অর্থনীতিপ্রতিবেদন

‘কখনোই চুপ থেকে অত্যাচার সহ্য করা উচিত নয়, প্রতিবাদ করা উচিত’

সিলভিয়া পারভিন লেনী ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও রেডিও ঢোল

ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে মিডিয়া ক্ষেত্রেও এখন মেধাবী ও উদ্যমী নারীরা প্রাধান্য বিস্তার করে আছেন। সেই মেধাবী, কৃতী ও উদ্যমী নারী ব্যক্তিত্বের একজন সিলভিয়া পারভিন লেনী। সুদর্শনা এই আত্মপ্রত্যয়ী নারী দেশের মিডিয়া খাতের অন্যতম ‘রেডিও ঢোল’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ডিরেক্টর। তিনি লাভলী ফাউন্ডেশনেরও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি জৈব এগ্রো লিমিটেডের প্রোপ্রাইটর এবং ক্রেইনস বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক। এই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব একাত্তর টেলিভিশনের জনপ্রিয় নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এখানে ২০১৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রায় এক বছর কাজ করেন। এর আগে তিনি একুশে টিভির সংবাদ উপস্থাপক ছিলেন।

গণমাধ্যম অঙ্গনের প্রিয়ভাষিনী সিলভিয়া পারভিন লেনী পড়াশোনায় বরাবরই মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি নাটোরের গোপালপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০০২ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০৪ সালে বিবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১১ সালে এইচআরএম এবং এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ছোটবেলা থেকেই সিলভিয়া পারভিন লেনী অন্য দশটি মেয়ের চেয়ে ব্যতিক্রম। তিনি বুদ্ধিদীপ্ত ও চটপটে স্বভাবের ছিলেন। তার মধ্যে মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং উপকার করার প্রবণতা বিদ্যমান। তিনি সংগঠনমনস্ক এবং শিশুকাল থেকেই শিশু সংগঠন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত। তার মধ্যে নেতৃত্ব প্রদানের গুণ ছিল। তিনি অতি সহজেই অন্যের উপর প্রভাব ফেলতে সক্ষম হতেন।
ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মিডিয়া তারকা সিলভিয়া পারভিন লেনী রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ পরিষদের সাথে যুক্ত। তিনি আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির নেত্রী। তিনি নাটোরের গোপালপুর পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
মানব সেবায় নিয়োজিত তার প্রতিষ্ঠিত ‘লাভলী ফাউন্ডেশন’ করোনাকালে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা করেছে। তিনি মনে করেন, এদেশে অনেক বিত্তবান ব্যক্তি আছেন যারা ইচ্ছা করলে দরিদ্র্র মানুষদের উপকারে অংশ নিতে পারেন। যদি তারা নিজেরা সময় সুযোগ না পান প্রয়োজনে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে একত্রে মানবিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন।
এই নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক কর্মী নিজেকে মুক্তিযুদ্ধ চেতনার সৈনিক হিসেবে ভাবতেই বেশি ভালোবাসেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনার মানুষ’ এটি বলতে গর্ববোধ করি। কারণ তার মতে, বর্তমান বিশ্বে এ ধরনের মানবিক কোনো নেতা নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ খেতাব অর্জন করেছেন। তাঁর সুদৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে দেশে ছিল অভাব আর অর্থনীতি ছিল নিন্ম আয়ের- সে দেশ আজ উন্নয়নের সড়ক ধরে পথ চলতে সক্ষম হচ্ছে। পদ্মা সেতুর মতো বিশাল প্রজেক্ট আজ নিজেদের অর্থেই বাস্তবায়িত হচ্ছে; এর মূলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃঢ় নেতৃত্বের স্বাক্ষর রয়েছে। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেই তিনি স্বাধীনতা ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী।
সাম্প্রতিক সময়ে গৃহহীন মানুষদের আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর দেয়ার ঘটনাকে তিনি মনে করেন এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একটি বড় অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন। দেশে কোনো মানুষই গৃহহীন থাকবে- না এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি অঙ্গীকার যার বা স্তবায়ন শুরু হয়েছে।

সিলভিয়া পারভিন লেনী একজন দার্শনিক মনোভাবাপন্ন মানুষ। তিনি বিশ্বাস করেন মানুষের যা করতে ইচ্ছা হয় তাই করা উচিত; কারণ মানুষ আর কতদিন বাঁচবে! তিনি মনে করেন, প্রতিটি মানুষের উচিত আবেগ নয়, বিবেককে বেশি ব্যবহার করে পথ চলা- তাহলে ভুল কম হবে। তিনি বলেন, মানুষের কখনোই চুপ থেকে অত্যাচার সহ্য করা উচিত নয়, প্রতিবাদ করা উচিত।
এভাবেই একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সিলভিয়া পারভিন লেনী শুধু গণমাধ্যমেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি রাজনৈতিক মাঠেও একজন নিবেদিতপ্রাণ মুজিব সৈনিক হিসেবে কাজ করে চলেছেন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button