সাক্ষাৎকার

আমার কাছে সমাজের অনগ্রসর মানুষের সেবাদান মানেই প্রার্থনা

ডা. রোকসানা আক্তার খান (লিপি), চিকিৎসক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

আত্মপ্রত্যয়, মেধা, মনন ও চিন্তার অগ্রসরতা দিয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভ‚ত আমেরিকান যে সকল উদ্যমী নারী ব্যক্তিত্ব যুক্তরাষ্ট্রে সুনাম অর্জনে সক্ষম হয়েছেন ডা. রোকসানা আক্তার খান (লিপি) তাদের অন্যতম। সময়ের মূল্যায়নে এবং কর্মোদ্যোগ বিশ্লেষণে স্মার্ট রোকসানা একজন সফল চিকিৎসক, সমাজকর্মী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃতি লাভে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার Alhamba’র Arroy Research Inc এর Biotechnology’র কনসালট্যান্ট। এর আগে তিনি Texas Centre for Drug Development, Inc. Huston, Texas, Texas এর Beaumont এর South East Texas Medical Associates এবং Texas এর McGovern Medical School-এ কর্মরত ছিলেন। তিনি ইন্টারনাল মেডিসিনের একজন ক্লিনিক্যাল রিসার্চ কনসালটেন্ট। তিনি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন।
মেডিকেল স্কুলে অধ্যয়নকালে ডা. রোকসানা লায়ন্স এবং রোটার‌্যাক্ট ক্লাবস ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রী হিসেবে এই সংস্থাগুলোর সদস্য হয়ে তিনি শিশুর রোগ প্রতিরোধক, পোলিওমুক্ত এবং চক্ষুরোগ নিরাময়ে চক্ষু ক্লিনিকের অর্থাৎ আই ক্যাম্পসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবামূলক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।


ছোটবেলা থেকেই ক্রীড়ার প্রতি তার ছিল দারুণ আকর্ষণ। খেলাধুলা করতে খুব ভালোবাসতেন তিনি। কলেজের একজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়াবিদ হিসেবে তিনি প্রচুর সুনাম এবং পুরস্কার লাভ করেছেন। ব্যাডমিন্টন, দৌড়, লংজাম্প এবং হাই জাম্প প্রতি ক্ষেত্রেই প্রথম পুরস্কার গ্রহণের সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। তিনি ছিলেন তার সময়ে কলেজ চ্যাম্পিয়ন ক্রীড়াবিদ। একই সাথে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও তার ভূমিকা ছিল বলিষ্ঠ। তিনি গান, কবিতা আবৃত্তি এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সকলকে মাতিয়ে রাখতেন। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কলেজের জন্যে সুনামও বয়ে এনেছেন।
সময়ের অগ্রসর চিন্তার অধিকারী এই নিবেদিতপ্রাণ নারী ছাত্রাবস্থাতেই সমাজ সেবা-কর্মে অংশ নিয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহ জাতীয় কমিউনিটি সার্ভিসের উপদেষ্টা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখেছেন। তিনি স্বাস্থ্য সেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন শিশুদের বিকাশে, গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব চেক-আপ সচেতনতার ক্ষেত্রে, অপুষ্ট শিশুদের মায়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান এসব বিষয়ে তাদের সচেতন করতে উদ্যোগী ভ‚মিকা পালন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ডা. রোকসানা তার পেশাজীবনের দায়িত্ব পালনের বাইরেও স্বাস্থ্য-চিকিৎসা বিষয়ক স্বেচ্ছামূলক কাজে অংশ নিয়ে থাকেন। ডা. রোকসানা আক্তার খান ইউএসএ ইন্টারনাল মেডিসিন ক্লিনিক্যাল রিসার্চে কাজ করেছেন। তিনি ক্লিনিক্যাল রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে অসামান্য কাজের জন্যে নোভার্টাস ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা এবং মার্ক অ্যান্ড কোংয়ের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সেবায় কৃতী ব্যক্তিত্বের সার্টিফিকেট লাভ করেন। পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি এসব স্বেচ্ছাসেবকমূলক কাজের পেছনে প্রচুর সময়, মেধা ও মনন ব্যয় করেন। তার কাছে এসব অলাভজনক সংস্থার কাজ ভালো লাগে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন- সমাজের অনগ্রসর মানুষের সেবাদানও প্রার্থনা।
একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সেবাকর্মের বাইরেও তার আরেকটি যোগ্যতা হচ্ছে তিনি একজন সৃজনধর্মী ও মননশীল মানুষ। পেশায় চিকিৎসক হলেও চেতনায় তিনি একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। ফ্যাশন সচেতন, স্মার্ট ও আধুনিক মনের একজন মানুষ। সৌন্দর্য সচেতন এই সুদর্শনা হিউস্টনের ফ্যাশন ওয়ার্ল্ডে সুপরিচিত তার স্মার্টনেস এবং হাস্যোজ্জ্বল মুখের জন্যে। তিনি এখানকার অনেক অনুষ্ঠানে বিশেষ করে নারী এবং শিশুদের জন্যে ফান্ড রাইজিং ইভেন্টে অংশ নিয়ে থাকেন। তিনি ২০১৯ সালে টেক্সাসের হিউস্টনে ইন্ডিয়ানা হাউজে আইএসিএফের ফ্যাশন শো (ইন্দো-আমেরিকান চ্যারিটি ফাউন্ডেশন) অ্যানুয়াল ফান্ড ম্যানেজমেন্ট ২০১৯ স্টোকার্ড সেন্টার, টেক্সাস, ভারত-ইউএসএ টেক্সাস বিউটি পাজেন্ট-১০১, হিউস্টন, টেক্সাস। উল্লেখ্য, ডা. রোকসানা ২০১৯-২০২০ সালে মুনোয়ারির ক্লাসিক মডেলের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বর্ণপদক লাভ করেন। তিনি ইউএসএ ন্যাশনাল বিউটি পাজেন্ট-২০১২ এর আন্তর্জাতিক বিউটি বিভাগে রানার্স আপ এবং ভারত টেক্সাস আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতা ২০১৯-এ রানার আপ হয়েছিলেন। তিনি নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইক-২০২০ এ অংশ নিয়ে রেড কার্পেটে হেঁটেছেন। মুনোয়ারির মডেল হিসেবে তিনি অনেক শোতে অংশ নিয়েছেন।


ডা. রোকসানা সংগীত শিল্পী হিসেবেও অর্জন করেছেন সুখ্যাতি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অনেক বিখ্যাত অনুষ্ঠানে তিনি সংগীত পরিবেশন করেছেন। কবিতা আবৃত্তির ক্ষেত্রেও তার সুনাম রয়েছে। তিনি একজন ভালো কণ্ঠের বাচিকশিল্পী। খেলাধুলা, সংগীত, নাচ, বিতর্ক, আবৃত্তি শিল্পের সকল ধারাতেই তিনি মিশে আছেন ভালো পারফর্মেন্সের মাধ্যমে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনের ভিরোনি কোম্পানির জুনিয়র রাষ্ট্রদূত এবং ইউনিভার্সাল এনহেনস ক্রিয়েটরদের সাথে কাজ করতে পেরে আনন্দ অনুভব করেন। তিনি আটলান্টাতে অবস্থিত রমজান ভিরানীর মালিকানাধীন ইউএসএ ডিজিটাল মেডিও স্টুডিওর সাথে শর্ট ফিল্মের শুটিং করেছেন। ডা. রোকসানা আক্তার খান লিপি তার সার্বিক কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে মাতৃভ‚মি বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করছেন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button