স্বাধীন বাংলাদেশের মর্যাদা এখন অনন্য। বাংলাদেশ উন্নয়নের অভিযাত্রায়। যার হাত ধরে দেশ এগিয়ে চলেছে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী। তিনি সুদূরপ্রসারী কর্ম-পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পিতার মতোই বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে অতি উচ্চতায় নিয়ে চলেছেন।
১৯৭১ থেকে ২০১৯ এই ৪৮ বছরে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই স্বীকৃতি এসেছে জাতিসংঘ থেকে। বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি আগেই পেয়েছিল। এবার জাতিসংঘের ঘোষণা এলো এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের।
জাতিসংঘ বলেছে, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ একটি মাইলফলক। দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে বাংলাদেশের মানুষ যে প্রত্যয় দেখিয়েছে সেটা প্রশংসার যোগ্য। নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষা বিস্তারেও বাংলাদেশ ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি অর্জন করেছে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণ এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষণায় বীর বাঙালি পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত হতে দৃপ্ত শপথ নিয়েছিলেন। ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধে। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি অর্জন করে মহান বিজয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি পুনর্গঠনের জন্য বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে সকলের প্রতি উদাত্ত আহŸান জানান। তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে, বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে গতিময় করতে উন্নয়নের প্রতিটি খাতে প্রতিটি বাঙালি অংশ নেয় অকুণ্ঠ চিত্তে। মুক্তিযুদ্ধের কাক্সিক্ষত সুফল লাভের আশায় প্রতিটি খাতে নেওয়া হয় ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা। তারই ধারাবাহিকতায় দেশ পুনর্গঠিত হয় প্রতিটি নাগরিকের শ্রমে-ঘামে, মেধা-মনীষায়। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে বাংলাদেশের অর্জন কম নয়। দরিদ্র জাতির কলঙ্ক মুছে মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে শির উঁচু করে দাঁড়িয়েছে বাঙালি।
দেশের আজকের এই উত্তরণে রয়েছে এক বন্ধুর দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাহসী এবং অগ্রগতিশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের সুবাদে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত রূপান্তর ও উল্লেখযোগ্য সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে এ জাতিকে দ্রুত উন্নয়নের পথে নিয়ে এসেছে।
২০১৯ সালে বিশ্বের ৪১তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। আর দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। এই ধারাবাহিকতায় ২০৩৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ২৪তম স্থান দখল করে বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তালিকায় প্রবেশ করবে।
বাংলাদেশ উন্নয়নের যে মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছে, সেখান থেকে পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য স্থির করেছে। আশা করি সে লক্ষ্য পূরণের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার সুখী সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
এনামুল হক এনাম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক



