কৃতী সন্তান হিসেবে প্রবাসী যেসব বাংলাদেশিকে নিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে তাদেরই একজন ডক্টর সেজান মাহমুদ। সেজান মাহমুদ বিশিষ্ট লেখক হিসেবেও সুপরিচিত। তবে তার বড় পরিচয় বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার কলেজ অব মেডিসিনের তরুণ প্রফেসর এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিন। শিক্ষকতায় এবং প্রশিক্ষণে অসাধারণ অবদান ও সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ এই কৃতী শিক্ষক ও গবেষক এক্সিলেন্স ইন সার্ভিস লার্নিং অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন। এটি একজন সেজান মাহমুদকেই গর্বিত করেনি এই গৌরবময় অর্জন বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে; ভাবমূর্তি বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। কারণ, ইউসিএফ-এর ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। এটি আমেরিকার এক নম্বর ইউনিভার্সিটি। এখানে লেখাপড়া-গবেষণা খুবই উন্নত মানের। ফ্যাকাল্টির সংখ্যা ১৩৫০০। এই ইউনিভার্সিটিতে ৯৯টি আন্ডার গ্র্যাজুয়েট, ৮৯টি মাস্টার্স, ৩১টি গ্র্যাজুয়েট ডক্টরেট, ৩০টি প্রফেশনাল ডক্টরেট ও ৩টি স্পেশালাইজড ডিগ্রি প্রোগ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে থেকে বছরে সেরা তিনটি ক্লাসের প্রজেক্টকে ‘এক্সপেরিয়েন্সিয়াল লার্নিং এক্সিলেন্স’ পুরস্কার দেওয়া হয়। বিচারকদের মূল্যায়ন করা ভোটে এ বছর তিনটি ক্লাস প্রথম স্থানের জন্যে সমান স্কোর রয়েছে। ওই তিনটি ক্লাসের প্রথমটির মূল শিক্ষক এবং কো-অর্ডিনেটর বাংলাদেশি বংশোদ্ভ‚ত মেধাবী অধ্যাপক ডক্টর সেজান মাহমুদ।
ডক্টর সেজান মাহমুদ একজন প্রথিতযশা শিশু-সাহিত্যিক। তিনি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী পুরস্কার লাভ করেছেন। এ পর্যন্ত প্রকাশিত তার বইয়ের সংখ্যা ৩০-এর অধিক। দেশে একুশের বইমেলায় তার বইয়ের জন্যে স্টলগুলোতে রীতিমত ভিড় জমে।

ডক্টর সেজান মাহমুদ ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় কলেজ অব মেডিসিনের প্রফেসর হিসেবে যোগদান করেন ৪ বছর আগে। এর আগে তিনি ফ্লোরিডার টালাহাসি ওহাইয়োর এনডব্লিওসি পিইতে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর অব মেডিসিন ছিলেন। সেজান মাহমুদ বিখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল স্কুলে এন্ডোক্রিনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।
ডক্টর সেজান মাহমুদের স্ত্রী ডা. তৃষ্ণা মাহমুদ চালচলনে অত্যন্ত সাদাসিধে প্রকৃতির। হাসিখুশি এই চিকিৎসকের অর্থবিত্ত থাকা সত্তে¡ও কখনো সোনার গহনা বা দামি পোশাক পরেন না। বাংলার নারীদের ঐতিহ্যবাহী সূতি শাড়ি কিংবা বড়জোর সাধারণ জামদানিতেই তিনি অভ্যস্ত। তার মন খুবই উদার ও পরোপকারী তিনি। তৃষ্ণা মাহমুদ কারো দুঃখ ও অভাবকে নিজের মনে করে তাকে যথাসাধ্য সহযোগিতা প্রদানের মধ্য দিয়ে আনন্দ পান। সেজান মাহমুদ স্ত্রী তৃষ্ণা সম্পর্কে দু’টি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে- ‘তৃষ্ণার কোনো জৌলুস বাহুল্য শখ নেই। কোনোদিন সোনার গহনা পরে না। একমাত্র সোনার ব্রেসলেট যেটা আমি কিনে দিয়েছিলাম তা আবার বিক্রি করে আমাকে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় যাওয়ার সময় হাতে দিয়েছিলো। বলেছিলো এগুলো অনেক পাওয়া যায় জীবনে, তুমি লেখক হিসেবে পৃথিবীর সেরাদের সঙ্গে যোগ দেবে, সেখানে এই ব্রেসলেট কিছুই না। তৃষ্ণা সবসময় মাটির তৈরি বা অক্সিডাইজড গয়না পরবে যা বেশিরভাগই নিজের বানানো। ও একজন পরিবেশবাদী।’

অন্য একটি ঘটনার বর্ণনা জানা গেল তাদের বড় ছেলের এক বান্ধবীর বাবার হঠাৎ মৃত্যু হলে তার মা কিছুদিন পর সন্তানদের রেখে বয়ফ্রেন্ডের সাথে চলে যায়। ডা. তৃষ্ণা সেই মেয়েকে নিজেদের বাড়িতে রেখে, নিজে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলো মেডিক্যাল ফ্লেবোটমিস্ট হিসেবে সার্টিফিকেট করিয়ে দিলো। এখন সেই মেয়ে নিজের শহরে গিয়ে চাকরি করছে এবং ছোটবোনের দেখভাল করছে। খুবই স্নেহপরায়ন কৃষ্ণাকে ডক্টর সেজানের ভাতিজারাও মা বলে ডাকে। সুখী এই দম্পতির দুই ছেলে অধ্যয়নরত।
সেজান মাহমুদ দেশ ছেড়ে বিদেশে স্থায়ী ঠিকানা গড়লেও দেশের মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ পোষণ করেন। তিনি প্রতি মুহূর্তে মাতৃভ‚মির উন্নয়ন দৃশ্য চিন্তা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রচুর মেধাবী ও কর্মঠ মানুষ রয়েছে। সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে ঠাঁই করে নিতে সক্ষম হবে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক



