নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে ঝুঁকি বেশি : প্রতিমন্ত্রী
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের ঝুঁকি বেশি জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, এ অবস্থা নিরসনে সম্মিলিত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া আবশ্যক। গত ৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক এনার্জি চার্টার সেক্রেটারিয়েটের উদ্যোগে আয়োজিত বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ‘এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট-২০২১’ প্রকাশ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
নসরুল হামিদ বলেন, বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তির সমবণ্টন নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে কার্যকরী অবদান রাখবে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বড় আকারের বিদ্যুৎকেন্দ্র করা দুরূহ। তাই উন্নত প্রযুক্তি অন্বেষণে ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু জমি বেশি লাগে বিধায় সৌরবিদ্যুতের জন্য উদ্ভাবনী সমাধান প্রয়োজন। যদিও আমরা ছাদে সৌর এবং ভাসমান সৌর বিদ্যুতের দিকে এগোচ্ছি। ছাদ সৌরবিদ্যুতকে জনপ্রিয় করার জন্য নেট মিটারিং সিস্টেম প্রবর্তন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক এনার্জি চার্টার সেক্রেটারিয়েটের মহাসচিব আরবান রুশনাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইয়েমেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী আনোয়ার মোহাম্মাদ কালশত, কলম্বিয়ার খনি ও জ্বালানিমন্ত্রী ডিয়েগো মেসা, দক্ষিণ সুদানের জ্বালানি ও বাঁধমন্ত্রী পিটার মার্সেলো নাসির জেলেঞ্জ ও নাইজেরিয়ার বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি মন্ত্রী ক্রিস্টোফার ওগবোনায়া ওনু সংযুক্ত থেকে বক্তব্য রাখেন।
অর্থকণ্ঠ ডেস্ক
জলবায়ু পরিবর্তনে দেশে সংক্রামক রোগস বাড়ছে: বিশ্বব্যাংক
নে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দেশে সংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে এটি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের এ ধারা অব্যাহত থাকলে আরও বেশি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরে যারা বসবাস করছেন, তাদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে থাকবে। গত ৭ অক্টোবর বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৪০ বছরের মধ্যে শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রীষ্মকাল প্রলম্বিত হওয়াসহ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া শীতকালে গরম এবং বর্ষাকাল ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এর ফলে দেশে বিভিন্ন ঋতুর বৈচিত্র্য অস্পষ্ট হচ্ছে। আর আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে বলে প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ বাণী করা হয়েছে।
২০১৯ সালে খেয়ালী আবহাওয়ার কারণে ঢাকা শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ৭৭ শতাংশই রাজধানী ঢাকায়। ওই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অন্যান্য বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় তিনগুণ বেশি বৃষ্টিপাত হয়। মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বিরাজ করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব পড়ছে। শীতকালে বেশি সংখ্যক মানুষ অবসাদজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বৃদ্ধির ফলে অস্থিরতাজনিত মানসিক রোগ বাড়ছে। মেয়েদের মধ্যে অবসাদ এবং ছেলেদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকির শীর্ষ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর একটি হলেও এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে সহনশীলতা এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা রোগব্যাধি সংক্রমণ প্রতিরোধে বাংলাদেশকে শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড় তোলার পরিকল্পনা করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অর্থকণ্ঠ ডেস্ক


