গুণী পিতা-মাতার কৃতী সন্তান বাংলাদেশি বংশোদ্ভ‚ত ফার্স্ট জেনারেশন নাগরিক ডা. লীরা চৌধুরী। ছোটবেলা থেকেই তিনি নিজেকে একজন মানবতাবাদী হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তার পিতা মাসুদ চৌধুরী একজন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং টেক্সাসে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের সংগঠক এবং প্রেসিডেন্ট। মাসুদ চৌধুরী নিজেও একজন সমাজসেবক। তিনি তার পরিবারের সহায়তায় আমেরিকার টেক্সাসের ডালাসে গড়ে তুলেছেন ডিস্ট্রেসড চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল (ডিসিআই)। তার মেয়ে ডা. লীরা চৌধুরী এ প্রতিষ্ঠানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত এবং প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে তিনি অনেক স্বপ্ন দেখেন। খুব অল্প বয়সেই তিনি পিতার সাথে বাংলাদেশ ও ভারতের দরিদ্র পরিবারের অসহায় বঞ্চিত শিশুদের দুঃখ-কষ্ট এবং অমানবিক পরিবেশ দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তখন থেকেই তার হৃদয় মন এসব দরিদ্র শিশুর কষ্ট লাঘবের জন্যে প্রস্তুত করেছেন। তার পিতা-মাতা বাংলাদেশি আমেরিকান হলেও লীরা চৌধুরীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমেরিকায়। একটি উন্নত অবস্থান থেকে দরিদ্রদের প্রতি গভীর ভালোবাসা তার সুকুমার বৃত্তির পরিচায়ক।

একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি মনে করেন, ‘Trust is at the heart of every good patient-physician relationship. তিনি প্রত্যাশা করেন তার কাছে আসা রোগীরা নিরাপদ পরিবেশে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরবে- সেক্ষেত্রে চিকিৎসা প্রদান সহজ ও প্রাসঙ্গিক হয়।
তারুণ্যে উজ্জীবিত মানবতাবাদী চিকিৎসক লীরা চৌধুরী আমেরিকার একটি ভালো স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই প্রতিবছর বাবা-মা’র সাথে বাংলাদেশে এসেছেন। এখানকার দরিদ্রের বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তার জীবন বেশির ভাগ বাংলাদেশির চেয়ে অনেক আলাদা, অনেক উন্নত।
কয়েক বছর আগে লীরা চৌধুরী একটি ত্রাণ দলের সদস্য হিসেবে তিন সপ্তাহ বাংলাদেশে কাটিয়েছেন। তিনি সে সময় ঘূর্ণিঝড়- বিধ্বস্ত মানুষকে সহায়তা করার জন্যে ফেনী এবং পটুয়াখালীর এসসিএস প্রকল্প অঞ্চল পরিদর্শন করেন। তিনি তার উপলব্ধি থেকে উল্লেখ করেছেন, ‘আমি অনেক কিছুই দেখেছি যা আমি জানতাম না। এখানে যুক্তরাষ্ট্রে একটি আট বছরের ছেলে স্কুলে যায় এবং বেসবল খেলে, সেখানে বাংলাদেশের সেই বয়সের অনেক ছেলে-মেয়ে বিভিন্ন ধরনের ভারী যন্ত্রপাতি বহনসহ পরিশ্রমী কাজে নিয়োজিত। পড়াশোনা বাদ দিয়ে জীবন-জীবিকার জন্যে লড়াই করছে। একজন মা তার অসুস্থ সন্তানের জন্যে সাহায্য চাইতে পাঁচ মাইল পথ হেঁটে এসেছিলেন।’ লীরা চৌধুরী আরো জানিয়েছেন, এই কষ্টকর বিষয়গুলো উপলব্ধি করে তিনি তার ডিজাইনার সানগøাস এবং কাপড়ের জন্যে লজ্জাবোধ করেছিলেন। সে সময় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এই অসহায় মানুষগুলো এসব উপাদান চায় না বা তাদের তা প্রয়োজন নেই। তারা যা চায় তা হচ্ছে তাদের আরও উন্নত জীবন পেতে সহায়তা করা। এ ধরনের একটি গভীর অনুভ‚তি ও উপলব্ধি তাকে আরএসসির সাথে সংযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তিনি ভেবেছেন, একজন চিকিৎসক হলে তিনি এই দুস্থ ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে সক্ষম হবেন।

প্রথম জেনারেশনের আমেরিকান নাগরিক ডা. লীরা চৌধুরী University of North Texas Health Science Center এর Texas College of Osteopathic Medicine থেকে চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রি নেন। তিনি Michigan State University’s Detroit Medical Center থেকে Residency থেকে জবংরফবহপু সমাপ্ত করেন। তিনি Female Urology, Voiding Dysfunction এবং Urogenital reconstruction বিষয়ে University of California, Irovine থেকে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি উপলব্ধি করেন রোগীরা তার ক্লিনিক্যাল এবং সার্জিক্যাল দক্ষতার পাশাপাশি তার ব্যক্তিত্ব ও আন্তরিকতাকেও পছন্দ করে।
তার পিতা মাসুদ চৌধুরী ও তাদের পরিবার শুরু থেকেই Distressed Children International (DCI) এর কার্যক্রমের সাথে সংযুক্ত। তিনিও এ কাজের সাথে ছোটবেলা থেকেই পরিচিত ছিলেন। পরে এ সংগঠনের একজন যুব স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এ সংগঠন বাংলাদেশের অসহায় দুস্থ পরিবার ও শিশুদের জন্যে বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিশেষ করে শিশু শ্রম থেকে শিশুদের মুক্ত করে তাদেরকে পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনা। তাদের স্বাস্থ্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। এজন্যে তাদেরকে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা দেয়া। এসব কাজের জন্যে ডা. লীরা চৌধুরী ফান্ড কালেকশনেও ভ‚মিকা রাখছেন।
ডা. লীরা চৌধুরী মনে করেন- সমাজের বিত্তবানদের এসব দুস্থ ও অসহায় শিশুদের উন্নয়নে এগিয়ে আসা উচিত। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকেই সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি, কিন্তু একাকী বা একটি পরিবার সচ্ছল-স্বচ্ছন্দ হলেই চলবে না সমাজের পিছিয়ে থাকা বঞ্চিতদের উন্নয়নেও সহায়তা দিতে হবে; তবেই সুন্দর পৃথিবী গড়ে উঠবে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভ‚ত আমেরিকান ডা. লীরা চৌধুরী এক সুন্দর বাংলাদেশ এবং সুন্দর বিশ্বের প্রত্যাশা করেন যেখানে প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষার নিশ্চয়তা থাকবে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


