দিনাজপুরের কৃতী সন্তান মোজাহারুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্য অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা লাভের মাধ্যমে শুধু নিজেকেই গৌরবান্বিত করেননি, বাংলাদেশকেও এনে দিয়েছেন যথাযোগ্য সম্মান।
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রামপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত সচ্ছল কৃষক পরিবারে ১৯৭৬ সালের ২১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন মোজাহারুল ইসলাম। তারা ৮ ভাই। বিদ্যোৎসাহী পিতা তার সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাপারে ছিলেন অকৃপণ। মেধাবী ছাত্র মোজাহারুল ইসলাম স্থানীয় মুন্সিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর ভর্তি হন দিনাজপুর সরকারি কলেজে। তিনি ১৯৯৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। পরে রাজধানী ঢাকায় চলে আসেন এবং ভর্তি হন সরকারি তিতুমীর কলেজে। সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ২০০৫ সালে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। ১৯৯৭ সালে তিনি পেশাজীবনে সংশ্লিষ্ট হন এবং যোগদান করেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থায় (এনএসআই)।

এনএসআইতে ১০ বছর চাকরি করার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি ২০০৭ সালে আমেরিকা পাড়ি জমান। দেশে গোয়েন্দা সংস্থায় চাকরির সুবাদে সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গসহ সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক মহলে তার গভীর সুসম্পর্ক এবং প্রভাবও ছিল। আমেরিকা আসার পর শুরুতে তাকে অড জব করতে হয়। কিন্তু মেধাবী, দক্ষ ও আত্মপ্রত্যয়ী মোজাহারুল ইসলামকে বেশিদিন এভাবে কাটাতে হয়নি। তিনি ২০১১ সালে আমেরিকায় ব্যবসা শুরু করেন।
পরিশ্রম ও পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি ব্যবসা ক্ষেত্রে দ্রুতই সাফল্যের মুখ দেখতে থাকেন। তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১৭ সাল ছিল তার ব্যবসার জন্যে হিরন্ময় ক্ষণ। তিনি রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সাথে যুক্ত হন। এই ব্যবসা চলতে থাকে রকেট গতিতে। তার প্রতিষ্ঠিত ‘তাজমহল রেস্টুরেন্ট’ স্বল্প সময়েই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ব্যাপক সুনাম অর্জন করে এই রেস্টুরেন্ট।
স্বপ্নদর্শী, আত্মপ্রত্যয়ী উদ্যোক্তা মোজাহারুল ইসলাম মনে করেন, কোনো কাজই মূল্যহীন নয়। তিনি বলেন, এদেশে আসার পর নর্থ ফ্লোরিডায় সুপার মার্কেট ম্যানেজমেন্টের চাকরি পরবর্তী পর্যায়ে তার ব্যবসায়ী হবার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেখানে তিনি যে কাজ শিখেছিলেন, তা কাজে লাগিয়েছেন নিজ ব্যবসায়। সাফারি মার্কেটে কাজ শিখেছিলেন, এ সুবাদে ২০১১ সালে সুপার সার্কুলেশন মার্কেট গড়ার সাহস পান তিনি।
নিষ্ঠাবান ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব মোজাহারুল ইসলাম বিদেশে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও বাংলাদেশ ও এদেশের জনগণকে সব সময়েই হৃদয়ে ধারণ করেন। তিনি এদেশের বিশেষ করে নিজ এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে সহযোগিতা প্রদানের জন্যে তার নামে একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি অসচ্ছল, অসহায় মেধাবী ছাত্রদের উচ্চ শিক্ষায় সহায়তা দেন; নিজ গ্রামে ছাগল, গরু, সেলাই মেশিন প্রদান করে কর্মোদ্যোগী মানুষ তৈরি করেন। শীতের সময় কম্বল প্রদান করেন। নি¤œবিত্ত অসহায় মেয়ের বিয়েতে অর্থ সাহায্য দেন।
তারুণ্যে উজ্জীবিত ব্যবসায়ী মোজাহারুল ইসলাম ফ্লোরিডায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত। তিনি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা’র একজন অন্যতম সংগঠক। তিনি ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকার্যে সহায়তা দিয়ে থাকেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ৫ লাখ ইউএস ডলার নিয়ে গেলে গ্রীন কার্ড হবে এবং স্থায়ীভাবে থেকে উদ্যোক্তা হতে চাইলে সেখানকার ব্যবসায়ীর সহযোগিতা লাগবে। তিনি এ ব্যাপারে সহায়তা প্রদান করে থাকেন।
বাংলাদেশ নিয়ে তিনি বরাবরই আশাবাদী এবং উচ্চ চিন্তা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী জাতীয় সম্পদ, একে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে রাষ্ট্রের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রমী। সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে।
সদা হাসিমুখ মোজাহারুল ইসলাম জীবন গড়ার লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করে থাকেন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক



