প্রতিবেদন

বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হয়েছে

এবাদুল করিম এমপি চেয়ারম্যান অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর, বিকন গ্রুপ

ছিলেন দেশখ্যাত উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব, গড়ে তুলেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ‘বিকন গ্রুপ’। তিনি এবাদুল করিম, এই শিল্পগ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর। এখন তার পরিচয়ের মাত্রা আরও এক ধাপ বেড়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এখন তিনি শুধু ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্বই নন- রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জামাও গায়ে জড়িয়েছেন।
স্বপ্নদর্শী মানুষ এবাদুল করিম শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বেশ ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনার উদ্যোক্তা। দেশের ওষুধ শিল্পখাতে যে প্রতিষ্ঠানটি দুরারোগ্য ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধ উৎপাদন করে দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা অর্জনে সক্ষম হয়েছে- সে ওষুধ প্রতিষ্ঠানের নাম বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বিদেশেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হয়েছে। আর এটি হবেই বা না কেন? তারা দেশের শিল্প-বাণিজ্যে অগ্রসরমান পরিবার। তার বড় ভাই ওবায়দুল করিম আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্প গ্রুপ ‘ওরিয়ন গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর। এবাদুল করিম নিজেও ওরিয়ন গ্রুপের পরিচালক।


এবাদুল করিম বিশুদ্ধ চিন্তার মানুষ। তিনি সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে নিজের শিল্প প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মানের করেই গড়ে তুলেছেন। সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন ভাবনাসমৃদ্ধ এবাদুল করিম অনুভব করেছেন যে, এদেশের মানুষ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই অসুখের ওষুধ দুষ্প্রাপ্য। বাংলাদেশের মতো পশ্চাৎপদ দেশে এই ওষুধ প্রাপ্তি আরও প্রকট। তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন কীভাবে ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ওষুধ উৎপাদন করা যায়। তিনি এ নিয়ে একদল দক্ষ বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে দীর্ঘ সময় গবেষণা করেছেন এবং এক পর্যায়ে ক্যান্সারের চিকিৎসায় বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস বেশ কিছু কার্যকর ওষুধ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। যে ওষুধ দেশেই নয়, বিদেশেও বাজারজাত হচ্ছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ভালুকা এলাকায় বেশ নান্দনিক সৌন্দর্যমন্ডিত এই শিল্প-কারখানা অনেকেরই নজর কাড়ে। পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনায় নির্মিত এই শিল্প- কারখানার সব কিছু যে কোনো বিদেশি পর্যটককেও আকৃষ্ট করে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে- এটা কি বাংলাদেশের কোনো ইন্ডাস্ট্রি! এর বাইরের পরিবেশ যেমন মনোমুগ্ধকর তেমনি ভেতরের কার্যক্রমের ধারাও যথেষ্ট স্বাস্থ্যসম্মত। এখানে কর্মরতদের ব্যাপক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সম্মতভাবে কাজ করতে হয়।
বিশ্বমানের এই ফ্যাক্টরিতে ঘুরে দেখা যায়, এখানে ওষুধ উৎপাদনকারী শিল্প স্থাপনের প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পৃথিবীর সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্যাকেটিং এবং বোটলিং সবই করা হয় আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে।
উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব এবাদুল করিমের আন্তরিক প্রচেষ্টা, একাগ্রতা ও বিচক্ষণতার সোনালি ফসল বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। এ ক্ষেত্রে তার অধ্যবসায় এবং প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই। এতো বিশাল বড় মাপের উদ্যোক্তার মধ্যে কোনো অহংকারবোধ নেই। খুবই সাদাসিধে সাধারণ মানুষের মতোই তার চালচলন। বুদ্ধিদীপ্ত এই মানুষটির একটাই ধ্যান ও জ্ঞান তা হচ্ছে- দেশের ওষুধ শিল্পখাতকে আরও উন্নত এবং সমৃদ্ধ করা।
দূরদর্শী উদ্যোক্তা এবাদুল করিম ওষুধ শিল্পখাতে একটি ব্র্যান্ড ইমেজ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। বিকন ব্র্যান্ড-এর ওষুধ বলতেই চিকিৎসকরা বুঝে নেন মানসম্মত ওষুধ। বাংলাদেশের মতো দেশে যে এতো মানসম্মত ওষুধ তৈরি হয় তা বুঝা যায় যখন বিকন-এর ওষুধ বিদেশে এমনকি উন্নত দেশগুলোতে রপ্তানি হয়। ওষুধ বিপণনের ক্ষেত্রে তার চিন্তা চেতনা বেশ আধুনিক। তিনি মনে করেন, একজন ভালো উদ্যোক্তা যেমন ভালো মানের পণ্য উৎপাদন করে, তেমনি সেই পণ্য বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রেও যতœবান হয়। তিনি বিকন-এর ওষুধের মোড়কে মানসম্মতভাবে ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণের প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরেন।
এবাদুল করিম একজন মানবদরদী ব্যক্তিত্ব। মেধাবী, বিচক্ষণ এবং কর্মপ্রিয় এবাদুল করিমের দর্শন হচ্ছে- নিজের উন্নয়ন চিন্তার পরেই পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখা। তিনি বলেন, আমি যদি অন্যের মঙ্গল চিন্তা করি তখন অন্যেও আমার মঙ্গল চিন্তায় আত্মস্থ হবে। তার পরামর্শ হচ্ছে, এই বিষয়টি যদি শিশুদের শিক্ষাক্রমের সময়ে তাদের মধ্যে জাগ্রত করা যায়, তবে প্রতিটি শিশুই প্রকৃতভাবে মানুষ হিসেবে বিকশিত হবার সুযোগ লাভ করবে। তখন আর পৃথিবীর মানুষের মধ্যে হানাহানি-বিবাদ ও পারস্পরিক বিরোধ থাকবে না। সবাই একটা সৌহার্দ্যরে মধ্যে বাস করার সুযোগ পাবেন। তিনি মনে করেন, অনিয়ম দুর্নীতি সহিংসতা বন্ধে একদিকে যেমন শিশুদের মানস গঠন করতে হবে, তেমনি সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তিনি মনে করেন মানুষকে অবশ্যই মঙ্গল চিন্তার অধিকারী হতে হবে।
বিকন গ্রুপ-এর উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব এবাদুল করিম সব সময়ই বলেন, প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে যার পণ্যের মান ভালো, যে প্রতিষ্ঠানের সেবা ভালো, যিনি ভালো পণ্য মানুষের নাগালের মূল্যে বিক্রি করতে পারেন তার পণ্য অন্যদের চেয়ে অধিক বাজার লাভ করে।
সাম্প্রতিক সময়ে এই শিল্পোদ্যোক্তা নিজ এলাকা ও দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিজেকে অধিকভাবে সম্পৃক্ত করার চিন্তা ভাবনাতেই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তার বিশ্বাস, রাষ্ট্রীয় আনুকুল্য ছাড়া এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্যে তিনি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তিনি নিজ এলাকার উন্নয়নে একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।
এবাদুল করিম যথার্থ অর্থেই একজন দানশীল মানুষ। একজন আলোকিত সমাজসেবী। তিনি নিজ এলাকায় সমাজসেবা ও উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রত্যেকেই যদি সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের কল্যাণে কাজ করেন, তাহলে দেশের ৮০ ভাগ সমস্যার সমাধান স্বাভাবিকভাবেই হয়ে যাবে।
উদার মনের সৃজনশীল উদ্যোক্তা এবং জাতীয় সংসদ সদস্য এবাদুল করিম মনে করেন, এদেশে শিল্প প্রতিষ্ঠা ও বাণিজ্যের প্রচুর সুবিধা বিদ্যমান। রয়েছে তুলনামূলক সস্তা জনশক্তি। সেক্ষেত্রে যদি অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা যেমন বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও রাস্তাঘাট তৈরি করে দেওয়া যায় তবে বিদেশি বিনিয়োগও ব্যাপকভাবে আসবে।
উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদ এবাদুল করিম এমপি’র মতে, বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি যার স্বাধীনতার জন্যে লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন; কোটি কোটি মানুষ ত্যাগ স্বীকার করেছেন- সেই দেশের উন্নয়নে কাজ করা ইবাদতের সামিল। প্রয়োজন বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশ- যা বর্তমান সরকারের উদ্যোগে ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button