অর্থনীতিসাক্ষাৎকার

বর্তমান সরকার প্রবাসীদের অনেক সম্মান দিচ্ছে- যা আমাদের অনুপ্রাণিত করে

মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া স্পন্সর ডিরেক্টর এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লি:

মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া আত্মপ্রত্যয়ী এক বাংলাদেশি উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী যিনি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম দেশ ওমানের ব্যবসা-বাণিজ্য অঙ্গনে সুপ্রতিষ্ঠিত হবার গৌরব অর্জন করেছেন। তার এই ব্যবসায়িক সাফল্য শুধু তাকেই সম্মানিত করেনি, বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও উজ্জ্বল করেছে। তিনি ওমানের উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান ABROAD এবং Rashed Establishment এর প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার। এই উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী দেশের অন্যতম ব্যাংক NRB Global Bank Ltd. এর স্পন্সর ডিরেক্টর।
ওমান প্রবাসী মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়ার জন্ম বাংলাদেশের চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গশ্চি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পরিবারে ১৯৫৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। পিতা মরহুম আব্দুল হক মাতুব্বর এবং মা মরহুমা নাফিসা বেগম। ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধিদীপ্ত মোহাম্মদ শাহজাহান নিজ গ্রামের গশ্চি হাই স্কুল থেকে ১৯৭৩ সালে এসএসসি এবং রাঙ্গুনিয়া কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। এরপর একই কলেজে ভর্তি হন স্নাতক শ্রেণীতে। উত্তাল সেই যৌবন মুহূর্তে তার মনে হয়, দেশে পড়াশোনা শেষ করে লাখ লাখ যুবক বেকারত্বের জ্বালায় ভুগছে। হয়তো তার ভাগ্যেও রয়েছে একই পরিণতি। এই চিন্তা থেকেই ১৯৭৮ সালে তিনি পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান।


ওমানে এসে তিনি দু’আড়াই বছর চাকরি করেন। মেধাবী ও চটপটে এই তরুণ ভাবলেন চাকরিতে শুধু নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করা সম্ভব কিন্তু উদ্যোক্তা- ব্যবসায়ী হতে পারলে দেশে-বিদেশে প্রচুর মানুষের ভাগ্যের বদল করা সম্ভব হবে। এই চিন্তা থেকেই ১৯৮১ সালের দিকে তরুণ মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই শুরু। তার প্রতিষ্ঠিত ABROAD এবং Rashed Establishment দুটো প্রতিষ্ঠানই ওমানের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি সেখানে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন, রোড কনস্ট্রাকশন এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সাথে জড়িত।
এই ব্যক্তিত্ব মিয়া বয়সে প্রবীণ হলেও কর্মে এখনো তরুণ। তারুণ্যের উজ্জীবতায় মুখরিত মোহাম্মদ শাহজাহান শুধু কনস্ট্রাকশন ব্যবসা খাতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, আবাসন খাতের ব্যবসাতেও আত্মনিয়োগ করেছেন। তিনি মনে করেন, ব্যবসার মাধ্যমেও মানুষের উপকার করা যায়। তার মাধ্যমে অনেক প্রবাসী বিশেষ করে বাংলাদেশিরা ওমানে বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিক হতে পেরেছেন।
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়তই ভাবেন এই উদ্যমী মানুষটি। তিনি মনে করেন, প্রবাসে যত ভালোই থাকি না কেন আমাদের শেকড় বাংলাদেশে। আত্মীয়-পরিজন প্রতিবেশীদের অবস্থান বাংলাদেশে। নিজেদেরও জন্মভূমি বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রবাসীদেরও ভূমিকা থাকা উচিত। এজন্যেই তিনি ও তাদের পরিবার প্রবাসে অর্জিত অর্থ রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রেরণ করছেন।
এভাবেই দেশপ্রেমিক মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া, তার স্ত্রী শাহেদা নুর বেগম ও ভাইয়ের পরিবার অধিক রেমিট্যান্স প্রেরণ করায় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০১৬ সালে ‘সিআইপি’ নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক এ ধরনের একটি সম্মাননায় তিনি গর্বিত। তিনি বলেন, আমাদের পুরো পরিবার সিআইপি- এটি সত্যিই গর্ব করার মতো। বর্তমানে ওমানে প্রায় ৭ লাখ বাংলাদেশি কাজ করছেন।
উদ্যোগী, অধ্যবসায়ী ও কল্যাণ চিন্তার মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া বাংলাদেশের ব্যাংক ও বীমাখাতের সাথেও ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। তিনি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেডের স্পন্সর ডিরেক্টর। তিনি মনে করেন, এই ব্যাংকের মাধ্যমে শুধু দেশের অসংখ্য শিক্ষিত তরুণের কর্মসংস্থানই হয়নি, এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ধারায় ব্যাপক গতিশীলতা এসেছে, ব্যাংকিং বিনিয়োগের সহায়তা নিয়ে অনেক উদ্যোক্তার সৃষ্টি ও শিল্পায়ন হয়েছে। এতে ব্যাপক কর্মসংস্থান এবং উন্নয়ন অর্থনীতিতে এ ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের বীমা খাতেরও একজন উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব। তিনি বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের অল্টারনেটিভ ডিরেক্টর। তার স্ত্রী মিসেস শাহেদা নুর বেগম এর পরিচালক।
দেশ ও বিদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সফল তারকা মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন খাতের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের সাথে জড়িত। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম পোশাক শিল্প রাশাদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ, রাশাদ নিটিং এবং ডায়িং মিলস লিমিটেড, ফাস্ট লাইন অ্যাপারেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান। গভীর দেশপ্রেম ও দেশের মানুষের প্রতি মমত্ববোধ থেকেই তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছেন।


এই উদ্যোগী শিল্প ব্যক্তিত্ব দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন নিয়েও ভাবেন। তিনি মনে করেন, আমাদের দেশের রূপ সৌন্দর্য বিদেশিদের কাছে তুলে ধরতে পারলে এই পর্যটনের মাধ্যমেও প্রচুর আয় করা সম্ভব। এ জন্যে প্রয়োজন তাদের স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ অবস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এটি ভেবেই তিনি কক্সবাজারে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘Muscat holiday resorts’. এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপদ রিসোর্ট। দেশ- বিদেশের ভ্রমণপিয়াসি মানুষের কাছে এই রিসোর্ট ইতোমধ্যে গ্রহণযোগ্যতা লাভে সক্ষম হয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা তাদের আতিথেয়তায় মুগ্ধ।
সমুজ্জ্বল ও সরব ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া নিজ এলাকায় সড়কের পাশে এইচএন অটোমোবাইলস লি: নামে একটি সিএনজি স্টেশন নির্মাণ করেছেন। এছাড়া এ. হক ট্রেডার্স নামে একটি ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানেরও তিনি স্বত্বাধিকারী।
ব্যক্তি জীবনে অমায়িক ও বিনয়ী মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়ার দুই কন্যার একজন ডা. উম্মে হাবিবা এবং ছোট মেয়ে উম্মি সুমাইয়া কর্পোরেট ল’র ওপর ইংল্যান্ডে পিএইচডি করছেন।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার উচ্ছাসের শেষ নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নের সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে যাচ্ছে এর পেছনে প্রবাসীদের অবদান অনেক। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও প্রবাসীদের অনেক সম্মান দিচ্ছে- যা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তিনি জানান, ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ হলে বাংলাদেশ অতিদ্রুতই উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভে সক্ষম হবে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button