প্রচ্ছদ প্রতিবেদনপ্রচ্ছদ সাক্ষাৎকার

দেশের অব্যাহত উন্নয়নে বেসরকারি খাত ব্যাপক ভূমিকা রাখছে

মো. জসিম উদ্দিন

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম তারকা ব্যক্তিত্ব মো. জসিম উদ্দিন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্প বাণিজ্য গ্রুপ ‘বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্টিজ’র ভাইস চেয়ারম্যান। সময়ের মূল্যায়নে মো. জসিম উদ্দিন শুধু উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীই নন, তিনি শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের নেতা হিসেবেও স্বীকৃত। তিনি বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক এবং রপ্তানিকারক এসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট। তিনি এফবিসিসিআই পলিটিক্সের একজন পরিচিত মুখ। তিনি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই)-এর সাবেক পরিচালক এবং সাবেক ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট। আত্মপ্রত্যয়ী ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব জসিম উদ্দিন বেঙ্গল মিডিয়া করপোরেশন (আরটিভি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান, ডিজাইনার জিনস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। শিল্পের ক্ষেত্রে জসিম উদ্দিন একজন উদ্যমী ও গুণী ব্যক্তিত্ব। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এই মেধাবী শিল্পোদ্যোক্তা নিজ গ্রুপের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতা হিসেবে সংশ্লিষ্ট খাতের অন্যান্য উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদেরকেও সহযোগিতা প্রদান করে চলেছেন। তিনি তার দক্ষতা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা, সততা, সর্বোপরি উদ্যমী কর্মকান্ড দ্বারা বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিতে সক্ষম হয়েছেন।

 

ব্যবসায়ী নেতা জসিম উদ্দিনের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দক্ষ নেতৃত্বের সকল গুণাবলিই তার মধ্যে বিদ্যমান। তিনি দৃঢ়চিত্তে যে ব্যবসার কথা ভাবেন, সে ব্যবসার উন্নয়ন অতি দ্রুত সম্ভব হয়। এজন্যেই দেশের উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি বেশ জনপ্রিয়। তিনি সিনিয়রদের কাছে যেমন গ্রহণযোগ্য, তেমনি নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের কাছেও। এই গ্রহণযোগ্যতা তাকে এফবিসিসিআই’র পলিটিক্সে সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে যা তাকে সামনের নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করবে। মো. জসিম উদ্দিন শুধু নিজ প্রতিষ্ঠানকেই আলোকিত করেননি, তিনি তার সুচিন্তিত ও সুদক্ষ নেতৃত্ব দিয়ে দেশের প্লাস্টিক শিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির অনন্য সম্ভাবনাময় সেক্টর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশের ব্যবসা অঙ্গনের মেধাবী এই নেতার জন্ম ১৯৬৫ সালের ১ জানুয়ারি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানার নাটেশ্বর গ্রামে। তার পিতা মরহুম আলহাজ ইদ্রিস মিয়া ছিলেন এলাকার ধনাঢ্য, বিদ্যোৎসাহী একজন সমাজসেবক ব্যক্তিত্ব। তিনি তাঁর সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি ছিলেন বিশেষ মনোযোগী। তিনি চাইতেন সন্তানরা শিক্ষিত হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করুক। তাঁর এই চিন্তাভাবনার কারণেই জসিম উদ্দিন বিজনেস স্টাডিজে ¯œাতক ডিগ্রি লাভের পর ব্যবসা-বাণিজ্যে আত্মনিয়োগ করেন। জনাব জসিম উদ্দিন উপলব্ধি করেন, উন্নত দেশগুলোতে প্লাস্টিক সামগ্রীর ফিনিশিং বেশ গুণগত মানসম্পন্ন। যদি বাংলাদেশের প্লাস্টিক পণ্যও মানসম্পন্ন করে উৎপাদন করা যায় তবে এর চাহিদা দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছে যাবে। এভাবেই জসিম উদ্দিন অনেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়েই এ শিল্পে আসেন এবং প্লাস্টিক শিল্পখাতে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে সক্ষম হন। তিনি তার মেধা, অধ্যবসায় ও আন্তরিকতা দিয়ে এ খাতকে দেশের অর্থনীতিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন। তার সুদৃঢ় নেতৃত্ব ও আন্তরিকতায় ‘বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ’ ইতোমধ্যে দেশের শিল্প-বাণিজ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগ্রুপ হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করেছে।

মো. জসিম উদ্দিন ১৯৮৩ সালে তাদের পারিবারিক শিল্প সাম্রাজ্য বেঙ্গল গ্রুপের পরিচালক পদে দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেন। তার বুদ্ধিমত্তা, ব্যবসায়িক কৌশল ও প্রচেষ্টা অল্প সময়েই এই গ্রুপকে দেশের অনন্য শিল্পগ্রুপের প্রতিষ্ঠা এনে দেয়। প্রায় ৩৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিল্পখাতে পদচারণা তাকেও ব্যবসায়িকভাবে অনেক সমৃদ্ধ করেছে। বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের অন্তর্ভুক্ত বেঙ্গল প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- বেঙ্গল ওভারসিজ কর্পোরেশন লি., বেঙ্গল অ্যাডহেসিভ অ্যান্ড কেমিক্যাল প্রোডাক্টস লি., রোমানিয়া ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লি., বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপারস লি., বেঙ্গল কনসেষ্ট অ্যান্ড হোল্ডিং লি., পলি কর্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লি., বেঙ্গল করোগেটেড কার্টন ইন্ডাস্ট্রিজ লি., বেঙ্গল স্পিনিং অ্যান্ড ওয়েভিং লিমিটেড, বেঙ্গল হাইপার মার্কেট লি., বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, উইন্ডসর প্লাস্টিক (বিডি) লিমিটেড এবং বেঙ্গল টেলিটক লি.।
একজন শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে তারুণ্যে উজ্জীবিত মো. জসিম উদ্দিন কোনো শিল্প উদ্যোগ নেয়ার ক্ষেত্রে প্রথমেই ভাবেন যে, বাংলাদেশে এমন শিল্প স্থাপন করা প্রয়োজন যা হবে শ্রমঘন শিল্প। এতে করে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ ঘটবে। তার দক্ষ ও সুদৃঢ় নেতৃত্বে বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ বর্তমানে দেশের প্লাস্টিক শিল্প প্রস্তুত খাতের বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৪ হাজারের অধিক মানুষ কর্মরত। এবং এ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য দেশব্যাপী বাজারজাতকরণের সুবাদে আরও হাজার হাজার মানুষ এর সাথে ব্যবসায়িকভাবে সম্পৃক্ত। এ ছাড়া এই পণ্য শুধু দেশেই বিপণন নয়- বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে, দেশ অর্জন করছে বৈদেশিক মুদ্রা। দেশের ভাবমূর্তিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দেশের অর্থনীতিতে এই শিল্প গ্রæপের অবদানের স্বীকৃতিতে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৮-২০০৯ সালে শিল্পোদ্যোক্তা মো. জসিম উদ্দিন সিআইপি হিসেবে সম্মানিত হন। রপ্তানি খাতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরের জন্যে প্রধানমন্ত্রীর ন্যাশনাল এক্সপোর্ট ট্রফি সিলভার পদক এবং ২০০০-২০০১ অর্থবছরের জন্যে স্বর্ণ পদক ট্রফি লাভ করেন।

একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে মো. জসিম উদ্দিন অতুলনীয়। তিনি ৬ বার বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস এসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি ছিলেন। তিনি এফবিসিসিআই-এর সাবেক পরিচালক ও ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি নোয়াখালী সমিতি, ঢাকার আজীবন সদস্য।
ব্যবসার অন্যান্য খাতেও তার অবদান স্বীকৃত। তিনি দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান। আরটিভির পরিচালক হিসেবে তিনি মিডিয়া খাতেও অবদান রেখে চলেছেন। তিনি নতুন প্রজন্মের ব্যাংক বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
সমাজসেবা এবং শিক্ষা প্রসারেও তার ভূমিকা ব্যাপক। প্রতিষ্ঠা করেছেন সোনাইমুড়ি জসিম উদ্দিন কিন্ডার গার্টেন এবং মোর্শেদ আলম হাই স্কুল। তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্কুলে সহায়তাসহ দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি দিয়ে থাকেন।
দেশখ্যাত আত্মপ্রত্যয়ী শিল্পপতি এবং দক্ষ ব্যবসায়ী সংগঠক মো. জসিম উদ্দিনের চিন্তাচেতনায় এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন যে দেশটি হবে শিল্পায়িত- যে দেশের মানুষ কর্মহীন থাকবে না- কাজের জন্যে জমি অথবা বাড়িঘর বিক্রি করে বিদেশে যাবার প্রয়োজন অনুভব করবে না। নিজ দেশেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাবে। উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্বের পরিচয়ের বাইরেও মো. জসিম উদ্দিন একজন দিলখোলা হৃদয়বান মানুষ। তিনি বন্ধুবৎসল ও পরোপকারী। তিনি মানুষকে সম্মান করতে জানেন। তিনি বিশ্বাস করেন- পৃথিবী তখনই সুন্দর যখন নিজের চিন্তা-ভাবনা সুন্দর। যখন মানুষ মানুষের কল্যাণে কাজ করে।
একটি শিল্পায়িত উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা এবং আগামীতে এফবিসিসিআই-এর উপযুক্ত নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের কাছে পরীক্ষিত ব্যক্তিত্ব সেই গতিশীল ও স্বপ্নদর্শী মানুষ মো. জসিম উদ্দিন অর্থকণ্ঠকে একটি একান্ত সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। এখানে তা উপস্থাপন করা হলো

অর্থকণ্ঠ : আপনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের প্রাতিষ্ঠানিক সাংগঠনিক ট্রেড পলিটিক্সের সাথে জড়িত। এ ধরনের ট্রেড পলিটিক্স উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্যে কতটা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
মো. জসিম উদ্দিন : মূলত আমরা যারা উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী- তারা যেমন প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন চাই- তেমনই বিভিন্ন সেক্টরেরও উন্নতি চাই। এই উন্নতি একা আশা করলে পাওয়া সম্ভব নয়। এ জন্যে প্রয়োজন উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের সাংগঠনিকভাবে একটি ঐক্য। এই ঐক্যের মাধ্যমে আমরা পারস্পরিকভাবে বুঝতে পারি, উপলব্ধি করতে পারি ব্যবসা-বাণিজ্যের কোন সেক্টরে কি অসুবিধা রয়েছে- কি ধরনের উদ্যোগ নিলে তার সমাধান সম্ভব। এ খাতে কী প্রয়োজন ইত্যাদি বিষয় মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যেই আমরা উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন খাতওয়ারি সংগঠন গড়ে তুলি। এসব সংগঠনের সমন্বয়েই গড়ে উঠেছে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের পার্লামেন্ট হিসেবে খ্যাত ব্যবসায়িক সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এফবিসিসিআই। ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠন একদিকে যেমন উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে তেমনই সরকারের কার্যক্রম ধারায় ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে যথাযথ পরামর্শ প্রদান করে। অর্থাৎ এফবিসিসিআইসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন চেম্বার এবং সংগঠনসমূহ উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের কল্যাণ ও সরকারের ব্যবসায়িক সংক্রান্ত নীতিমালা গ্রহণের ক্ষেত্রে পরামর্শকের ভূমিকা পালন করে।

