বিশ্বব্যাপী বাঙালিদের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন Federation of Bangladesh Association in North America- FOBANA’র সাবেক চেয়ারপার্সন বিশিষ্ট অর্থনৈতিক ব্যক্তিত্ব মীর চৌধুরী’র জন্ম এবং বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলায়। তার পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়। বর্তমানে তিনি আমেরিকার নিউ জার্সির একজন আলোকিত নাগরিক ও সংগঠক। তিনি ২০১৮-২০১৯ মেয়াদে নিউ জার্সি থেকে FOBANA নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী বাঙালি জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন FOBANA’র শুরু ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ১৯৮৭ সালে এই নিউ জার্সি থেকেই।

তারুণ্যে উজ্জীবিত ও জীবনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ মীর চৌধুরী আমেরিকায় শুরুতে ছিলেন আর্থিক খাতের একজন নির্বাহী। তিনি শুধু নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যেই কর্মে আত্মনিয়োগ করেননি, প্রাগ্রসর চিন্তার এই ব্যক্তিত্ব শুরু থেকেই বাংলাদেশ কমিউনিটির উন্নয়নের জন্যেও থেকেছেন আন্তরিকভাবে নিবেদিত। তিনি ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউ জার্সি (BSNJ)’র জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বগুণের বিষয়টি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং ১৯৯৪ সালে তিনি নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ৮ম ফোবানা কনভেনশনের মেম্বার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে গঠিত Bangladesh Association of New Jersey’র তিনি প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল সেক্রেটারি। তিনি ২০০০-২০১১ মেয়াদে এ সংগঠনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। দৃঢ়চেতা সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব মীর চৌধুরী ২০২১-২০২২ মেয়াদে এ সংগঠনের প্রেসিডেন্ট পদে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যে নিবেদিতপ্রাণ এই সংগঠক আমেরিকাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও ভ‚মিকা রেখে চলেছেন। দূরদর্শী, দক্ষ ও আত্মপ্রত্যয়ী সংগঠক জনাব মীর চৌধুরী FOBANA EC’র ২০০৭-২০০৮ মেয়াদে চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। তিনি ২০১১ সালে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ২৫তম ফোবানা কনভেনশনের কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সময়ের আলোচিত সংগঠক মীর চৌধুরী ২০১৩-২০১৮ মেয়াদকালে Unification Standing Committee’র চেয়ারপার্সন ছিলেন। তার সুদক্ষ নেতৃত্বে ২০১৩ সালে হিউস্টনে একটি সফল ইউনিফিকেশন দেখা যায়। এটি ৩৩তম ফোবানার ইতিহাসে ‘Houston Accord’ হিসেবে মাইলফলক হয়ে আছে। তিনি ফোবানার ৩১তম কনভেনশনে পরিবারসহ অংশগ্রহণ করেন।
আমেরিকার বাঙালি জনগোষ্ঠীর এই প্রিয় শুভাকাক্সক্ষী নেতা ২০১৮ সালে দ্বিতীয় বারের মতো ফোবানার ৩২তম কনভেনশনে চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন।
একটি শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান মীর চৌধুরী চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (সম্মান) এবং ¯œাতকোত্তর (সিই ৮১ ব্যাচ) সম্পন্ন করেন। মীর চৌধুরী ১৯৮৫ সালে অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যান। তিনি আমেরিকায় William Paterson University থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগতভাবে তিনি একজন সিনিয়র ফিন্যান্সিয়াল একাউন্ট্যান্ট এবং বর্তমানে বিশিষ্ট ট্যাক্স এডভাইজার।
মীর চৌধুরী ট্যাক্স এডভাইজার হিসেবে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি বিবাহিত। তার স্ত্রী জিন্নাত চৌধুরী। তিনি একজন ব্যাংকার। ব্যাংক নির্বাহী হিসেবে সার্থক পেশা জীবন অতিবাহিত করেছেন। তাদের দুই সন্তান আমেরিকায় চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত।
আমেরিকার বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী এবং নিউ জার্সিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির কৃতী সংগঠক মীর চৌধুরী মনে করেন, বাংলাদেশের প্রবাসীরা নিজ দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি বলেন, প্রবাসের প্রত্যেক বাংলাদেশি নিজ দেশের একেকজন অ্যামবেসেডর। তিনি মনে করেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা উন্নয়ন করাতেই দেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে।
আত্মপ্রত্যয়ী সংগঠক ও দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্ব মীর চৌধুরী তার ব্যবসার বাইরে অধিকাংশ সময় মানবকল্যাণে কাজ করেন। তিনি একজন আলোকিত স্বপ্নদর্শী ব্যক্তিত্ব যিনি স্বপ্ন দেখেন, বাংলাদেশ নানা সংকট ও সমস্যা অতিক্রম করে একদিন উন্নত দেশের সারিতে অবস্থান নিতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, এজন্যে দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে আইন, বিচারিক শাসন প্রতিষ্ঠা ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষা জরুরি। তিনি আরো বলেন, বাঙালি পরিশ্রমী জাতি- এটা আমেরিকায় আজ প্রমাণিত। পরিশ্রমের মাধ্যমেই সাফল্য অর্জিত হয়। তিনি দেশের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধের ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ জোরদার করার অনুরোধ রাখেন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক



