প্রায় ৯৫টি দেশে সুনামের সাথে বাজারজাত হচ্ছে। বাংলাদেশের কৃতী সন্তান আবুল কালাম শুধু ব্যবসারই বিস্তৃতি ঘটাননি তিনি তার এই গ্রুপ অব কোম্পানিতে ৭০০ এর অধিক বাংলাদেশিকে চাকরি দিয়ে দেশের মানুষের কর্মসংস্থান এবং দেশে রেমিটেন্স প্রেরণের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্যে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তিনি যে একজন দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব এর মধ্য দিয়ে সে প্রমাণ মেলে।

আবুল কালাম বর্তমানে ‘স্টারগোল্ড গ্রুপ অব কোম্পানিজ’ দুবাই এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দক্ষতার সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। তার অধীনে ও তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন দেশে অনেক কোম্পানি রয়েছে। এসবের মধ্যে স্টারগোল্ড ইলেক্ট্রনিক্স কো এলএলসি, Shamma Perfumes Industry L.L.C., Starhome Hypermarket অন্যতম। তারুণ্যে উজ্জীবিত ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব আবুল কালাম মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ী মহলের কাছে একজন সফল তরুণ ব্যবসায়ী হিসেবে সমাদৃত। তার অবদান যেমন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুবিদিত তেমনি বিশ্ব বাণিজ্যেও। এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত ব্যবসায়ীদের জন্যে সর্বোচ্চ পদক ও সম্মাননা সিআইপি (এনআরবি) অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত হন এবং ধারাবাহিকভাবে পরপর পাঁচবার (২০১৩, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৭) এই সম্মাননা পদক লাভ করেন। তিনি ২০১৪ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদানের জন্যে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন।
ব্যবসায়ী ও গুণী এই মানুষটি দেশে-বিদেশে নানা কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ অসংখ্য পদক ও সম্মাননা পেয়েছেন। আবুল কালাম শুধু কুমিল্লা জেলার কৃতী ব্যক্তিত্বই নন তিনি উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী হতে ইচ্ছুক নতুন প্রজন্মের নিকট রোল মডেল। নিরহঙ্কারী আবুল কালাম নিজ এলাকাসহ আশপাশের অনেক দরিদ্র অসহায় মানুষের কল্যাণার্থে সহযোগিতা প্রদান করেন। এ জন্যে তিনি ২০১০ সালে ‘আবুল কালাম ফাউন্ডেশন’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। যার মাধ্যমে দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ান। দুস্থ অথচ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সহযোগিতা করেন। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট।
আবুল কালাম বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত। তিনি বর্তমানে Bangladesh Business Council Dubai এর ফাউন্ডার এক্সিকিউটিভ মেম্বার, এনআরবি সিআইপি এসোসিয়েশনের ফাউন্ডার মেম্বার এবং কুমিল্লা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, ইউএই এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট।
দেশের এই কৃতী সন্তান শুধু নিজের উন্নয়নের কথাই ভাবেন না। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে যদি দুর্নীতিমুক্ত রাখা যায় তবে অতি দ্রæতই বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে সক্ষম হবে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক



