বাংলাদেশের যে সকল মানুষ নিজের মেধা শ্রম ও অত্নপ্রত্যয়ের মাধ্যমে নিজেরা সাফল্য লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন তাদেরই একজন utshob.com এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও Raihan Zaman. তার প্রতিষ্ঠিত utshob Group এখন বিশ্বব্যাপী ই-কমার্স বিজনেস এর আলোকিত এক উজ্জ্বল নাম।
রায়হান জামান এর জন্ম চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তিনি উচ্চতর পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ১৯৯৩ সালে আমেরিকা যান। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সাথে সম্পৃক্ত হন। তিনি নিউইয়র্কে ছিল সাইড হোল্ডার বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে আমেরিকার পেশাজীবন শুরু করেন। আত্মপ্রত্যয়ী ও পরিশ্রমী এই তরুণ তাঁর ক্যারিশম্যাটিক ব্যবহার দিয়ে দ্রুতই একজন সফল বিক্রয় কর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার সাথে গ্রাহকদের বিশেষ করে বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
একজন সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে তিনি বাংলাদেশি আমেরিকানদের কাছে অত্যন্ত সুপরিচিত একজন। সময়ের আলোচিত উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব রায়হান জামান ২০০৫ সালে উদ্যোক্তা হিসেবে আবির্ভূত হন প্রতিষ্ঠা করেন utshob.com (উৎসব ডট কম)। তিনি উপলব্ধি করেন ই-কমার্সের এই যুগে এমন একটা সিস্টেমের ব্যবসা করা দরকার যাতে গ্রাহকরা ঘরে বসেই তাদের পণ্য পেয়ে যান।
বাংলাদেশি আমেরিকান রায়হান জামান নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশকে গভীরভাবে ভালোবাসেন বলেই বাংলা নাম দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য শুরু করেছেন। আজ বিশ্বব্যাপী বাংলা নামের ‘উৎসব ডট কম’ ব্যবসা সফল প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। তিনি শুধু ব্যবসা বাণিজ্যের মধ্যেই নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেননি। তিনি মনে করেন, যারা দেশ ছেড়ে প্রবাসে আছেন তাদের সন্তানদের পক্ষে নিজ দেশের কৃষ্টি কালচার সম্পর্কে জানার তেমন সুযোগ নেই। এ কারণেই তিনি আমেরিকায় বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বেগবান করার লক্ষ্যে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস পালন করে থাকেন। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশকে প্রমোট করে থাকেন। সম্প্রতি অর্থ কন্ঠের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি যা বলেন তা এখানে উপস্থাপন করা হলো:

অর্থকণ্ঠ: আপনি একজন বাংলাদেশী আমেরিকান উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে আপনার অনুভূতি কি?
রায়হান জামান: বাংলাদেশ একসময় ছিল দরিদ্র অর্থনীতির দেশ। সে সময় বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি নানা সংকট ছিল। অনেকেই মনে করত এরা শুধু সাহায্য প্রার্থী। কিন্তু আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নের কাতারে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতার মুহূর্তে যে মাথাপিছু আয় ছিল ইতোমধ্যে মাথাপিছু সেই আয় ২২০০ ডলারের বেশি হয়েছে। ১৭ কোটি দেশের মানুষের কোন খাদ্য সংকট নেই। বাংলাদেশে এখন খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। দেশে ব্যাপক শিল্পায়ন হয়েছে এবং হচ্ছে। পদ্মা ব্রিজ এর মত মেগা প্রকল্প নিজের অর্থায়নে করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ গ্রামপর্যায়ে ও এই অভাবনীয় উন্নতি লক্ষণীয় এটি বাংলাদেশকে অন্য এক উচ্চতায় তুলে এনেছে।
অর্থকণ্ঠ: আপনি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের একজন গর্বিত সন্তান বর্তমানে বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। আপনি কবে প্রথম আমেরিকায় আসেন?
রায়হান জামান: আমি বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সন্তান। ১৯৯৩ সালে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় পাড়ি জমাই। তখনই অবশ্য মনে মনে ভেবেছিলাম যে আমেরিকায় স্থায়ী হবো তবে তা বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে নয় কারণ বাংলাদেশে আমার মাতৃ শেখর যে শেখর উপড়ে ফেলা যায় না।
অর্থকণ্ঠ: শুরুতে আপনি কি ধরনের কাজের সাথে সম্পৃক্ত হলেন?
রায়হান জামান: আমরা যারা বাইরে থেকে এখানে আসি তখন অফিসিয়াল জব খুব একটা পাওয়া যায়না। ‘অড জব’ করতে হয়। আমি শুরুতে নিউইয়র্কের হিলসাইড হোন্ডার বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে বেশ সুনাম অর্জন করি। এক্ষেত্রে আমি সততা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করার সুফল পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আর্থিক সুবিধা ও প্রশংসা লাভ করি এবং নিজের মধ্যে প্রবল আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হয়।
এক পর্যায়ে আমার মনে হয় নিজেই একটা কিছু করা দরকার সেই চিন্তা চেতনা থেকে গড়ে তুলি utshob.com নামের একটি ব্যাবসায়িক প্লাটফরম। আমি বুঝতে পেরেছিলাম জীবনে জয়ী হতে হলে কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে। আমি সে পথটিই বেছে নিই। পরিশ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।

অর্থকণ্ঠ: আপনি ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও একজন সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে নিউইয়র্কে আপনি খুবই পরিচিত এর পেছনে কোন বিষয়টি কাজ করেছে?
রায়হান জামান: দেখুন আমরা যারা দেশ ছেড়ে বিদেশে আসি তাদের মন দেশের জন্য প্রতি মুহূর্তেই হাহাকার করে। আমি ভেবেছি, এখানে যদি আমরা বাংলাদেশের কালচারকে তুলে ধরতে পারি তাহলে সেই হাহাকার কিছুটা হলেও কম হবে। এছাড়া, নতুন প্রজন্মের যারা বাংলাদেশে অবস্থানের সুযোগ পাচ্ছে না তারা অন্তত এই কালচারের মাধ্যমে নিজের দেশকে চিনতে পারবে নিজেদের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি নিয়ে গর্ব করতে পারবে। আমাদের পহেলা বৈশাখ এর মেলা তাদের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতিকবোধকে বাড়িয়ে দেবে। তারা একজন বাংলাদেশী বাঙ্গালী হিসেবে গর্ব করার সুযোগ পাবে। বিদেশীরাও জানতে পারবে আমাদের ইতিহাস আছে, ঐতিহ্য আছে, আছে হাজার হাজার বছরের গর্ব করার মতো সাংস্কৃতি। এই লক্ষ্যকে সামনে নিয়েই আমি এখানে সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছি এবং বলতে কি আমরা সফল হয়েছি। নিউইয়র্ক সহ আমেরিকায় আমাদের কমিউনিটিতে এখন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চর্চা হয় প্রতিযোগিতা হয় বিদেশীরাও উপলব্ধি করতে পারে আমরা কতো শেকর ঘনিষ্ঠ। একই সাথে আমাদের মধ্যে ভাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হয়।
অর্থকণ্ঠ: আপনার ই-কমার্স বিজনেস প্রতিষ্ঠান utshob.com ইতোমধ্যে প্রায় ১৬ বছর অতিক্রম করেছে এক্ষেত্রে কতোটা সাফল্য লাভ করতে পেরেছেন বলে আপনি মনে করেন ?
রায়হান জামান: আমি মনে করি ই-কমার্স বিজনেসে আমরা নতুন হলেও পিছিয়ে নেই। উৎসব ডট কম আজ শুধু আমেরিকা নয় বিশ্বের অন্যতম ই-কমার্স বিজনেস এ পরিণত হয়েছে। ঘরে বসেই মানুষ আমাদের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ পাচ্ছে।

অর্থকণ্ঠ: শুধু বাংলাদেশ থেকেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অনেকেই আমেরিকায় এসে বিভিন্ন রকম সমস্যার মধ্যে পড়েন। একজন উদ্যোক্তা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আপনি তাদের কতোটা সহযোগিতা করেন?
রায়হান জামান: আপনি ঠিকই বলেছেন।্ একটি নতুন দেশে এসে অনেকেই নানা বিধ জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়। আমি একজন এডভোকেট হিসেবে তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করি। শুধু বাংলাদেশীরাই নয় দক্ষিণ এশিয়ার কোন মানুষ যখন সুদূরে আটলান্টিকের পাড়ে এসে উপস্থিত হয় তখন আমি মনে করি এ আমার নিজের লোক। আমি তাদের সকল ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকি। তাদের সোশ্যাল-কালচারাল আইডেন্টিটি এবং এডুকেশন ইত্যাদি ডিজিটাল আঙ্গিকেই করা হয়। এভাবে এখানে সাউথ এশিয়ান মাইগ্রেন্ট কমিউনিটির ঐক্য ক্রমেই সুদৃঢ় হচ্ছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বেদনাদায়ক ঘটনার প্রেক্ষিতে আমেরিকায় ইমিগ্রেশনের ক্ষেত্রে মারাত্মক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এসময় দক্ষিণ এশিয়ার লোকজন ফ্রী মুভমেন্ট করতে পারতোনা, ব্যাংক একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে ও জটিল পরিস্থিতির শিকার হতো। এমনকি দোকানে ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ও বাঁধার সম্মুখীন হতো। এ মুহূর্তে তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই এবং ২০০৫ সালে আমি utshob.com প্রতিষ্ঠা করি। বাংলা শব্দ উৎসব আজ বিশ্ব ব্যাপী একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে আমি মনে করি এটি শুধু আমার জন্য অহংকার বয়ে আনেনি সকল বাংলাদেশির জন্যেই অন্যরকম অনুভূতি জন্ম দিয়েছে। উৎসব ডটকম এখন বিশ্ব ই-মার্কেটে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে।
অর্থকণ্ঠ: এই যে আপনি উৎসব এই বাংলা শব্দটি কে প্রাধান্য দিয়েই utshob.com প্রতিষ্ঠা করলেন এর পেছনে কোন দর্শন কাজ করেছে?
