সংসদে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আহমেদ এমপি কোডার্সট্রাস্টের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আমরা মহা বিজয়ের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের মধ্য দিয়ে বিজয়ের এই ডিসেম্বর মাস অতিবাহিত করছি। এর মধ্যে আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশ নারীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার কাজে এবং কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের ১০০০ জন নারীকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে সার্টিফিকেট প্রদান করার যে মহৎ উদ্দেশ্য হাতে নিয়েছে এজন্য আমি খুব গর্বিত ও আনন্দিত। কারণ আমাদের দেশে নারীরা অবহেলিত এবং তারা কোনো কিছুর সুযোগ-সুবিধাই ঠিকমতো পায় না। এখন যে তারা দিনে দিনে উপরের সিঁড়িতে উঠছে এটা দেখে আমি গর্ববোধ করছি এবং সেজন্য তাদেরকে সাধুবাদ জানাই। তাদের কাছে আমার অনুরোধ, তারা যেন অন্য দিকে মনোনিবেশ না করে কাজের মধ্যে মনোনিবেশ করে ধাপে ধাপে একজন একজন করে উপরের দিকে উন্নীত হয়। তাদের কাছে আমি অনেক আশা রাখি, কারণ তাদের মতো করে এরকম সুযোগ-সুবিধা আমরা পাইনি। আমাদের সময়ে এরকম ডিজিটাল প্রযুক্তি ছিল না- সেজন্য আমরা কিছু জানতে পারিনি, বুঝতে পারিনি। ছোটদের প্রতি আমাদের বলা থাকল- তোমরা আরও অনেক বড়ো হও। নিজেদেরকে অন্য দিকে না টেনে তোমাদের যার যে কাজ সেই কাজের মাধ্যমে নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাও। যে যেই কাজ করবে সেই কাজটিকে কাজই মনে করবে তাহলে দেখবে ভবিষ্যতে তোমরা অনেক ভালো করবে।

শিরীন আহমেদ এমপি বলেন, আমরা কিন্তু আজকের এই জায়গায় এমনি এমনি আসিনি। কেউ এসেছি মেধার মাধ্যমে কেউবা এসেছি অনেক ত্যাগ স্বীকার করে। আমি নিজের মনোবল দিয়ে আজ এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি। আমার এখানে আসার জার্নিটা ছিল অনেক কষ্টের একটা জার্নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এই পদে যোগ্য মনে করেছেন আমার কর্মকান্ডের জন্যই; এজন্য আমি তাঁর কাছে চির কৃতজ্ঞ। আমার স্বামী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা; তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে ছিলেন এবং যতদিন বেঁচে ছিলেন তাঁর সঙ্গেই ছিলেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমি তাঁকে দেখেছি কিভাবে সত্যের পথে চলতে হয়, কিভাবে সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি কাজ সততার সঙ্গে করে গেছেন ১৯৭৫ সালে যখন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তখন তিনিই ছিলেন একমাত্র প্রতিবাদী পুরুষ যিনি দলবল নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে ময়দানে নেমে পড়েন। এবং তখন দুর্ভাগ্যবশত জিয়াউর রহমানের নির্দেশে সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি হন এবং তাঁকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। আমি তখন ২২ বছরের যুবতী এবং আমার তিনমাসের একটা বাচ্চা ছিল ঠিক সেই সময় থেকেই আমি পথে নামি।
শিরীন আহমেদ এমপি বলেন, আমি চাকুরি করি। দীর্ঘ বত্রিশটি বছর চাকুরি করেছি এবং ২০১৪ সালে যখন আমার স্বামী মারা যান তার পর প্রধানমন্ত্রী আমাকে এখানে এনে বসান। আমার এত কিছু বলার কারণ হলো কষ্ট করলে একসময় সুদিন আসবেই আর সেই সুদিনে বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের সকলকে ভালো রাখা যাবে, দেশকে ভালো রাখা যাবে। বাংলাদেশ এখন যে মডেলে তৈরি হচ্ছে তাতে করে আমাদের সাহায্য লাগবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একা কিছুই করতে পারবেন না। তিনি বলে দিয়েছেন- আমরা যার যার জায়গা থেকে যদি তাঁকে সাহায্য করি তাহলে আমরা একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।