অর্থকন্ঠ : সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন ট্রেড সংগঠন এবং এফবিসিসিআইর নেতৃত্বে যারা থাকবেন তাদের কি দক্ষ নেতা হওয়া প্রয়োজন?
মো. জসিম উদ্দিন : অবশ্যই। দেখুন, আমি মনে করি রাজনৈতিক নেতৃত্বের চেয়েও ব্যবসায়ীদের নেতার যোগ্যতা ও দক্ষতা বেশি প্রয়োজন। কারণ আমরা বাহ্যিক দৃষ্টিতে হয়তো দেখি সরকার পরিচালনা করেন বিভিন্ন পর্যায়ের দক্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। কিন্তু রাষ্ট্রের জন্য অধিক প্রয়োজন দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ না হলে সরকার কোনো উন্নয়নের উদ্যোগই নিতে পারে না। বলা যায়, এই অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরাই অধিক কাজ করেন। তাদের দ¦ারাই দেশে শিল্পায়ন হচ্ছে, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকছে। দেশে কর্মসংস্থান হচ্ছে- উৎপাদনশীলতা বাড়ছে। বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে গেøাবাল সম্পর্ক গড়ে উঠছে। অর্থাৎ এক কথায় বলা যায়, উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরাই হচ্ছেন দেশের উন্নয়নের মূল কারিগর। সেই উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের যারা নেতৃত্ব প্রদান করছেন- তাদের অবশ্যই যোগ্য, দক্ষ ও পরীক্ষিত হতে হবে।
অর্থকণ্ঠ : আপনি বলেছেন- তাদের নেতৃত্ব পরীক্ষিত হতে হবে; এটা কি ভাবে?
মো. জসিম উদ্দিন : দেখুন, অনেকেই হঠাৎ করে, যেকোনো সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হবার জন্য দৌড়ঝাঁপ করেন- এটা ঠিক নয়। তাদের অবশ্যই সেক্টর অর্থাৎ বিভিন্ন চেম্বার কিংবা ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতা হতে হবে, তারপর এফবিসিসিআইর নেতৃত্বে যুক্ত হতে হবে। এখানে তারা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পরেই এই গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতা হতে পারেন যারা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, সরকারেরও পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের যোগ্যতার পাশাপাশি পরীক্ষিত নেতা হিসেবেও স্বীকৃতি পেতে হবে।
অর্থকণ্ঠ : অনেকেরই অভিযোগ, এফবিসিসিআইর নেতৃত্বকে রাজনৈতিকীকরণ করা হচ্ছে- আপনার বক্তব্য কী?
মো. জসিম উদ্দিন : এফবিসিসিআই মূলত দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বিজনেস ট্রেড সংগঠন। এই সংগঠন একদিকে যেমন শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করে- তেমনি জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের সাথেও সম্পৃক্ত। কারণ, উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার লোভ অথবা অন্য কোনো কারণে যাতে সাধারণ মানুষের কষ্ট না পেতে হয়- সে দিকে তাদের লক্ষ্য রাখতে হয়। আবার সরকারের অর্থনৈতিক উৎস যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হয়। এক্ষেত্রে এফবিসিসিআইর নেতৃত্বকে অবশ্যই রাজনীতিমুক্ত উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী হওয়া প্রয়োজন অথবা যিনি শীর্ষ নেতা হবেন তাকে রাজনৈতিক বিষয়ে নির্মোহ হতে হবে। তাকে উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও জনগণের স্বার্থকেই বড় করে দেখতে হবে। এ ক্ষেত্রে নেতৃত্বে রাজনৈতিকীকরণ করা হলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অর্থকণ্ঠ : আপনি এফবিসিসিআইর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে কী ভাবে কাজ করবেন?
মো. জসিম উদ্দিন : দেখুন, এফবিসিসিআইর একটি নিজস্ব দাপ্তরিক সচিবালয় আছে, বিভাগ আছে- এখানে প্রতিটি কাজ করা হয়। কিন্তু সে কাজগুলো যথাযথভাবে পরিচালিত বা পরিলক্ষিত হয় কিনা তা দেখা হয় না। আমি মনে করি, যে কোনো কাজে যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকে তাহলে সে কাজের লক্ষ্য বাস্তবায়ন হবেই। আমি এফবিসিসিআই সচিবালয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবো।