রায়হান জামান: মাতৃভাষায় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষা এটা সকল জাতির ক্ষেত্রেই সমান। তবে মাতৃভাষা বাংলা আমাদের মধ্যে আরো একটি কারণে শ্রেষ্ঠ কারণ এই ভাষাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমাদের সন্তানদের রক্ত দিতে হয়েছে, আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে। তাদের সেই রক্তঝরা ইতিহাসকে বিশ্বও স্বীকৃতি দিয়েছে। আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পেয়েছে। বিশ্বের দেশে দেশে বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষা সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। শুধু ভাষা আন্দোলনই নয় এই আন্দোলনের পথ ধরেই দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই চেতনা ও দেশপ্রেম থেকেই আমি ‘উৎসব ডটকম’ প্রতিষ্ঠা করেছি।
অর্থকণ্ঠ: বাঙালিরা উৎসব উদযাপনের ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক। সে ক্ষেত্রে ই-কমার্স বিজনেস এর ক্ষেত্রে এই নামটি কতোটা ব্যবসায়ীক হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
রায়হান জামান: আপনি ঠিকই বলেছেন। শুধু বাঙালিরাই নয় মানুষ মাত্রই উৎসব উদযাপনের প্রতি আগ্রহী ই-কমার্স সাইটের নামকরণ উৎসবকে অনুপদ করলে উদযাপন শব্দটি আসে। উৎসব ডটকমে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ছাড়াই পণ্য ক্রয়ের সুযোগ রয়েছে এবং সেই পণ্য বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পয়েন্টগুলোতে পাঠাতে পারবেন। অনলাইন সেক্টর ছাড়াও কুইন্স, ব্রুকালিন এবং ব্রঙ্কস এ ফিজিক্যাল আউটলেট পাওয়া যায় যার প্রত্যেকটিতেই যথেষ্ট পরিমাণে বাংলাদেশি রয়েছে।

অর্থকণ্ঠ: উৎসব ডটকম কতটা সাড়া ফেলতে পেরেছে বলে আপনি মনে করেন?
রায়হান জামান: আমি সৌভাগ্যবান যে এই উৎসব ডটকম এখন অনেক দেশেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এটি দ্রুত আমেরিকা, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশিসহ অন্যান্যদের কাছে কাজের মাধ্যমে পরিচিতি লাভে সক্ষম হয়েছে। উচ্চ বিশ্বস্ততার সাথে দায়িত্ব পালন করছে।
দশ বছরেও বেশি সময় ধরে utshob.com বিশ্বব্যাপী ৬০০ বিক্রেতাদের কাছ থেকে ৩০০০০ এরও অধিক পণ্য সরবরাহ করছে এবং গ্রাহকদের জন্য প্রতিদিন ১০,০০০টির বেশী অর্ডার প্রসেস করে। ২০১৫ সাল থেকে আমরা ফোবানা সহ অন্যান্য সংগঠনের কার্যক্রমের মাধ্যমে আমাদের উৎসব ডটকম-এর সেবা বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিতে পারছি। আমি বিশ্বাস করি আমাদের এই উদ্যোগ পৃথিবীর দেশে দেশে পৌঁছে দেয়া সম্ভব। এটি তখন ব্র্যান্ড হিসেবে কাজ করবে।
অর্থকণ্ঠ: আমরা একথা বলতে পারি যে আপনার উৎসব ডটকম ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে এর পেছনে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ কাজ করছে কি?
রায়হান জামান: আমি নিজে কঠোর পরিশ্রম করি এবং আমার সাথে কর্মরতদেরও তাই করতে হয়। কারণ আমি মনে করি পৃথিবীতে কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কোন কাজেই সাফল্য আসে না। আমি বিশ্বাস করি যে কোন কাজে পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই।
অর্থকণ্ঠ: আগামী দিনের বাংলাদেশকে নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
রায়হান জামান: আমি মনে করি বাংলাদেশ পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর কাতারে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। তবে এজন্য জাতি হিসেবে আমাদের কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে। দুর্নীতি ও অনিয়ম থেকে সরে আসতে হবে। নৈতিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং এই জাতিকে উৎপাদনমুখী জাতিতে পরিণত করতে হবে।


