আলমগীর কবির, ফ্লোরিডার বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী
বাংলাদেশের অনেক উদ্যমী ও স্বপ্নদর্শী সন্তান বিদেশে গিয়েও কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী হিসেবে সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়েছেন; তাদেরই একজন আলোকিত কৃতী উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী ফ্লোরিডার আলমগীর কবির। বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সদস্য আলমগীর কবির শুধু চরভদ্রাসন ও সদরপুরেরই কৃতী সন্তান নন, তিনি বাংলাদেশের গর্বিত এক পুরুষ। আমেরিকার ফ্লোরিডায় মূলধারার শীর্ষ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। তার রয়েছে বিশাল আয়তনের কয়েকটি শপিং মল। রয়েছে রিয়েল এস্টেটের জমজমাট ব্যবসা। একই সাথে পণ্য বিপণন ব্যবসা।
আলমগীর কবিরের পিতা হাজী আব্দুর রহীম এবং মা রাবেয়া খাতুন। আলমগীর ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও কর্মোদ্যোগী। ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর ১৯৯৫ সালে তিনি আমেরিকার ‘ডিভি লটারি’তে অন্তর্ভুক্ত হন। এমনিতেই ছোটবেলা থেকে ভাগ্য বদলানোর ইচ্ছা তাকে কাজের প্রতি স্পৃহা জাগাতো। পিতা এলাকার সম্মানিত ও ধনাঢ্য ব্যক্তিত্ব। আলমগীর কবির ডিভি লটারি পেয়ে ‘৯৫ সালে পাড়ি জমান আমেরিকার ফ্লোরিডায়। সেখানে গিয়ে অবস্থা বুঝে শুরু করেন ‘রিটেইল বিজনেস’। আলমগীর কবির সবসময় পবিত্র কোরানের সেই বাণী বুকের মধ্যে ধারণ করতেন, যাতে লেখা আছে যে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করে, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন।’ নিরাশ হতে হয়নি আলমগীর কবিরকে। অল্প দিনের মধ্যেই সাফল্যের মুখ দেখেন তিনি। কয়েক বছরের মধ্যে গড়ে তোলেন একটি প্রতিষ্ঠান। আজ তার ১৩/১৪টি বিশাল শপিংমল। সাফল্যের সোনালি দিগন্তে তার পদচারণা। সমৃদ্ধির সোনালি সিঁড়ি বেয়ে কর্মপ্রিয় ও পরিশ্রমী আলমগীর কবির এখন ফ্লোরিডার শীর্ষ ব্যবসায়ীদের একজন।
নিজে প্রতিষ্ঠিত হলেও তার ধ্যান, জ্ঞান, কর্মকার্য সব মাতৃভূমি বাংলাদেশ বিশেষ করে চরভদ্রাসনসহ ফরিদপুরকে ঘিরে। তার মধ্যে দেশপ্রেমের গভীর অনুভব বিদ্যমান। তিনি মনে করেন, পিছিয়ে থাকা ও নদী ভাঙনের অঞ্চল হিসেবে চরভদ্রাসনের অনেক মানুষকেই দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করতে হয়। তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের উন্নয়নের জন্য। তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। করোনা দুর্যোগ সময়ে তিনি নিজ উপজেলাসহ অন্য কয়েকটি উপজেলার মসজিদ-মাদ্রাসার অবহেলিত ইমাম, মুয়াযযিন ও শিক্ষকদের মাঝে ত্রাণ সেবা প্রদান করছেন।
আলমগীর কবির একজন সমাজসচেতন সংগঠক। মানুষের কল্যাণ চিন্তাকে প্রাধান্য দেন। তিনি এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডার সাথে জড়িত। সাউথ ফ্লোরিডায় যত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় তিনি সেখানে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। যারা আমেরিকায় গিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চান তাদেরকে তিনি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেন। তিনি বলেন, এখানে সিস্টেম অত্যন্ত ভালো-স্বচ্ছ। প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম এবং আইনকানুন মান্য করা। পেপারওয়ার্ক তৈরি করে ফিসসহ জমা দিলে দ্রæতই ব্যবসার অনুমোদন পাওয়া যায়। কাগজপত্র তৈরি করতে আইনজীবী রয়েছে।
সময়ের স্মার্ট এবং দূরদর্শী ব্যবসায়ী আলমগীর কবির মনে করেন, বাংলাদেশের প্রবাসীদের এমন কার্যক্রম করা উচিত যাতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। প্রায় ২৫ বছর ধরে আমেরিকায় অবস্থান করে আলমগীর কবির ব্যবসায়িক যে সাফল্য লাভ করেছেন তা তিনি এলাকার মানুষের কল্যাণে ব্যয় করছেন। এলাকায় তিনি একজন দানবীর হিসেবে সুপরিচিত।
দেশপ্রেমিক ব্যবসায়ী আলমগীর কবির ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নতুন ধারার জন্ম দিয়েছেন। তিনি উৎপাদনের রাজনীতির মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের আন্দোলন এগিয়ে নিয়েছেন। তার নির্দেশিত পথ ধরেই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। আলমগীর কবির বর্তমানে ফ্লোরিডা বিএনপির প্রেসিডেন্ট। এক প্রশ্নের জবাবে তারুণ্যে উজ্জীবিত ব্যক্তিত্ব আলমগীর কবির বলেন, কোনো মানুষ যদি উন্নতি করতে চায় তাহলে হার্ডওয়ার্কের কোনো বিকল্প নেই। পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে এবং প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। শুধু বীজ বপনে ফসল হয় না, তার জন্যে পরিশ্রম দরকার।
মানুষ হিসেবে আলমগীর কবির প্রাণবন্ত, অমায়িক ও মমত্বশীল। আত্মপ্রত্যয়ী ও দৃঢ়চেতা আলমগীর কবির তার পিতার নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘হাজী আব্দুর রহীম ট্রাস্ট’। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে চরভদ্রাসন এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নানা ধরনের সামাজিক উন্নয়ন সহযোগিতা প্রদান করা হয়।
এক প্রশ্নের উত্তরে আলমগীর কবির বলেন, আমরা প্রবাসীরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠালাভ করবে যা ছিল উনিশ শ’ একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক



