এফবিসিসিআই নির্বাচন দৌড়ে এগিয়ে ব্যবসায়ী নেতা জসিম উদ্দিন
দেশের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের পার্লামেন্ট খ্যাত এফবিসিসিআইয়ের আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা মো. জসিম উদ্দিন।
আগামী ৫ মে ভোট গ্রহণ এবং ৭ মে সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সহসভাপতি পদে নির্বাচন হবে।
মো. জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিপিজিএমইএ) সভাপতি পদে দায়িত্বপালন করেছেন। এই সমিতি থেকেই তিনি এফবিসিসিআইয়ের মনোনীত পরিচালক হবেন।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এফবিসিসিআইয়ের পরবর্তী সভাপতি পদের মনোনয়ন নিয়ে ১৬ ফেব্রæয়ারি রাজধানীর গুলশানের এক হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে একটি বৈঠক হয়। এতে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান, মীর নাসির হোসেন, এ কে আজাদ, কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সংগঠনের পরবর্তী সভাপতি পদের জন্য মো. জসিম উদ্দিনকে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়।

জানতে চাইলে মীর নাসির হোসেন বলেন, সাবেক সভাপতিদের অনেকেই ওই দিনের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। তাই শিগগিরই সবাই একসঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পাঙ্গনের পরিচিত মুখ মো. জসিম উদ্দিন ২০১০-১২ সালে এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ছিলেন। তার মালিকানাধীন বেঙ্গল গ্রæপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্লাস্টিক পণ্য, আবাসন, গণমাধ্যম, তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা রয়েছে। বর্তমানে সুইসটেল নামে রাজধানীর গুলশানে একটি পাঁচ তারকা হোটেল করছে এই শিল্পগোষ্ঠী। বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড নামে একটি নতুন ব্যাংকেরও অনুমোদন পেয়েছেন জসিম উদ্দিন। তিনিই ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। তার ভাই বেঙ্গল গ্রæপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান আলহাজ মোরশেদ আলম একজন সংসদ সদস্য, যিনি এখন মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান।
মো. জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, এফবিসিসিআইয়ের পরবর্তী সভাপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। ইতিমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ইতিবাচক সংকেত পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে একাধিকবার চেষ্টা করেও তীরে তরি ভেড়াতে পারেননি বেঙ্গল গ্রæপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন। তবে হাল ছাড়েননি। উদ্যমী ও দৃঢ়চেতা এই ব্যক্তিত্ব ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) ২০২১-২৩ সাল মেয়াদে সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
জানা গেছে, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ইতিমধ্যে সবুজ সংকেত পেয়েছেন মো. জসিম উদ্দিন। বিগত কয়েকটি নির্বাচনেও সভাপতি পদে সরকার-সমর্থিত প্রার্থীর বিপরীতে অন্য কেউ প্রতিদ্বন্দিতা করেননি। এমনকি সহ সভাপতির পদগুলোও ঠিক হয়েছে সরকারের সমর্থনে। একইভাবে এবারে জসিম উদ্দিনই বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের উত্তরসূরি হতে চলেছেন।
এফবিসিসিআইয়ের মোট পরিচালক পদ ৭২টি। এগুলোর মধ্যে ৩৬টি পদ পূরণ হয় দেশের জেলাভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন বা চেম্বারগুলো থেকে। বাকি ৩৬টি পদে আসেন পণ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিগণ। আবার ৭২টি পরিচালক পদের মধ্যে সাধারণ সদস্যরা ভোট দিয়ে ৪২ জন নেতা নির্বাচন করেন, বাকি ৩০টি পদে আসেন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর মনোনীত নেতারা। নির্বাচিত পরিচালকগণ নিজেদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি, একজন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ছয়জন সহসভাপতি নির্বাচিত করেন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক



