অর্থনীতিপ্রতিবেদন

আমেরিকায় বৃহত্তর সিলেটবাসীর সমস্যা সমাধানে কাজ করছে

মইনুল হক চৌধুরী হেলাল প্রেসিডেন্ট জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা, ইনক

বিদেশেও যারা দেশের কাদামাটিকে বুকে ধারণ করে তৃপ্তির হাসি হাসতে পারেন তাদেরই একজন বাংলাদেশি আমেরিকান মইনুল হক চৌধুরী হেলাল। তিনি বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেটবাসীর গৌরবময় সংগঠন ‘জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা, ইনক’-এর প্রেসিডেন্ট। তিনি ‘বাংলাদেশি আমেরিকান এসোসিয়েশন অব কানেকটিকাট (বিএএসি)’ এরও প্রেসিডেন্ট। তিনি এর আগে ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দু’বার জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
আত্মপ্রত্যয়ী ও স্বপ্নদর্শী ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব মইনুল হক চৌধুরীর জন্ম ১৯৬৭ সালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী গ্রাম রাইখালির শিক্ষিত ও অভিজাত চৌধুরী পরিবারে। তার পিতা মরহুম শফিকুল হক চৌধুরী। তিনি ছিলেন স্বাধীনতা-উত্তর সিলেটের জালালপুর ইউনিয়নের প্রথম চেয়ারম্যান। একজন রাজনীতিবিদ এবং সমাজসেবক হিসেবেও তিনি ছিলেন সিলেটের অতি পরিচিত মুখ। তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম একজন। পারিবারিক ঐতিহ্যের এক সুউন্নত ইতিহাসের অধিকারী মইনুল হক চৌধুরী। তার দাদা আলহাজ¦ সুরুজ আলী চৌধুরী ১৯৩৬ সালে ও পরবর্তীতে ৪ বার হজ¦ পালন করেন। ধর্মভীরু এই মানুষটি আসাম, জুশহাট এবং দার্জিলিংয়ের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁদের পূর্ব পুরুষ কাজী কামালউদ্দিন বাগদাদী সুলতানী যুগে সিলেট অঞ্চলের বিচারক ছিলেন। তাঁর মা ফৈজুন্নেছা চৌধুরানী ছিলেন একজন দানশীলা। সিলেটের বনেদি চৌধুরী পরিবারের মেধাবী সন্তান মইনুল হক চৌধুরী প্রথম জালালপুর প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করলেও ভাইয়ের চাকরির সুবাদে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল প্রাইমারি স্কুলেও পড়ার সুযোগ পান। অত্যন্ত চঞ্চল ও বুদ্ধিদীপ্ত হেলাল চৌধুরী সিলেটের এইডেড হাই স্কুলেও পড়াশোনা করেন এবং জালালপুর হাই স্কুল সিলেট থেকে ১৯৮৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং সিলেট এমসি ইউনিভার্সিটি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সসহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট হন। তিনি ১৯৯০ সালে এমসি বিশ^বিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের বার্ষিকী সম্পাদক নির্বাচিত হন।
মইনুল হক চৌধুরী হেলাল পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সমাজসেবা-মূলক কাজে ব্রতী হন। তিনি সাউথ সুরমা জালালপুর ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন। তিনি এ কলেজ প্রতিষ্ঠা কমিটির ফাউন্ডিং জেনারেল সেক্রেটারি। তিনি জালালপুর জনকল্যাণ সমিতির প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং ১০ বছর শেফা ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক পরিচালনা করেন।


সুদর্শন তরুণ মইনুল হক চৌধুরী ১৯৯৭ সালে আমেরিকা যান। কাজের পাশাপাশি তিনি সেখানে বিভিন্ন সংগঠন এবং সামাজিক কর্মকাÐের সাথেও জড়িত হন। তিনি জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক এবং বাংলাদেশি আমেরিকান এসোসিয়েশন অব কানেকটিকাট (বিএএসি) এর প্রেসিডেন্ট। আমেরিকান বাঙালি কমিউনিটিসহ সিলেট কমিউনিটির উন্নয়নে তিনি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ২০১৯-২০২১ সালের জন্য তিনি জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক. এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।
এই গুণী সংগঠকের নেতৃত্বে দু’টি সংগঠনই কোভিড-১৯ ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত আমেরিকান বাংলাদেশিদের সহায়তা, সচেতনতা সৃষ্টি, খাদ্য সহায়তা ও মেডিক্যাল কেয়ার করে চলেছে। ঢাকার জালালাবাদ এসোসিয়েশনের গাইডলাইন অনুসরণ করেই তারা আমেরিকায় জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি তার সহকর্মীদের নিয়ে রাতদিন ক্লান্তিহীনভাবে আমেরিকায় বৃহত্তর সিলেটবাসীর সমস্যা সমাধানে কাজ করে চলেছেন।
মইনুল হক চৌধুরী হেলালের স্ত্রী মিমি চৌধুরী একজন উদারমনস্ক নারী। তিনি স্বামীর সকল সমাজসেবামূলক কাজের অনুপ্রেরণাদাত্রী। মিমি চৌধুরীর পিতা এডভোকেট আজিজুল মালিক চৌধুরী একজন বিশিষ্ট আইনজীবী। সিলেট ডিস্ট্রিক্ট বার-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং জেলা স্পোর্টস এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং একজন আলোকিত ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব।
মইনুল হক চৌধুরী ও মিমি চৌধুরী দু’ সন্তান আনিসা চৌধুরী ও নিভান চৌধুরীর গর্বিত পিতা-মাতা। তাদের আশা এবং আকাক্সক্ষা- সন্তানরা যেন মানুষের মতো মানুষ হয় এবং তাদের মধ্যে যেন বাঙালি সাংস্কৃতিক আবহ বিদ্যমান থাকে।
মইনুল হক চৌধুরী লেখক ও গবেষক হিসেবেও কাজ করে চলেছেন। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে সিলেটের প্রাচীন ইতিহাস সমৃদ্ধ ‘হযরত শাহজালাল ও সিলেটের ইতিহাস’।


আলাপকালে মইনুল হক চৌধুরী বলেন, আমাদের জন্মস্থান বাংলাদেশ, সেখানেই আমাদের শেকড়। মানুষ মাকে যেমন ভুলতে পারে না তেমনই জন্ম শেকড়কেও না। বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে তিনি অনেক খুশি। কিন্তু পাশাপাশি দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং ছলচাতুরির নানা সংবাদে বেশ বিব্রত বোধ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে অবশ্যই মানবিক ভ‚মিকায় বেশি অবতীর্ণ হতে হবে। সরকার মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যেমন বিশ^বাসীর কাছ থেকে সুনাম কুড়িয়েছে তেমনই দেশে আইন ও বিচারিক শাসন প্রতিষ্ঠায়ও আন্তরিক হতে হবে।
বৃহত্তর সিলেটের কৃতী সন্তান বাংলাদেশি আমেরিকান মইনুল হক চৌধুরী অনেক বড় স্বপ্ন দেখেন। তিনি আশাবাদী বাংলাদেশ সকল বিবেচনায় উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে সক্ষম হবে। তারা আমেরিকায় ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, পহেলা বৈশাখ পালন করেন। তারা আশা করেন প্রবাসী বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম দেশের ইতিহাস-ঐহিহ্য নিয়ে গর্ব করার সুযোগ পাবে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button