
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, উন্নয়ন অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমাদের এই বাংলাদেশ। আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি, একই সঙ্গে জাতির পিতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, আমাদের স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালন করছি। এই যে বৈশ্বিক একটা অতিমারি চলছে প্রায় পৌনে দু’বছর ধরে সেই অতিমারির সামনে দাঁড়িয়েও আমাদের উদযাপন, উন্নয়ন কোনোটাই থেমে নেই। আজকের এই অনুষ্ঠানও তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমার সামনে কয়েকশ’ নারী উপস্থিত আছেন এবং এই অতিমারির মধ্যেও তারা তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তারা হয়ে উঠেছেন তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য দক্ষ মানবশক্তি। কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে হাজারো নারীর দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ অনুুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
ডা. দীপু মনি বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়, কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করি ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের সেই কালরাত্রিতে ঘাতকের নির্মম বুলেটে নিহত বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদকে। স্মরণ করি এই হত্যাকান্ডে ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ কারা অভ্যন্তরে নৃশংসভাবে নিহত জাতীয় চার নেতাকে, স্মরণ করি একাত্তরের তিরিশ লক্ষ শহীদকে, লক্ষ লক্ষ ধর্ষিতা, নির্যাতিতা নারীকে এবং আমাদের ভাষা আন্দোলন থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের সকল অধিকার আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রামে আত্মাহুতি দিয়েছেন তাঁদের সকলকে।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, যে জাতির পিতার আজ জন্মশতবর্ষ আমরা পালন করছি, তিনি আমাদের স্বপ্ন দেখিয়ে গেছেন। তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তাঁর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তিনি আমাদের মুুক্তির স্বপ্ন দেখিয়ে গিয়েছিলেন, সেই মুক্তির পথে যখন আমরা হাঁটতে শুরু করেছিলাম, যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত একটা দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ঠিক তখনই তাঁকে সেই একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি এবং তাদের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের দোসরেরা নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করেছিল। কিন্তু আজকে বাংলাদেশ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আর যে পথে আমরা এগিয়ে চলেছি- সে পথটি পুরোটাই তাঁর দেখানো পথ আর সে পথে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন একটা অপ্রতিরোধ্য গতিতে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তাঁর হাত ধরেই আমাদের এই অগ্রযাত্রা। আমরা এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছি এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছি বলেই এই অতিমারির মধ্যেও আপনারা যেমন আপনাদের প্রশিক্ষণ চালিয়েছেন- আমরাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পড়াশোনাটাকে চালু রাখতে পেরেছি; বন্ধ হয়ে যায়নি। প্রশাসন চালু থেকেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য সব চলেছে, সে কারণেই পৃথিবীর তাবত বড় বড় দেশ, অনেক শক্তিশালী দেশ, অনেক ধনী দেশ তাদেরও যেখানে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক গতিতে চলেছে সেই জায়গায় আমাদের প্রবৃদ্ধি খুব ভালো আকারে চলেছে, এখনও চলছে আল্লাহর অশেষ রহমতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে আমাদের দেশের সকল মানুষের অন্তর্নিহিত যে একটা শক্তি আছে তা যে কোনো প্রতিকূলতাকে জয় করবার এই সবকিছুকে মিলিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে আমরা পরিচিতি পেয়েছি এবং সেজন্য দু’জন মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ আমরা, একজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরেকজন তাঁর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

ডা. দীপু মনি বলেন, সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আসছে তার সফল অংশীদার হওয়ার জন্য আমরাও পথ চলতে শুরু করেছি। আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে, কারণ এখন যে অবস্থায় আছি ঠিক সেই জায়গাটায় যদি দাঁড়িয়ে থাকি তাহলে কিন্তু চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সফল অংশীদার হতে পারবো না। এবং তার যে অনেক চ্যালেঞ্জ সেগুলো মোকাবিলা করতে পারবো না; তাই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আর আপনারা যে কাজটি করেছেন সেই কাজটি আমি মনে করি তা প্রস্তুতির একটি বড় অংশ। সেজন্য আমি কোডার্স-ট্রাস্টকে আবারও ধন্যবাদ জানাই। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের এই যে ডিজিটাল বাংলাদেশ, এই যে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির দিকে পথ চলা, এই যে পথ চলা- এর ভাইটাল বীজটাও কিন্তÍ বপন করে গিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির দিকে তাঁর খুব মনোযোগ ছিল। এবং তিনিই প্রথম স্বাধীনতার পরে আমাদের শিক্ষার কথাই বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে- শিক্ষা উন্নয়নের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, দেশ গড়বার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। এবং তিনি কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন করেছিলেন, সেই শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট যদি দেখি কীভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপরে কি ভীষণ জোর দেয়া হয়েছিল সেখানে এবং তিনি সুদূরপ্রসারী নানান পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন। ’৭৩ সালেই আন্তর্জাতিক যে টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) আছে তার সদস্যপদ লাভ করেছিল বাংলাদেশ। এবং এই আইটিইউ স্যাটেলাইট অরবিট বা ফ্রিকুয়েন্সি বরাদ্দ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিধিমালা তৈরি করে এবং এর বরাদ্দে সহযোগিতা দেয়া ও সমন্বয়ের কাজটি করে। ১৯৭৫ সালের জুন মাসে বঙ্গবন্ধু বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রও করে গিয়েছিলেন। আজকে আমরা দেখি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, কাজেই তার ভিত্তি বঙ্গবন্ধুর হাতেই তৈরি। এরকম করে বহু কিছুর, আজকে আমরা যত উন্নয়ন দেখি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়- তার ভিত্তি কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সময়কার হাতে তৈরি।
ডা. দীপু মনি বলেন, নারী-পুরুষের সম-অধিকার কিন্তু বঙ্গবন্ধুই সংবিধানে সন্নিবেশিত করে গিয়েছিলেন। সেখানে হয়তো নারীদের অনেক প্রতিকূলতা আছে, অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে; কিন্তু নারীদেরকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। বঙ্গবন্ধু বলে গেছেন- কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। নারীদেরকে দরজার বাইরে যতই রাখা হোক- নারীরা তাদের জায়গা নেবেই; কারণ নারীদের সেই দক্ষতা আছে, সেই যোগ্যতা আছে এবং দেশ গড়বার জন্য সেই ভালোবাসাটাও আছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নারীদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য পুরুষদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ নারীরা চায় না কাউকে ফেলে এগিয়ে যেতে; নারীরা চায় সবাইকে সাথে নিয়ে অগ্রগামী হতে। কাজেই নারীরা এগিয়ে গেলে পুরুষদের কোনো ভয় নেই। নারীরা যদি এগিয়ে আসে তাহলে পুরুষ এবং নারী উভয়েরই প্রাপ্তির পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে- সেটা আমাদের বুঝতে হবে। সেজন্য নারীকে এগিয়ে দিতেই হবে। নারী পিছনে থাকলে সবার ক্ষতি, পুরুষের ক্ষতি সেটা যেন পুরুষেরা সবাই বোঝে। তিনি বলেন, এইসময়ে স্যাটেলাইট উৎক্ষপণের মাধ্যমে আমরা মহাকাশ কমিউনিটির গর্বিত সদস্য হয়েছি; যার সুফলও সবাই উপভোগ করছি। কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশ- এর কৃতী উদ্যোক্তা আজিজ আহমেদ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বৃক্ষ তোমার নাম কি- ফলে পরিচয়। ঠিক তেমনি এক মানুষ আজিজ আহমদ- একজন প্রাইমারি স্কুল শিক্ষকের সন্তান হয়ে অনেক বড়ো স্বপ্ন নিয়ে বড়ো হয়েছেন, কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছেন সেখানে ভালো জায়গায় পড়ালেখা করেছেন নিজের একটা জায়গা তৈরি করেছেন। তিনি অনেক কিছু শিখেছেন- দক্ষ হয়েছেন, কাজ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নিজের অবস্থান তৈরি করে থেমে থাকেননি; বিশ্বের অনেক বড়ো বড়ো জায়গায় নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন কাজ করে গেছেন। এই মানুষটি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান; তিনি তাঁর দেশকে প্রচুর ভালোবাসেন। এই ভালোবাসা শুধু ভালোবাসছি বলে নয়, কাজেও করে দেখিয়েছেন। কোডার্স-ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার পরে সেটাকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন। ২০২২ সালের মধ্যে দু’লক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরি করার আশা ব্যক্ত করেছেন আজিজ আহমদ।
ডা. দীপু মনি বলেন, ২০২২ সালের মধ্যে দু’লক্ষ মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ করবে কোডার্সট্রাস্ট। এবং আশা করছি, জনাব আজিজ আহমেদ তার কথা রাখবেন। দু’লাখ কেন? হয়তো এটা আরো বেশি হবে। তিনি কথা কম বলেন কিন্তু কাজের বেলায় করে দেখান। কোডার্সট্রাস্ট-এর মাধ্যমে যে পরিবর্তন, পরিবর্ধন হয়েছে তা নিজেদের জীবন দিয়েই আমরা উপলব্ধি করতে পারছি। আমরা মুগ্ধ হই দেখে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রণয়নে কোডার্সট্রাস্ট অনেক তরুণ-তরুণীকে দক্ষ করে গড়ে তুলছে এবং আমাদেরকে এগিয়ে যাওয়ার পথে এত অবদান রাখছে। ডা. দীপু মনি বলেন আমরা মনে করি, আমাদের শিক্ষার একটি বড়ো পরিবর্তন হচ্ছে এবং এই পরিবর্তনের হওয়া দরকার; কারণ আমাদের শিক্ষার্থীরা এখন যা শিখছে এখনতো পরিবর্তনের যুগ তাই কয়েক বছর পরে তা হয়তো কাজে লাগবে না। এখন যে কাজগুলো আছে তা পরবর্তী সময়ে থাকবে না- এটা যেমন নতুন চ্যালেঞ্জ কিন্তু এতে অনেক নতুন ধরনের কাজের সুযোগ আসবে এটা অনেক বড় সম্ভাবনা। তাহলে আমরা কি সংকটের কথা ভেবে দমে থাকবো! নাকি সম্ভাবনার কথা ভেবে এগিয়ে যাব?
