সাক্ষাৎকার

দায়িত্বশীলতার সাথে গ্রাহকদের বিমা দাবি পরিশোধ করা হয়

সামির সেকান্দর চেয়ারম্যান প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেড

সামির সেকান্দর, উদীয়মান তরুণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী। একজন বিশিষ্ট বিমা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা। তিনি দেশখ্যাত ‘Protective Islami Life Insurance Limited’-এর চেয়ারম্যান। এদেশে তিনি এ খাতের তরুণ সুদর্শন চেয়ারম্যান।
আত্মপ্রত্যয়ী ব্যবসায়ী সামির সেকান্দরের জন্ম চট্টগ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত, শিক্ষিত ব্যবসায়ী পরিবারে। তিনি চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুলের ছাত্র ছিলেন। পরে ব্রিটেনের Coventry University of London থেকে ২০১৫ সালে গ্লোবাল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষে সামির সেকান্দর পারিবারিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত হন। তিনি ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্বগ্রহণ করেন।

 

সামির সেকান্দরের পিতা মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তিনি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং এফবিসিসিআই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাক্তন পরিচালক। সামির সেকান্দরের পিতামহ মরহুম সেকান্দর হোসেন মিয়া বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং দুই বার চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম প্রশাসক ছিলেন। সামির সেকান্দরের মা মিসেস মাহজাবীন মোরশেদ নবম ও দশম সংসদের সদস্য ছিলেন। সামির সেকান্দর তার পিতাকেই শিক্ষক হিসেবে ভাবেন। তার মাতামহ মরহুম সানাউল্লাহ চৌধুরী ছিলেন দেশের শিপিং শিল্পে অগ্রদূত। তিনি তাকে ব্যবসায়িক নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ‘চাটগাঁইয়া’ ভাষায় কথা বলতে শিখিয়েছেন। বাবা মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম সামিরকে হাত ধরে শিখিয়েছেন ব্যবসা-বাণিজ্যের জটিল বিষয়গুলো।
তারুণ্যের অহংকার সামীর সেকান্দর বিশ^াস করেন, বাংলাদেশ ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রে অমিত সম্ভাবনাময় একটি রাষ্ট্র। বিশেষ করে তরুণ ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের জন্যে হাজার দরোজা খোলা। সামির সেকান্দরের মূল্যায়ন হচ্ছে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে উন্নয়নের পথ বেয়ে যথেষ্ট এগিয়েছে। দরিদ্র দেশের পটভূমি থেকে বাংলাদেশ নিন্ম মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে সক্ষম হয়েছে। ধারাবাহিক এই উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ অচিরেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংঘাত, সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও ইত্যাদি কর্মকা এবং জঙ্গিবাদি তৎপরতা দেশের শুধু ক্ষতিই করেনি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু এখন সে ধরনের পরিস্থিতি নেই। এতে দেশীয় উদ্যোক্তাসহ বিদেশি উদ্যোক্তারাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন।
ইসলামিক জীবন বিমা পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স:)-এর সময়েও তিনি ব্যবসায়ীদের লোকসান থেকে রক্ষার জন্যে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে এক সাথে করে স্বল্প সঞ্চয়ের ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। যখন মরুঝড়ে কোনো ব্যবসায়ীর উটবোঝাই মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হতো তখন তাঁকে এই সঞ্চয় থেকে সহযোগিতা করা হতো।
তিনি বলেন, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেড অত্যন্ত পেশাদার ও প্রগতিবান্ধব একটি বিমা প্রতিষ্ঠান। দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীবৃন্দ এ প্রতিষ্ঠানের অ্যাসেট। গ্রাহকদের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, পারস্পরিক আস্থা, আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা এবং উন্নত সেবার কারণে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ^াস অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ইসলামী শরিয়া মোতাবেক পরিচালিত এই বিমা কোম্পানি ব্যবসা ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করে। আধুনিক প্রযুক্তি দ্বারা পরিচালিত এই কোম্পানি গ্রাহকদের একান্ত স্বজন ও বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে। কোম্পানির উদ্যোক্তা এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মনে করে- গ্রাহকরাই প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে গ্রাহকদের যে কোনো বিমা দাবি দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বুদ্ধিদীপ্ত, চৌকস ও মেধাবী নির্বাহী সামির সেকান্দর বলেন, দেশের সকল প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চালু করা সম্ভব হয় তবে এদেশের উন্নয়নে খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে না। অল্প সময়েই বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে ঠাঁই করে নিতে পারবে।
বিদেশে লেখাপড়ার সুবাদে মনের দিক থেকেও সামির সেকান্দর আধুনিক এবং প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী। ১৯৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই দেশমাতৃকার প্রতি গভীর মমত্ববোধের কারণে তিনি বছরের অধিকাংশ সময় দেশেই অবস্থান করেন।
সাফল্যজনক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এবং তাদের প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেড অনেক সম্মাননা ও পদক লাভ করেছেন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button