সম্পাদকীয়

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা

এনামুল হক এনাম ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা

– এনামুল হক এনাম ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক

দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, দেশের একটি মানুষও ঠিকানাবিহীন থাকবে না। স্বাধীনতার সুফল আমরা প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেব। দেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, প্রত্যেক মানুষের জীবনকে উন্নত ও অর্থবহ করব, প্রত্যেকের ঘরে আলো জ্বলবে- এটাই হচ্ছে আমাদের অঙ্গীকার।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে শেখ হাসিনার পক্ষেই এধরনের আশাবাদ মানায়। তিনি তাঁর পিতার যোগ্য উত্তরাধিকার। তিনি কাছ থেকে অনুভব করেছেন বঙ্গবন্ধুর মধ্যে এদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের বিষয়টিই প্রাধান্য পেতো। তিনি চেয়েছিলেন, দরিদ্র বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করতে। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই মৃত্যু তাঁকে আলিঙ্গন করেছে কিংবা বলা যায় দল ও দলের বাইরে কুচক্রী ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক নেতৃত্ব ও কতিপয় সেনা সদস্য ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু তাদেরকে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছে স্বল্প সময়ের মধ্যেই। তারপর দীর্ঘ পথ পরিক্রমা আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা এবং তাঁর দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এসেছে। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, ব্যর্থতা ও সাফল্যের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করেছেন। তাঁর বিচক্ষণ ও সুদৃঢ় নেতৃত্বের ফলেই বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলেছে। তাঁর নেতৃত্বের সাফল্য বাংলাদেশকে দরিদ্র দেশের কাতার থেকে তুলে এনেছে নিস্ম মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে। এই উন্নয়ন ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে এ দেশ অচিরেই উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে সক্ষম হবে। বাস্তবায়ন ঘটবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার।
সামনেই দেশের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য খাতের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশের উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের মাঝে ইতিমধ্যে প্রাণের স্পন্দন শুরু হয়েছে।

আগামী ২৫ ও ২৬ মে শুরু হচ্ছে গ্লোবাল বিজনেস সামিট দুবাই-২০২১। এতে করে বাংলাদেশের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের যারা দেশ-বিদেশে নানা ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত তাদের উৎপাদিত পণ্যের পাশাপাশি উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের মিলনমেলা হবে এটি। এদেশের উদ্যোক্তারা শুধু দেশেই নয়- আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেনসহ এশিয়া এবং ইউরোপিয়ান দেশসমূহেরও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে চলেছেন। তাদের অনেকেই বাংলাদেশ সরকারের সিআইপি হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। ইতিমধ্যে এসব প্রবাসী ব্যবসায়ী বাংলাদেশে ব্যাংক, শিল্পায়ন এবং হোটেল ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেছেন। আশা করা যায়, এধরনের সামিট নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক ব্যবসায়িক বন্ধন আরও জোরদার করবে এবং দেশ-বিদেশে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
পরিশেষে ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ একটি সুখী, সমৃদ্ধ স্বনির্ভর দেশে পরিণত হোক- যার জন্যে ১৯৭১ সালে ত্রিশ লক্ষাধিক মানুষ বুকের তাজা রক্ত দিয়েছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলেই তাঁদের সেই ত্যাগের প্রতি পূর্ণ মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button