২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই অর্থবছরের জন্যে মোট ৫,২৩,১৯০ কোটি টাকার বিশাল বাজেট পেশ করা হয়। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায়’ স্লোগানে পেশকৃত বাজেটে গত অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে ৫৮,৬১৭ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী অসুস্থ থাকায় বাজেট পেশ করতে পারেননি এবং বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনেও অংশ নিতে পারেননি। কিন্তু বাংলাদেশের সুযোগ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাই সাহসিকতার সাথে বাজেট পেশ করেছেন। অনেকে এই বাজেটকে উচ্চ আকাঙ্ক্ষার বাজেট বলে আখ্যায়িত করেছেন।
সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা এবি আজিজুল ইসলাম বলেছেন- অনেক কিছু পরিষ্কার করে বলা হয়নি। উচ্চকাঙ্ক্ষা সংবলিত বাজেট যা বাস্তবতার সাথে মিল খায় না। যা সম্পূর্ণ স্বপ্নপ্রসূত। তিনি বলেছেন, খাজনা ও অন্যান্য আয় বাবদ যা বলা হয়েছে তা আদৌ বাস্তব নয়। দেশের ব্যাংক খাত সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তাও বাস্তবতা বিবর্জিত।
তত্তাবধায়ক সরকারের অন্য একজন উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, একটি বাজেট কখনও স্বল্পমেয়াদি হয় না। এর মেয়াদ একটি অর্থবছরের জন্যে নয়। বাজেট সবসময় দীর্ঘমেয়াদি। এটা কি দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ মানুষের জন্যে বয়ে আনবে? ব্যাংকিং খাতে সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, কৃষি পণ্যের প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ নেই এ বাজেটে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জিডিপি গ্রোথ ২০ শতাংশ ধরে রাখা হবে এমনকি ২০৪০ সাল পর্যন্ত; কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি এমনটি নেই। আয়-ব্যয় চিত্র পরিষ্কার নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর সালাউদ্দিন আহমেদ, পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেছেন- ব্যাংক কমিশন হয়তো কোনো সমাধান খুঁজে পাবে কিন্তু সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কিছুই নেই। কর দাতার সংখ্যা কীভাবে বৃদ্ধি করা হবে- তা বলা হয়নি। ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এই বাজেটে আয় বৃদ্ধির উপায় বেশি আগের বাজেটগুলোর অপেক্ষা। ড. মাইনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ দাবি করেছে সকল অপ্রদর্শিত টাকা স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই বাজেটকে ‘ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব’ বলে উল্লেখ করেছে। আমরা চাই নতুন অর্থবছরের বাজেটের ফলপ্রসূ বাস্তবায়ন।
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে অর্থকণ্ঠের পাঠক, গ্রাহক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই ঈদ মুবারক।