পরিচালকদের দ্বারা নির্ধারিত কমিটি করে দেয়া হবে এবং তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন হচ্ছে কিনা তার মূল্যায়ন করা হবে। কারণ আমি মনে করি, সাধারণ উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা তাদের আশা-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের জন্যেই এফবিসিসিআইর নেতা নির্বাচন করেন। সেখানে নেতার দায়িত্ব পালন না করার অর্থ ভোটার তথা উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের সাথে প্রতারণা করা।
অর্থকণ্ঠ : সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়, নেতা নির্বাচন নয়- উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া হয়!
মো. জসিম উদ্দিন : সাধারণ ভোটাররা চাইলে নির্বাচন করা উচিত। তবে যদি প্রার্থী একজনই হয় সেক্ষেত্রে নির্বাচনের কোনো সুযোগ থাকে না। আমি মনে করি, এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমার পর্যবেক্ষণে আমাদের নির্বাচন কমিশন অভিজ্ঞ এবং নির্মোহ।
অর্থকন্ঠ : প্লাস্টিক পণ্যসামগ্রী রপ্তানি খাতে কি ভূমিকা রাখছে জানতে চাইছি।
মো. জসিম উদ্দিন : আমরা এ দেশে উৎপাদিত প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছি। পাশাপাশি অন্য খাতের পণ্য বিদেশে রপ্তানি করতে আমরা সহায়তা করছি। গার্মেন্টস এবং খাদ্য শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি হিসাবে প্লাস্টিক শিল্প ব্যাপক অবদান রাখছে। দেশের তৈরি পোশাক ও নীট শিল্পই নয়, ফ্রোজেন ফুড, ফ্রোজেন ফিশ, জুট টোয়াইন, ফার্মাসিউটিক্যালস আইটেমস রপ্তানিসহ বিভিন্ন রপ্তানিকারক শিল্প প্রতিষ্ঠান প্লাস্টিক র‌্যাপিং বা মোড়কের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। অর্থাৎ প্লাস্টিক মোড়ক এবং গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ছাড়া কোনো পণ্যই বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব নয়। এছাড়া ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বিদেশে পাঠাতে ভালো প্লাস্টিক কাভার করতেই হয়। স্বাভাবিকভাবে বলা যায়, প্লাস্টিক আইটেম আমাদের অর্থনীতির অপরিহার্য প্রয়োজনীয় খাত।
অর্থকন্ঠ : দৈনন্দিন প্রয়োজনে প্লাস্টিক সামগ্রী কতটা অবদান রাখছে?
মো. জসিম উদ্দিন : সকালে ঘুম ভেঙেই মানুষের যে বিষয়টি প্রথমে প্রয়োজন তা হচ্ছে দাঁত ব্রাশ করা। সেই টুথ ব্রাশ, লেখার জন্য বলপেন, দেয়াল ঘড়ি, হ্যান্ডস গ্লাভসসহ নিত্য-প্রয়োজনীয় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে গেছে।
আবার দেখুন, পুরনো প্লাস্টিক পণ্য সংগ্রহ করেও সমাজের বিশাল এক টোকাই শ্রেণি কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে। প্লাস্টিক রিসাইক্লিং শিল্প গড়ে উঠেছে। এটি কাঁচামাল আমদানির বিকল্প হিসেবে কাজ করছে, অনেক কর্মসংস্থান ও জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অর্থকন্ঠ : একজন উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী হিসেবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার আশাবাদ কতটুকু?
মো. জসিম উদ্দিন : বাংলাদেশ উন্নয়নের সিঁড়িতে পা রেখেছে। আমরা দরিদ্র দেশের কাতার হতে বর্তমানে নিন্ম মধ্যাম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি এবং অচিরেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবো। আশা করা যায়, উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে সেদিন খুব দূরে নয় যেদিন আমরাও গর্ব করে নিজেদের উন্নত দেশ হিসেবে দাবি করতে সক্ষম হবো। এজন্য বর্তমান সরকারের সময় উপযোগী পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানাই। তবে এই উন্নয়নের পেছনে বেসরকারি খাত ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button