অর্থনীতি

যেখানেই অবস্থান করুন না কেন দেশের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে

শেখ মনজুর মোর্শেদ, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও, সাম্পান লিমিটেড, জাপান

শেখ মনজুর মোর্শেদ বাংলাদেশের সেই তরুণদের একজন- যারা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিশীল করার লক্ষ্যে দেশে উচ্চ শিক্ষা শেষে বিদেশে গিয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি জাপান এবং বাংলাদেশের লেদার বিজনেসের অন্যতম সফল প্রতিষ্ঠান ‘সাম্পান লিমিটেড’ এর উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব এবং এ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইিও)।
সুদর্শন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব শেখ মনজুর মোর্শেদের জন্ম ১৯৬৫ সালের ৭ জুন। তার পিতা শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ এবং মা রানু সাখিনা আহমেদ। মনজুর মোর্শেদের পৈতৃক ভিটা বরিশালের শায়েস্তাগঞ্জের ভাটিখানায়। পিতা শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ ছিলেন চাকরিজীবী। মেধাবী ছাত্র শেখ মনজুর মোর্শেদ ১৯৮১ সালে কাঞ্চন হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৩ সালে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি ১৯৮৮ সালে রসায়ন শাস্ত্রে বিএসসি অনার্সসহ এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। জ্ঞানপিপাসু মনজুর মোর্শেদ ১৯৮৯ সালে উচ্চ শিক্ষার্থে জাপান যান। তিনি এখানে হাইটেক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, তোবিগি থেকে ১৯৯৩ সালে কম্পিউটার সায়েন্সে গ্র্যাজুয়েশন লাভ করেন।


পড়াশোনা শেষে তিনি একজন কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ৩/৪ বছর সানক্যুক্যু টেকনোলজি এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মিক্যুয়া ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডে নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালন করেন। চাকরি অবস্থাতেই তিনি উপলব্ধি করেন, জাপানে ব্যবসা করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যসহ অনেক পণ্যেরই এখানে বেশ চাহিদা বিদ্যমান। এই দূরদর্শী চিন্তা-ভাবনা থেকেই তিনি তার পিতার মাধ্যমে ১৯৯৫ সালে দেশে Sampan Limited নামে একটি লেদার ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন করেন। তিনি জাপানে এ প্রতিষ্ঠানের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখেন। সাম্পান লিমিটেড শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশে তার পিতার দক্ষ ও বলিষ্ঠ তত্ত্বাবধানে উৎপাদিত মানসম্পন্ন ‘স্যু’ শেখ মনজুর মোর্শেদের অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপনায় জাপানে বেশ ভালোভাবে বাজারজাত হতে থাকে। এ অবস্থায় এক পর্যায়ে ২০০১ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরোপুরি উদ্যোক্তা হয়ে যান এবং সাম্পান লিমিটেডের দায়িত্ব নেন। তিনি সাম্পান লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সাফল্য অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। জাপানের মতো শীর্ষ পর্যায়ের উন্নত দেশে বাংলাদেশি পণ্যের ব্যবসায়িক সাফল্য যে কোনো বিচারে গুরুত্বপূর্ণ। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ এই সীলযুক্ত সাম্পান ব্র্যান্ডের জুতা, মানিব্যাগ, হ্যান্ড ব্যাগ, ভ্যানিটি ব্যাগসহ চামড়াজাত বেশ কিছু পণ্য জাপানিরা অত্যন্ত আগ্রহের সাথে ব্যবহার করছেন। এর ফলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে তারুণ্যে উজ্জীবিত শিল্প ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব শেখ মনজুর মোর্শেদের আন্তরিক উদ্যোগ ও দূরদর্শী চিন্তায়।

শেখ মনজুর মোর্শেদ ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন Rayan Ltd. সাম্পান গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে Sampan Shoes Ltd. Sampan Trading Ltd, Rayan Crafts Ltd. Ges DID Ltd. এবং Sampan Retail Shop রয়েছে ঢাকা এবং জাপানে।
শেখ মনজুর মোর্শেদ উদ্যোক্তা হলেও পারিবারিক বলয়ে সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাপারে খুবই উদ্যোগী এবং তৎপর। তার স্ত্রী রুনা আহমেদ একজন সুগৃহিণী এবং স্বামীর সুপরামর্শক। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে Ayan Morshed University of California (USA) তে Business & Economics বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র। মেয়ে Rayan Morshed জাপানের কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের গ্রেড-১০ এর ছাত্রী।
আত্মপ্রত্যয়ী ও স্বপ্নদর্শী শেখ মনজুর মোর্শেদের মূল উদ্দেশ্য শুধু অর্থ উপার্জন নয়। তিনি তার উদ্যোগ ও কর্মের মাধ্যমে মাতৃভ‚মি বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করে তুলেছেন। কারণ, পণ্যের মান বিষয়ে তিনি আপসহীন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হলে এই দেশ পৃথিবীর শীর্ষ উন্নত একটি রাষ্ট্রে পরিণত হতে সক্ষম হবে। তার মতে, দেশের অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে এটা যেমন সত্যি, তেমনি অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তারও বাড়ছে। স্পষ্টভাষী এই দেশপ্রেমিক উদ্যোক্তা বলেন, বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য চিকিৎসা ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা বাড়াতে হবে; দেশকে পরিণত করতে হবে মানবিক দেশে। আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি তার ছেলে-মেয়েদের প্রতি মুহূর্তেই স্মরণ করিয়ে দেন তোমাদের জন্ম এমন এক দেশে যে দেশ অর্জন করতে লাখ লাখ মানুষকে রক্ত দিতে হয়েছে, যে দেশের মানুষকে মাতৃভাষা বাংলা টিকিয়ে রাখতে ১৯৫২ সালে শহীদ হতে হয়েছে। তিনি চান সন্তানরা দেশপ্রেমিক এবং সুনাগরিক হোক, শিক্ষা-বিদ্যা যেখানে অর্জন করুক না কেন- তারা যেন দেশের কল্যাণে কাজ করে।
শেখ মনজুর মোর্শেদ জাপানের বাংলাদেশ কমিউনিটির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। তিনি দেশের যে কোনো দুর্যোগ মুহূর্তে ব্যক্তিগত এবং কমিউনিটির মাধ্যমে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ান এবং বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করেন।৩
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button