সাক্ষাৎকার

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অবশ্যই উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে

এম. রহমান জহির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা

বাংলাদেশের অনেক কৃতী, উদ্যমী ও স্বপ্নদর্শী উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ব্যক্তিত্ব প্রবাস জীবন বেছে নিয়েছেন। তাদেরই একজন এডভোকেট এম. রহমান জহির। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। 

এম. রহমান জহিরের জন্ম ১৯৬০ সালের ৩০ ডিসেম্বর বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ শহরের গুরুদয়াল কলেজ রোডের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তিনি কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। এরপর কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৮২ সালে ডিগ্রি পরীক্ষায় পাস করেন। তিনি ১৯৮৫ সালে ময়মনসিংহ ল’ কলেজ থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর কিশোরগঞ্জে আইন ব্যবসার সাথে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি ফ্লোরিডার ব্র্যান্ডেন্টন বিচে পরিবারসহ বসবাস করছেন। 

উদ্যমী ও সাহসী জহির ছোটবেলা থেকেই রাজনীতি সচেতন। স্কুল জীবনেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত হন। একজন বুদ্ধিদীপ্ত আলোকিত আইনজীবী হিসেবে কিশোরগঞ্জে তিনি বেশ পরিচিতি লাভ করেন। এর মধ্যে ১৯৯২ সালে তিনি আমেরিকা যাওয়ার সুযোগ পান। তিনি প্রথমে নিউ ইয়র্ক এবং পরে ফ্লোরিডায় আসেন। আত্মপ্রত্যয়ী ব্যক্তিত্ব এম. রহমান জহির শুরুতে একটি গ্যাস স্টেশনে কাজ করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে নিজেই গ্যাস স্টেশনের ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হন। এটি ছিল একজন স্বপ্নদর্শী বাংলাদেশির প্রথম ব্যবসায় জড়িত হওয়া। শুরুতে তিনি বেশ দ্বিধান্বিত ছিলেন। কিন্তু সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম একজন উদ্যোক্তাকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে তিনি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ফ্লোরিডায় বসবাসের সুবাদে তিনি এখানকার বাংলাদেশ কমিউনিটির সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হন। এম. রহমান জহির প্রথমে একটি কনভেনিয়েন্স স্টোর চালু করেন। পাশাপাশি গ্যাস স্টেশন ও শো বিজনেস প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি অল্প সময়েই একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। একই সাথে সমাজসেবক হিসেবেও তার পরিচিতি বাড়তে থাকে। 

তরুণ বয়স থেকেই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এডভোকেট এম. রহমান জহির ফ্লোরিডাতেও রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ফ্লোরিডা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি দলীয় সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশ কমিউনিটির মানুষের কল্যাণে কাজ করেন। তিনি বলেন, আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশ সবার- প্রিয় মাতৃভূমির মানুষও সবাই ভাই-বন্ধু। তিনি আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোনো একক দলের জন্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রত্যাশা করেননি। তিনি বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্যে এই স্বাধীনতা নিয়ে এসেছেন। তিরিশ লক্ষাধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। মহান স্বাধীনতার চেতনায় বলিয়ান সরকার ক্ষমতায় রয়েছে বলেই এ রাষ্ট্রের উন্নয়ন ঘটছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষার উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ব্রিজ-কালভার্ট ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হচ্ছে। 

এডভোকেট এম. রহমান জহির বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট। সংগঠনটি এখানে অবস্থিত বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধান এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করছে। তার নেতৃত্বে প্রতি বছরই এশিয়ান ফেয়ার- বহুজাতিক খাদ্য মেলার আয়োজন করা হয়। তিনি কখনো এর সম্পাদক, চেয়ারম্যান কিংবা কনভেনরের দায়িত্ব পালন করেন। ফ্লোরিডায় তারা বায়তুল মোকাররম মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন- যার ফাউন্ডারদের একজন তিনি। এম. রহমান জহির বলেন, আমরা বাংলাদেশি আমেরিকান মুসলমান। আমাদের কৃষ্টি-কালচার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে ঠিক রাখতে হবে। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা প্রতি বছরই একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ বৈশাখী মেলা উদযাপন করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশিদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তাদের গৌরবময় ইতিহাস- গর্বের ইতিহাস। 

এম. রহমান জহির বলেন, বর্তমান সরকার-প্রধান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শতভাগ এগিয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অবশ্যই উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডার মাধ্যমে তারা মাতৃভূমি বাংলাদেশের কল্যাণে অনেক কাজ করেন। তারা চট্টগ্রামে একটি অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা দিয়েছেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য তারা ৯০ হাজার ডলার ত্রাণ সহায়তা দিয়েছিলেন। 

এডভোকেট এম. রহমান জহিরের স্ত্রী শাম্মী আক্তার দীপা একজন ব্যবসায়ী। তাদের দুই ছেলে এবং এক মেয়ে। ছেলে আশিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে, মাশফিকুর রহমান হাইস্কুলে এবং মেয়ে আলিজা রহমানও স্কুলে অধ্যয়নরত। তিনি নিজ এলাকা কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button