স্বপ্ন অনেকেই দেখেন, কিন্তু সবার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয় না। এর জন্যে চাই সাধনা, অধ্যবসায় এবং লক্ষ্য স্থির করে এগিয়ে চলা। তেমনই একজন প্রবাসী উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব আব্দুল আজিজ খান সিআইপি। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশ কাতারের বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী।
কাতার প্রবাসী এই আলোকিত উদ্যোক্তার জন্ম বাংলাদেশের পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে এক ব্যবসায়ী পরিবারে। তিনি ১৯৬৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আবুল হোসাইন খান এবং মা মরহুম সূর্যবানু। এই দু’জনের নামে পুত্র আব্দুল আজিজ খান ট্রাস্ট গঠন করেছেন- যার মাধ্যমে এলাকার দুস্থ ও অসহায় মানুষদের মাঝে বিভিন্ন দুর্যোগ মুহূর্তে সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করেন। ছোটবেলা থেকেই আব্দুল আজিজ খানের ইচ্ছা বিদেশ গমনের। তিনি ভাবতেন, প্লেনে উড়ে যদি বিদেশে যাওয়া যেতো- তাহলে খুব মজা হতো। তার এই আগ্রহের কথা শুনে বাবা-মা হাসতেন, প্রাণভরে দোয়া করতেন। তার ইচ্ছার বাস্তবায়ন ঘটে ১৯৮৯ সালে।
কর্মোদ্যোগী তরুণ আব্দুল আজিজ খান ১৯৮৯ সালের ৫ জানুয়ারি কাতার যান চাকরি নিয়ে। তিনি Qatar Petrochemical Companyতে ৫ বছর চাকরি করেন। পরে তিনি Foodstuffs ব্যবসা শুরু করেন। ছয় বছর ব্যবসা চালিয়ে যান। তার মধ্যে আরো বড় ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন সবসময়ই কাজ করতো। এ পর্যায়ে তিনি কাতারের রিয়েল এস্টেট খাতের ব্যবসা বেছে নেন। তিনি ২০০১ সালে Abdulaziz Khan real estate W.L.L প্রতিষ্ঠা এবং এই ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। এই ব্যবসা বেছে নেওয়ার পেছনে তার মধ্যে একটি চিন্তা কাজ করেছে। তিনি মনে করেন, দেশে-বিদেশে প্রতিটি মানুষই আশা করে নিজস্ব ঠিকানা। তিনি ভাবলেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসার পাশাপাশি মানুষের উপকার করাও সম্ভব। আরেকটি বিষয়, এ ব্যবসার মাধ্যমে সমাজের অনেক মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একজন উদ্যোগী ও অগ্রসর চিন্তার মানুষ আব্দুল আজিজ খান এ ব্যবসায় স্থায়ী হয়ে যান। বর্তমানে আব্দুল আজিজ খান রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় কাতারে বিশেষ করে বাংলাদেশ কমিউনিটিতে বেশ জনপ্রিয়। কারণ, আব্দুল আজিজ খান গ্রাহকের চাহিদা-মতো অনেককেই অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় করে দিয়েছেন। সাদা মনের মানুষ আব্দুল আজিজ খান বিভিন্ন স্থানে অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে নিজে বিনিয়োগ করেন। কোথাও কিনে রাখেন তারপর সেগুলো বিক্রয় করেন। আবার কিছু অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়াও দেন। ব্যবসার অভিজ্ঞতায় তিনি বুঝে গিয়েছেন কোন শ্রেণির মানুষের চাহিদা কেমন। এখন অনেকেই তাদের ঠিকানার খোঁজ পেতে Abdulaziz Khan Real Estate W.L.L এর শরণাপন্ন হচ্ছেন।

এ খাতে আব্দুল আজিজ খান একজন বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী।
আব্দুল আজিজ খান একজন দেশপ্রেমিক প্রবাসী বাংলাদেশি। বিদেশে প্রাচুর্যের মাঝে নিজের দেশকে ক্ষণিকের জন্যেও ভুলে যান না। বিদেশে উপার্জন করা অর্থ নিজ দেশে প্রেরণ করেনÑ কারণ তিনি জানেন, বৈদেশিক মুদ্রা দেশের জন্যে কত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো দেশপ্রেমিক প্রবাসী রয়েছেন বলেই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিন দিন বাড়ছে এবং ইতোমধ্যে তা ৩৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার অতিক্রম করেছে।

সম্ভাবনাময় রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা আব্দুল আজিজ খান বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে ৪ বার সিআইপি মনোনীত হয়েছেন। তিনি ২০০৯, ২০১৩, ২০১৭ ও ২০১৯ সালের জন্যে সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন। তার পিতা ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলার একজন স্বনামখ্যাত ব্যবসায়ী। দেশের স্বাধীনতার আগে থেকেই পারিবারিকভাবে তাদের ‘বেকারি’ ও কনফেকশনারি ব্যবসা ছিল। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তিনি ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন।
হাসিখুশি প্রাণোচ্ছল ও বন্ধুবৎসল আব্দুল আজিজ খান এনআরবি সিআইপি এসোসিয়েশন, কাতার এর যুগ্ম মহাসচিব এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি, কাতার এর উপদেষ্টা। তিনি কোনো দলীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নন, তবে তার রাজনীতি হচ্ছে মাতৃভ‚মি বাংলাদেশের উন্নয়নের রাজনীতি। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশ দুর্নীতিমুক্ত হলে এবং বিভেদমুক্ত ঐক্যবদ্ধভাবে যদি সকল রাজনৈতিক দল জাতীয় উন্নয়নে কাজ করে তবে বাংলাদেশ তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছুতে সক্ষম হবে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


