সাক্ষাৎকার

‘সঠিক ও যোগ্য নেতৃত্ব দেশকে দ্রুত উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম’

ড. ওসমান সিদ্দিক, যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র অ্যাডভাইজার

বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের মাথা আবার উঁচু হলো। আনন্দে উদ্বেল হলো বাংলাদেশিদের হৃদয়। যিনি এই আনন্দের উৎস- তিনি এ দেশের শেকড়ঘনিষ্ঠ কৃতী সন্তান বাংলাদেশি আমেরিকান ড. ওসমান সিদ্দিক। বাংলাদেশের অহংকার কর্মনিষ্ঠ ও বুদ্ধিদীপ্ত এই ব্যক্তিত্বকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র অ্যাডভাইজার পদে নিয়োগ করেছেন। পূর্ণ মন্ত্রীর সম্মান, মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধায় ওসমান সিদ্দিক প্রথম বাংলাদেশি যিনি এ পদে নিয়োগ পেলেন। ওসমান সিদ্দিক, যার ডাক নাম হারুন তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির ন্যাশনাল কমিটিতে (ডিএনসি) কয়েক দশক ধরে ট্রাস্টি হিসেবে আছেন।

এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ড. ওসমান সিদ্দিককে ফিজি, টোগো ও কঙ্গোতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম একজন বাংলাদেশিকে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব প্রদানও ছিল একটি মাইলফলক।
বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার এক শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ওসমান সিদ্দিকের জন্ম ১৯৫০ সালে। পিতা-মাতার ৯ সন্তানের মধ্যে ষষ্ঠ সন্তান ওসমান সিদ্দিক ছাত্র হিসেবে ছিলেন প্রখর মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ১৯৬৬ সালে ঢাকার বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। এর আগে তিনি হলিক্রস স্কুল, ট্রিনিটি স্কুল, সেন্ট মেরী’স এবং সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন। নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

ওসমান সিদ্দিক উচ্চতর শিক্ষার জন্যে ইউএসএ আসেন। ১৯৭২ সালে তিনি ইন্ডিয়ানার Bloomington-এর ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির Graduate School of Business থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ক্যাথেরিন মারি সিদ্দিক-কে বিয়ে করেন। তাদের চার সন্তান Omra, Julene, Leila এবং Zachary.
ওসমান সিদ্দিক পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা শুরু করেন। সেটি ছিল ITI / Travelogue inc নামের একটি কর্পোরেট ট্রাভেল ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। ওই সময় এটি ছিল ওয়াশিংটন ডিসি’র মেট্রোপলিটন এরিয়ার সংখ্যালঘু মালিকানাধীন শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসা উদ্যোগ। তিনি এর প্রেসিডেন্ট ও চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ‘Corporate International’এরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, যে কোম্পানির রেভিনিউর পরিমাণ ১.৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার। এ ছাড়াও তিনি যৌথভাবে ব্যাংক, রিয়েল এস্টেট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ড. ওসমান সিদ্দিক একজন সফল উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী ও সেলিব্রেটি হিসেবে CNN, VOA, Al Jazeera সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এবং আলোচনায় অংশ নিয়ে থাকেন। তিনি আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়েও একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারী ক্লিনটন Hawaii এর East West Corner-এর বোর্ড অব গভর্নর্সের ট্রাস্টি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আমেরিকার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউটের ‘আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ড. ওসমান সিদ্দিক একজন মেধাবী কূটনীতিবিদ হিসেবে ফিজি, টোগো ও কঙ্গোতে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বাড়িয়ে দিয়েছেন। একই সাথে বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে মর্যাদাসম্পন্ন এই দায়িত্ব পালনের ফলে বাংলাদেশও গর্বিত হবার সুযোগ পেলো। সৃজনশীল এবং আধুনিক মনের মানুষ ড. ওসমান সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গত দশকে বেশ উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। সঠিক নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দেশকে ক্রমেই সামনের দিকে নিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের দৃক্ষ্য মান উন্নয়ন-অগ্রগতিতে বিশ্বেও এ রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্রমেই উজ্জ্বল হচ্ছে। বিদেশিরা এখন বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে বেশ ভাবে। তারা অনেকটা আশ্চর্য হয়ে যায় দেশটির বিভিন্ন অবকাঠামো, স্থাপনাসহ উন্নয়ন চিত্র দেখে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ এবং ভুটানের প্রায় ৮ মিলিয়ন অভিবাসী রয়েছেন। এর সাথে যোগ হয়েছে এসব পরিবারে জন্মগ্রহণকারী আমেরিকানরা। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশিরাও যুক্তরাষ্ট্রে আইটি, চিকিৎসা, শিক্ষকতা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছেন। এটি বাংলাদেশকে অনন্য এক উঁচু মাত্রায় তুলে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেট নেতা ড. ওসমান সিদ্দিকের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়া কোনো দেশই যথাযথভাবে উন্নতি করতে পারে না। আর গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য হচ্ছে সহনশীলতা।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. ওসমান সিদ্দিক বলেন, এখানকার রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দ্বিদলীয় গণতন্ত্র। ফলে নেতৃত্ব বেছে নিতে জনগণের সুবিধা হয়। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠে অসংখ্য দল, অসংখ্য নেতা। ফলে অনেক সময় মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়তে হয়।
ড. ওসমান সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশ একটি অতি সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র। সঠিক ও যোগ্য নেতৃত্ব দেশকে দ্রুত উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একজন উদার মনের মানুষ। তার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের উন্নয়নে ব্যাপক সহযোগিতা প্রদান করবে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button