মোহাম্মদ মাওলা (দিলু) কর্ণধার
Real Estate Agent M Maximum One
USA
আমেরিকার জর্জিয়া স্টেটের আটলান্টায় বাংলাদেশি আমেরিকান মোহাম্মদ মাওলা (দিলু) এ সময়ের একজন বিশিষ্ট উদ্যোক্তা হিসেবে আবাসন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি আটলান্টার উল্লেখযোগ্য রিয়েল এস্টেট কোম্পানি M Maximum one (MLS) এর উদ্যোক্তা।
বঙ্গোপসাগরের কূলঘেঁষা সৌন্দর্য-ভ‚মি সন্দ্বীপের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ মাওলা দিলু’র জন্ম ১৯৫৯ সালের ৮ এপ্রিল কালাপানিয়ার এক শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তার পিতা মরহুম মাস্টার আব্দুল হাদী হাতিয়া-সন্দ্বীপের বেশ ক’টি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি তাঁর ১১ ছেলে-মেয়েকেই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। যাদের সবাই এখন দেশে-বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত। দিলু’র মায়ের নাম মরহুমা জাহানারা বেগম। এই আলোকিত পরিবারের মেধাবী সন্তান মোহাম্মদ মাওলা দিলু ১৯৭৪ সালে সন্দ্বীপ মুছাপুর বদিউজ্জামান হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে ১৯৭৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। তিনি ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

মোহাম্মদ মাওলা পড়াশোনা শেষে চাকরির দিকে না তাকিয়ে ব্যবসায়ী হবার প্রচেষ্টায় আত্মনিয়োগ করেন। সৎ ও নিষ্ঠাবান পিতার সন্তান মাওলা নিজেও সততা নিয়ে ব্যবসার চেষ্টা করেন। শুরুর দিকের ব্যবসার পরিবর্তন ঘটিয়ে ১৯৮৮ সালে তিনি খাতুনগঞ্জে ইন্ডেন্টিং ব্যবসা শুরু করেন। সে সময়কার ভয়াবহ বন্যায় তিনি ব্যবসা ক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তারপরও অদম্য সাহসী এই তরুণ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার মানসে চেষ্টা চালিয়ে যান। তিনি ১৯৯০ সালে বিয়ে করেন। ’৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে তিনি আবার ক্ষতিগ্রস্ত হন। তিনি ৩০ এপ্রিল বিজনেস ভিসায় আমেরিকা পাড়ি দেন। আমেরিকা পৌঁছে ভাবলেন, ঘূর্ণিঝড়ে তিনি যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তা পূরণ করা কঠিন। এই অবস্থায় সিদ্ধান্ত নিলেন আমেরিকাতেই থিতু হবেন। এ সময় আমেরিকা প্রবাসী তার বড় ভাই রেজাউল মাওলা তাকে স্পন্সরশিপ দিলে তিনি সেখানে অবস্থানের সুযোগ পান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করলেও আমেরিকায় টিকে থাকতে মাওলাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। বিভিন্ন ‘অড জব’ বিশেষ করে গ্যাস স্টেশনেও কাজ করতে হয়। কিন্তু অদম্য মাওলা থমকে যাননি। সুদর্শন এই তরুণের চোখে-মুখে ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। স্থায়ী হলে ভালো কিছু করার প্রত্যাশা তাকে সব সময়েই অনুপ্রাণিত রাখতো। তিনি ১৯৯৩ সালে আমেরিকার স্থায়ী নাগরিকত্ব লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি তার স্ত্রী শাহিদা মাওলাকে আমেরিকায় নিয়ে আসেন। শুরু হয় নতুন জীবন।
নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেই মোহাম্মদ মাওলা ২০০২ সালে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হন। বেশ উন্নতির মুখ দেখেন তিনি। কিন্তু ২০০৮-০৯ সালে আমেরিকার অর্থনীতিতে ধস নামলে ব্যবসায় খুব ক্ষতির শিকার হন। হাতছাড়া হয়ে যায় তার অর্জিত বাড়ি-জমি। অদম্য এই মানুষটি কোনোভাবেই জীবনযুদ্ধে হারতে রাজি নন। তিনি ব্যবসার পাশাপাশি চাকরি করে সংসার জীবন চালান। আবার এক পর্যায়ে তার ব্যবসায়িক জীবনে সাফল্য আসে। এ পর্যন্ত তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ গ্রাহক বাড়ি, ফ্ল্যাট অথবা জায়গা ক্রয় করেছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই স্মার্ট মোহাম্মদ মাওলা দিলু সাংগঠনিক ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। আমেরিকা এসেও তার সেই সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েছেন। তিনি জর্জিয়ায় বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন ‘ফেডারেশন অব বাংলাদেশি এসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা-ফোবানা’র সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি ২০০৬ সালে ফোবানা কনভেনশনের ‘কো কনভেনর’ ছিলেন। মোহাম্মদ মাওলা ২০১৩ সালে ফোবানা’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭-১৮ সালে তিনি সংগঠনটির এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারির পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৯৫-৯৬ সালে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন জর্জিয়ার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’র যে প্রবাদ বাক্যটি বাংলা ভাষায় রয়েছে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ মোহাম্মদ মাওলা। বন্ধুবৎসল এই মানুষটি প্রতিনিয়তই অন্যের উপকার করে বেড়ান। প্রবাস জীবনেও তারা গড়ে তুলেছেন চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই এসোসিয়েশন আমেরিকা (CUAAA)। এ সংগঠনের মাধ্যমে ২০২০ সালে তারা চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটিকে করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় ২০ লাখ টাকা এবং ৩০ লাখ টাকার একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করেছেন।
মানুষের দরদিয়া বন্ধু মোহাম্মদ মাওলা এবং তার অন্য স্বজনরা পারিবারিক সহযোগিতা দিয়ে স›দ্বীপে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ও তত্ত¡াবধানে কলেজটি ফলাফলের দিক থেকে চট্টগ্রামের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করে আসছে।
আত্মপ্রত্যয়ী উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী ও সংগঠক মোহাম্মদ মাওলা ও শাহিদা মাওলার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে একটি মেডিক্যাল কলেজে ট্রমা সার্জন বিভাগের চতুর্থ বর্ষে এবং ছোট মেয়ে একটি ইউনিভার্সিটিতে সাইকোলজি অ্যান্ড বায়োলজিতে অনার্সে অধ্যয়ন করছে।
মোহাম্মদ মাওলাদের এই বৃহৎ পরিবার দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও এখনো একান্নবর্তী পারিবারিক আদর্শের মধ্যেই অবস্থান করছে। মাতৃভূমির প্রতি বিপুল ভালোবাসা তাকে নিরন্তর ভাবিত করে। প্রবাসী এই দক্ষ সংগঠক ব্যক্তিত্ব বলেন, বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ করা গেলে এই রাষ্ট্রের দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব হবে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক