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি- এই বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ- সম্ভাবনার কথা ভেবেই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে দৃপ্ত পায়ে। তাহলেই আমাদের এগিয়ে যাওয়াটা সফল হবে। এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যত টেকনোলজি আছে সেগুলোকে আমাদের আয়ত্ত করতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, আমরা দেখি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়, উচ্চশিক্ষার মাঝে সকলের ঝোঁক। সবাই শুধু অনার্স-মাস্টার্স পড়তে চায়; কিন্তু আমাদের যে চাকুরির বাজার- সে বাজারে কি এত অনার্স মাস্টার্স পড়–য়া শিক্ষার্থীদের চাকরি দেয়ার সুযোগ আছে? সে দেশে হোক কিংবা বিদেশে, অনার্স-মাস্টার্স যারা করছে তাদের কিন্তু চাকরির সুযোগ সেভাবে নেই এবং সে কারণেই অনেকের মধ্যে হতাশা আসে। অনার্স-মাস্টার্সের একটা ডিগ্রি সার্টিফিকেট নিয়ে কিন্তু তারা বাবা যে ক্ষেতে কাজ করেন সেখানে বাবার সঙ্গে হাল ধরতে পারবে না, বাবা মুদি দোকানে কাজ করেন বাবার মুদির দোকানেও বসতে পারে না। অন্য যে কোনো একটা কাজ করতে গেলে সামাজিক যে আমাদের চিন্তা-ভাবনা, মন-মানসিকতা তাতে যে কাজগুলোকে আমরা বলি ছোটখাটো কাজ; এই তথাকথিত ছোট কাজ করতে আমাদের মন সায় দেয় না- তাই এই মানসিকতার জন্য তারা তখন বেকার থেকে যান। আমি কি এই শিক্ষিত সার্টিফিকেটধারী বেকার তৈরি করব নাকি দক্ষ মানুষ তৈরি করব- যারা নিজের জন্য যেমন কর্মসংস্থান করতে পারবে উদ্যোক্তা হতে পারবে অন্য লোকের জন্যও চাকুরির ব্যবস্থা করবে। সেটাই তো আমাদের দরকার। শিক্ষামন্ত্রী বলেন বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আমাদের প্রায়ই বলেন- চাকুরি খুঁজবে কেন, তুমি অন্য লোকের জন্য চাকুরির ব্যবস্থা করবে।

ডা. দীপু মনি আশা প্রকাশ করে বলেন, কোডার্সট্রাস্ট যে কাজটি করছে তাতে আমাদের অনেক উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে এবং তারা কারো কাছে চাকুরি খুঁজবে না বরং তারা একসময় চাকুরি দেবে। সাফল্য আমরা এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই আমাদের শিক্ষার্থীদের যাতে তারা দেশ-বিদেশে নানান রকমের কাজ করতে পারে। আমাদের কারিগরি শিক্ষার্থীরা যারা বের হন তারা কিন্তু কেউ বেকার থাকেন না। কারিগরি শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে অনেকের ধারণা- তারা হয়তো অতটা মেধাবী না। কারিগরি শিক্ষায় পড়ে আমি যদি সেই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান করতে পারি এবং ভালো আয় রোজগার করতে পারি, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি তাহলে তাকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই। এবং আমাদের দেশ কেন সারা বিশ্বে শুধু কারিগরি শিক্ষার জয়-জয়কার। তাহলে আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। ডা. দীপু মনি বলেনবাবা-মায়েরা নিজেদের ইচ্ছাটা সন্তানের উপর চাপিয়ে দেন। তারা মনে করেন, আমি ডাক্তার হতে পারিনি আমার সন্তানের তো ডাক্তার হতেই হবে। এটা মনে আনতে হবে যে- সন্তানের যে দক্ষতা, যোগ্যতা অর্জন করার সামর্থ্য রয়েছে তাকে সেই অনুযায়ী, তার সামর্থ্য অনুযায়ী যাতে সবচেয়ে ভালো করতে পারে সেজন্য আমরা যেন তাকে সহযোগিতা করি। কর্মের জগতে যে চাহিদা তার জন্য যেন আমাদের সন্তানকে তৈরি করবার চেষ্টা করি। সবচেয়ে বড় কথা- সে যেন একজন ভালো মানুষ হয়, তার যেন মানবতাবোধ থাকে, মানবিকতাবোধ থাকে, মূল্যবোধগুলো থাকে, পরমত-সহিষ্ণুতা থাকে, মানুষের প্রতি সহমর্মী হয়। এই বিষয়গুলো আমরা খুব বেশি আমলে নেই না বলেই সমাজে হয়তো এত অস্থিরতা। কাজেই আমাদের অনেক কিছু ভাববার আছে, ভাবনার জগতে অনেক পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে। আমি আশা করি, সেই জায়গাগুলো আমরা ঠিক করতে পারব।
ডা. দীপু মনি বলেন, নারীদের উন্নয়নের উপর বিনিয়োগ করার কথা সারাবিশ্ব বহুদিন থেকে বলছে, এটা নতুন নয়। বহুদিন থেকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন- নারীদের শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের উপর বিনিয়োগ হচ্ছে সবচেয়ে স্মার্ট বিনিয়োগ। নারীর ওপর ১ ডলার বিনিয়োগ করলে ৯ ডলার ফেরত আসে। পুরুষদের চেয়ে নারীর শিক্ষার ওপরে বিনিয়োগ করলে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ ফেরত আসে। নারীর শিক্ষার উপর যে বিনিয়োগটা হয় সেটা সফল। সেটা পরিবারের সবার কাছে যায়, সমাজে যায়; আর পুরুষের কাছে যেটা যায় অধিকাংশ সময়ে শুধু ওই পুরুষেই থেকে যায়। ওটার খুব বেশি বাইরে যায় না আর সে কারণে নারীর উপর বিনিয়োগ স্মার্ট বিনিয়োগ।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের স্মার্ট বিনিয়োগকারী আজিজ আহমেদ সেই স্মার্ট বিনিয়োগ করেছেন। তিনি নারীর উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছেন। তাঁর এই যে কাজ নারীর দক্ষতা উন্নয়নে যে কাজটা করেছেন দেশের জন্য এটা একটা বিরাট বড় কাজ। আমাদের দেশটা একেবারে তরুণদের একটা দেশ। দেশের ৬৫ ভাগ মানুষ ৩৫ বছরের নিচে, এদের মধ্যে অর্ধেকই নারী। কাজেই এইরকম প্রশিক্ষণ আমাদের খুব আশাবাদী করে তুলছে। এখানে কেউ গৃহকর্ত্রী ছিলেন, কেউ বেকার ছিলেন কিছু করছিলেন না; কিন্তু এখন সবাই আইটির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন, সংসারের হাল ধরেছেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেউ কেউ আয় করা শুরু করেছেন। তাদের কেউ শহরে থাকতেন- কেউ গ্রামে থাকতেন, কেউ প্রান্তিক, কেউ কেন্দ্রের মানুষ, কেউ অসুস্থ কেউবা আবার ভিন্নভাবে সক্ষম। কিন্তু প্রযুক্তি তাদের মধ্যে নানান রকম বৈষম্য দূর করে দিয়েছে, তাদের সবাইকে একটা জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে। কাজেই প্রযুক্তি আমাদের বৈষম্য দূর করার একটি বড় হাতিয়ার। সেজন্যই বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা প্রযুক্তিকে আমাদের জীবনের সবক্ষেত্রে নিয়ে আসতে চান; কারণ তিনি তাঁর পিতার স্বপ্নের সেই বৈষম্যহীন একটা সমাজ গড়তে চান।
ডা. দীপু মনি বলেন, আজকে কম্পিউটারের পেছনে বসা মানুষটি সে কি নারী না পুরুষ, শহরের না গ্রামের, বিত্তবান না গরিব- এটা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। সে কারণেই প্রযুক্তিতে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রযুক্তির সঙ্গে আমাদের চলতে হবে, প্রযুক্তির সঙ্গে থাকতে হবে।

ডা. দীপু মনি বলেন, এই বাংলাদেশ সম্ভাবনার বাংলাদেশ, এই যে সম্ভাবনার চিত্র এই চিত্রকে আমাদের সামনে আরও স্পষ্ট করে তুলতে পারে কোডার্সট্রাস্টের মতো প্রতিষ্ঠান। এই গুরুত্বপূর্ণ অবদান যে তারা রাখছেন তাই তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় যাতে মেলে, তাদের যোগ্য সম্মান যাতে মেলে, যোগ্য সম্মানী যাতে মেলে এই কথাগুলো কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা প্রায়শই বলতে শুনি। নারীদের পাশে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আছেন- তাই নারীদের নিশ্চয়ই কোনো ভাবনা নেই। নারীরা এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ; কেউ নারীদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।


